এনসিপি মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ © টিডিসি
জুলাই সনদ নিয়ে বিএনপি ডুয়েল গেম খেলছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেছেন, বিএনপির যারা আইনজীবি হিসেবে পরিচিত তারা জুলাই সনদের বিরুদ্ধে সাবমিশন দিয়েছেন । আমরা মনে করছি যে বিএনপি এক ধরনের ষড়যন্ত্রমূলকভাবে জুলাই সনদকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য, জুলাই সনদে যে বিষয়গুলো আছে সেগুলো বাস্তবায়ন করার ক্ষেত্রে এক ধরনের স্বেচ্ছাচারিতা করার জন্য আদালতে গিয়েছেন এবং এক ধরনের ডুয়েল গেম তারা খেলেছেন। আজ সোমবার (২ মার্চ) রাজধানীর বাংলা মোটরে এনসিপি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
এসময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আমরা দেখেছি যে বিভিন্ন সময়ে জনগণের বিরুদ্ধে কোন সিদ্ধান্ত নিতে গেলে আদালতকে ব্যবহার করা হয়। জনগণকে আদালতের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়। আমাদেরকে গণভুত্থানের পূর্বে কোটা সংস্কার আন্দোলন যখন আমরা শুরু করি সেটাও একিই প্রেক্ষাপটের মধ্য দিয়েই হয়েছিল। আমরা আজকে দেখলাম যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন, তিনি জেনেছেন যে আজ শুনানি হচ্ছে। তো উনার জানার মধ্যে এক ধরনের সন্দেহের উদ্বেগ করেছে, আসলে উনি জেনেছেন নাকি ওনারাই করিয়েছেন।
বিএনপি সিলেক্টিভ সংস্কারের বিষয়ে কথা বলছে দাবি করে তিনি বলেন, আমরা দেখছি যে সংসদের ডেপুটি স্পিকারের বিষয়ে কথা বলছেন অথচ ঐক্যমত কমিশনে ঐক্যমত হয়েছিল সবগুলো বিষয়ে আমরা একটা জায়গায় এসেছিলাম এবং গণভোটের মাধ্যমে জনগণের লেজিটিমেসি নেওয়া হয়েছিল সেটার পক্ষে। জুলাই সনদ জনরায়ের প্রেক্ষিতে, হ্যাঁ ভোট বিজয়ী হওয়ার মধ্য দিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এখন এই সরকারের জন্য বাধ্যতামূলক। যদি মাননীয় আদালতে এই জিনিসটা চ্যালেঞ্জ করার মাধ্যমে বিএনপি নিজের সরকারকেই চ্যালেঞ্জ করল বলে আমরা মনে করছি। কারণ এই একই সনদরে ভিত্তিতে কিন্তু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সকল সংসদ সদস্যকে সংস্কার পরিষদের শপথ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এখনো অধিবেশনের আরো কিছুদিন সময় বাকি আছে। আমরা আহবান জানাবো, সরকারি দলের সংসদ সদস্য যারা আছেন আপনারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নিন। এই শপথটা যদি আপনারা না নেন তাহলে যে আদেশের ভিত্তিতে নির্বাচন হয়েছে, সেই আদেশের লংঘন হয়। এর মধ্য দিয়ে একটা বড় আইনি জটিলতা তৈরি হয় এবং কোথায় গিয়ে ঠেকবে সেটা এখনো আসলে পরিষ্কার না।
তিনি আরও বলেন, আমরা একটা সুষ্ঠু, গণতান্ত্রিক এবং নিষ্কন্ঠন গণতান্ত্রিক উত্তরণ এবং যাত্রা চাই। আগামী বাংলাদেশে সেটা করার জন্য আমাদেরকেও সহযোগিতা করতে হবে। সরকারকে, সরকারি দলকেও সেক্ষেত্রে এগিয়ে আসতে হবে। আমরা দেখছি যে শুধুমাত্র আদালতে যাওয়া এবং সিলেক্টিভ সংস্কার নয়, সংবিধান সংস্কারটাকে এক ধরনের সংশোধনের মধ্যে নিয়ে আসার মাধ্যমে বাহত্তরের সংবিধানকে রক্ষা করার এক ধরনের পায়তারা বর্তমান সরকার করছে ।
এসময় রাষ্ট্রপতি ইস্যুতে তিনি বলেন, বিভিন্ন কারণ, বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে ,সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার কথা বলে, স্থীতিশীলতার কথা বলে শেখ হাসিনার উছিষ্ট রাষ্ট্রপতিকে বিগত সময়ে রেখে দেওয়া হয়েছে। এক ধরনের রাজনৈতিক চাপ আমরা দেখেছি। রাষ্ট্রপতির একটা বক্তব্যে আমরা দেখলাম যে সেখানে তিনি স্পষ্টই বলছেন যে যখন তার অবসরের প্রক্রিয়া শুরু হয় তখন বিএনপির উচ্চ পর্যায় থেকে তাকে রক্ষা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রপতি একটা বক্তব্য বলেছিলেন যে হাসিনার পায়ের ধুলা তিনি পাচ্ছিলেন না। হাসিনার পায়ের ধুলা পাওয়া ব্যক্তিকে এখন বিএনপি তাদের রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে যদি রাখে এবং এই সরকার যদি রাখে এবং এই সংসদ সদস্যরা যদি এর বিরুদ্ধে কোন প্রতিবাদ না করে এটা অত্যন্ত লজ্জাজনক হবে। এই সংসদে যারা গিয়েছেন, যে দল থেকে গিয়েছেন, যার যার জায়গা থেকে এই সংসদের পবিত্রতা রক্ষার জন্যই প্রথম অধিবেশনেই রাষ্ট্রপতিকে অভিসংশন করার প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। কোনভাবেই এই সংসদ রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শুরু হতে পারে না।