হাসপাতালে ভর্তি এনসিপি নেত্রী ডা. মাহমুদা মিতু

২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৩৭ PM
এনসিপি নেত্রী ডা. মাহমুদা মিতু

এনসিপি নেত্রী ডা. মাহমুদা মিতু © টিডিসি

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী ডা. মাহমুদা মিতু ফুসফুসের সংক্রমণসহ আরও কিছু জটিলতার কারণে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর আগে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি তার জরুরি অস্ত্রপচার করা হয়। আজ শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ডা. মাহমুদা মিতুর ভেরিফায়েড আইডি থেকে এক পোস্টে তার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন স্বামী মাহবুবুর রহমান।

মাহবুবুর রহমান জানিয়েছেন, ডা. মাহমুদা মিতু সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়ার পর পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি জানানোর পরিকল্পনা ছিলো। তবে গত কয়েকদিন তার অনলাইনে অনুপস্থিতি দেখে শুভাকাঙ্ক্ষীদের শত শত কল ও বার্তা এবং এনসিপি’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিভিন্ন স্থান থেকে নেতাকর্মীদের উদ্বিগ্ন যোগাযোগের কারণে বিষয়টি জানানোর প্রয়োজন মনে করছিলেন তিনি। 

পোস্টে তিনি লেখেন, আমার স্ত্রী ডা. মাহমুদা মিতুর গত ২৩ তারিখ হঠাৎ গাইনোকোলজিকাল এমারজেন্সি দেখা দেওয়ায় জরুরি অপারেশন করতে হয়েছে। অপারেশনের পূর্বে তিনি প্রায় শক অবস্থায় ছিলেন এবং পেটের ভিতরে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণজনিত জটিলতা তৈরি হয়েছিল। অনেকেই দৌড়ে এসে রক্ত দিয়ে গেছেন। আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা। আপনাদের সহায়তা ,আল্লাহর অশেষ রহমত এবং চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টায় সেই কঠিন সংকট সামাল দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

অপারেশনের পর কিছু জটিলতা দেখা দেয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমানে অপারেশনজনিত সমস্যা না থাকলেও পোস্ট-অপারেটিভ ফুসফুসের সংক্রমণসহ আরও কিছু জটিলতার কারণে তিনি এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। সেপটিসেমিয়ার ফিচারসহ, ডি ডাইমার, লিভার এঞ্জাইম, সি আর পি, ডব্লিউবিসি সব প্যারামিটার রেইজসড সাথে নিউট্রোফিলিয়া। নতুন করে  হাই ডায়বেটিক (অন ইন্সুলিন ) অবস্থায় আছে।  অক্সিজেন সাপোর্ট ছাড়া তার এখনো স্যাচুরেশন ফল করছে তবে যেগুলো বেশি ছিলো সেগুলো এখন কমে আসছে আজকে শুধু ডব্লিউবিসি বেড়েছে। এই সকল প্যারামিটার রেইজ যেহেতু এবং বর্তমানে তার ফুসফুস আক্রান্ত, তাই আপাতত কোনো ভিজিটর অনুমোদন করা হচ্ছে না বিষয়টি সবাই সহানুভূতির সাথে গ্রহণ করবেন বলে আশা করছি।

ডা, মিতুকে আইসিইউতে স্থানান্তরের পরিকল্পনাও করা হয়েছিল জানিয়ে তিনি লেখেন, দুই দিন আগে তাকে আইসিইউতে স্থানান্তরের পরিকল্পনাও করা হয়েছিল। আল্লাহর অশেষ রহমত এবং চিকিৎসকদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় আমরা আপাতত সেই কঠিন সময় অতিক্রম করতে পেরেছি, তবে এখনও পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত নন। চিকিৎসকরা ধারণা করছেন আরও ৪/৫ দিন সময় লাগতে পারে। অনেকে হাসপাতালের ঠিকানা জানতে চেয়েছেন। তিনি পাশ করার পর প্রায় ৯ বছর যে গাইনি ক্লিনিকে কাজ করেছেন, সেটিকেই তিনি নিজের দ্বিতীয় ঘর মনে করেন। আমি ঢাকা মেডিকেলে ডিউটিরত থাকার সময়ও তিনি নিজ সিদ্ধান্তে সেখানে ভর্তি হয়েছেন। তার কমফোর্ট জোন বিবেচনায় আমরা তাকে সেখানেই রেখেছি। 

দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়ে তিনি লেখেন, গত ২২ -২৩ তারিখ থেকেই তিনি অনেক বেশি শারিরীক কষ্ট পেয়েছেন। আমি দেশবাসীর কাছে আমার স্ত্রীর জন্য আন্তরিক দোয়া প্রার্থনা করছি। তার কথা বা অবস্থানের কারণে যদি কেউ কোনোভাবে কষ্ট পেয়ে থাকেন, তাহলে নিজ গুণে ক্ষমা করে দেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।আমার বাচ্চারা, আমরা ব্যক্তিগত ও পারিবারিকভাবে এই মুহূর্তে কিছুটা ভঙ্গুর অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। পবিত্র রমযান মাসের বরকতময় সময়ে আপনাদের আন্তরিক দোয়ার উছিলায় মহান আল্লাহ তাআলা যেন তাকে দ্রুত পূর্ণ সুস্থতা দান করেন এই কামনাই করছি। আপনাদের কাছে বিনীত অনুরোধ, তার নাম মনে পড়লেই  নাম ধরে আল্লাহর কাছে দোয়া করবেন। আপনাদের দোয়া, ভালোবাসা ও সমর্থন আমাদের জন্য অনেক বড় শক্তি। মহান রাব্বুল আলামিন আপনাদের অন্তরে তার জন্য যে ভালোবাসা ও সম্মান সৃষ্টি করেছেন, সেই ভালোবাসা ও দোয়াতেই তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসবেন এবং আপনাদের আশানুরূপ স্থানে আমরা অতি দ্রুতই তার কন্ঠস্বর শুনতে পাবো ইনশাআল্লাহ।

ইরানের গার্লস স্কুলে ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮৫
  • ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ঢাবির সমাজকল্যাণ ইন্সটিটিউটের নির্বাচিত সাংসদদের সংবর্ধনা প…
  • ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
‘মধ্যবিত্ত-উচ্চবিত্তরাও পাবে ফ্যামিলি কার্ড’
  • ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ঝুলে যাচ্ছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি
  • ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মাদক নিয়ন্ত্রণ নাকি নির্মূলের অভিযান বনাম বাস্তবতা
  • ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগে স্বামী আটক
  • ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬