৭৪ জন বিশিষ্ট নাগরিকের বিবৃতি © টিডিসি সম্পাদিত ছবি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলের বিদ্যমান ‘সান্ধ্য আইন’ বা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হলে প্রবেশের বাধ্যবাধকতা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক, লেখক, সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী, শিল্পীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ৭৪ জন বিশিষ্ট নাগরিক।
সোমবার (১৭ আগস্ট) এক বিবৃতিতে তাঁরা বলেন, নিরাপত্তার অজুহাতে নারী শিক্ষার্থীদের চলাফেরার স্বাধীনতা সীমিত করা বৈষম্যমূলক। নিরাপত্তাঝুঁকি থাকলে রাষ্ট্রের দায়িত্ব নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধের দ্রুত বিচার করা; নারীদের ঘরে আটকে রাখা নয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, টিউশনি শেষে দেরিতে হলে ফেরা কিংবা রাতে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে যাওয়ার ক্ষেত্রেও সান্ধ্য আইন ছাত্রীদের নানা সমস্যায় ফেলে। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে যে শিক্ষার্থীরা সান্ধ্য আইন ভেঙে রাজপথে নেমেছিলেন, তাঁদেরই এখন এ বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে হচ্ছে।
স্বাক্ষরকারীরা বলেন, শুধু নারী হওয়ার ভিত্তিতে চলাফেরায় বিধিনিষেধ আরোপ করা হলে বৈষম্যের প্রশ্ন ওঠে। রাতে বাইরে থাকা নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হলে রাতের জনপরিসর কীভাবে নিরাপদ করা যায়, সে প্রশ্ন তোলার আহ্বান জানান তাঁরা।
বিবৃতিতে ১৯৭৩ সালের বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশের কথা উল্লেখ করে ছাত্রী হলের সান্ধ্য আইন বাতিলের আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানানো হয়।
বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন অর্থনীতিবিদ ও লেখক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, লেখক ও অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান, আলোকচিত্রী ও মানবাধিকারকর্মী শহীদুল আলম, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোশাহিদা সুলতানা, শিল্পী সায়ান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র উমামা ফাতেমা, লেখক ও গবেষক পাভেল পার্থ এবং আইনজীবী মানজুর আল মতিনসহ ৭৪ জন বিশিষ্ট নাগরিক।