সিপিবি © সংগৃহীত
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) বলেছে, সরকারের ব্যর্থতায় সাধারণ মানুষের জন্য ‘বিভীষিকাময়’ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ ও ন্যূনতম স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে সরকারের নির্মোহ আত্মমূল্যায়ন জরুরি বলেও মন্তব্য করেছে দলটি।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে সিপিবির সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন এসব কথা বলেন। বিবৃতিটিতে স্বাক্ষর করেছেন মঞ্জুর মঈন।
বিবৃতিতে সিপিবি নেতারা বলেন, সংঘবদ্ধ হামলা, লুটপাট, দখল, ভাঙচুর ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ, ডাকাতি ও ছিনতাইসহ প্রতিটি ঘটনার স্বচ্ছ ও দ্রুত তদন্ত এবং বিচার নিশ্চিত করতে হবে। এসব অপকর্মে ক্ষমতাসীন দলের কেউ জড়িত থাকলে তাদের আগে শাস্তির আওতায় এনে সরকারকে আন্তরিকতার প্রমাণ দিতে হবে।
তারা অভিযোগ করেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্য দিবালোকে কিংবা রাতের আঁধারে সংঘবদ্ধ হামলা, লুটপাট, দখল ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনায় সরকারদলীয় ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নামও আসছে। অন্যদিকে রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে চলমান সভায় সরকারদলীয় লোকজন দলবদ্ধ হয়ে হামলা চালাচ্ছে। পুলিশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পরিবর্তে তাদের সঙ্গে মিলে ‘নিষিদ্ধ দলের কর্মী’ অপবাদ দিয়ে গণহারে মানুষকে আটক করছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
বিবৃতিতে মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে গভীর রাতে সংঘবদ্ধ হামলা, লুটপাট এবং ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়। সিপিবির দাবি, এ ঘটনায় বিএনপির একজন সংসদ সদস্যের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটি মিরপুরের নিম্নআয়ের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা, মাতৃসেবা ও শিশুদের টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। সংবাদপত্রে প্রকাশিত বিভিন্ন তথ্যের বরাত দিয়ে সিপিবি অভিযোগ করে, পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে হামলাকারীদের সহযোগিতা করেছে অথবা নীরব সমর্থন দিয়েছে।
অন্যদিকে রাজধানীর গুলিস্তানে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলটির প্রতিনিধি সভা থেকে পুলিশ অভিযান চালিয়ে সারা দেশ থেকে আসা অন্তত ২৮৯ জনকে আটক করেছে বলেও বিবৃতিতে দাবি করা হয়। সিপিবি বলেছে, জাসদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ নয় এবং প্রতিনিধি সভার বিষয়েও পুলিশ অবগত ছিল। এরপরও আটক ব্যক্তিদের নিষিদ্ধ দলের নেতা-কর্মী ও নাশকতার পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত করে গণগ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় যুবদলের ভূমিকা ও পুলিশের কর্মকাণ্ডকে ‘উদ্বেগজনক ও নিন্দনীয়’ বলে মন্তব্য করেছে দলটি।
সিপিবি নেতারা বলেন, সুনির্দিষ্ট ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত নন—এমন কোনো ব্যক্তিকে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়া দেশের ভবিষ্যৎ ও গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর। কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ড নিয়ে আইনগত অভিযোগ থাকলে আইনি প্রক্রিয়ায় তা নিষ্পত্তি করতে হবে। রাজনৈতিক অপরাধে কেউ জড়িত থাকলে তাকে রাজনৈতিকভাবেও মোকাবিলা করা যেতে পারে। তবে রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে হামলা, গণহারে আটক কিংবা রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে হয়রানি গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য বিপজ্জনক।
বিবৃতিতে রাজনৈতিক মতপ্রকাশ, সংগঠন এবং সভা-সমাবেশের অধিকার সংবিধান ও আইনের কাঠামোর মধ্যে সবার জন্য সমানভাবে নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। রাষ্ট্রকে একই মানদণ্ডে সবার নিরাপত্তা, নাগরিক অধিকার ও রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন সিপিবির নেতারা।