প্রতিষ্ঠার এক বছরে রাজনীতিতে কতটা বিকল্প শক্তি হয়ে উঠল এনসিপি?

২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৫২ AM
জাতীয় নাগরিক পার্টির আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠান

জাতীয় নাগরিক পার্টির আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠান © টিডিসি সম্পাদিত

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া একদল তরুণকে নিয়ে প্রতিষ্ঠার পর প্রথমবর্ষে পদার্পণ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। রাজনীতিতে নতুন বন্দোবস্তের ঘোষণা দিয়ে গত বছর আত্মপ্রকাশ করে তরুণদের নেতৃত্বাধীন দলটি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্পিরিটকে ধারণ করে রাজনীতিতে আসা দলটিকে ঘিরে জনপ্রত্যাশা ছিলো তুঙ্গে। 

সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও জনগণের সাড়া পেয়েছে দলটির প্রার্থীরা। তবে প্রতিষ্ঠার এক বছরে বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে কতটা নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে পেরেছে দলটি, তা নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন। গত বছর ২৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে এক জনসভা থেকে আত্মপ্রকাশ করে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের দলটি। অনুষ্ঠানের ঘোষণাপত্রে সেকেন্ড রিপাবলিকের প্রস্তাব দেয় দলটি। 

সেকেন্ড রিপাবলিক প্রতিষ্ঠার জন্য গণপরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে একটি নতুন সংবিধান প্রণয়ন, জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষায় শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা, ভেঙে পড়া রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় গড়ে তোলা ও তাদের গণতান্ত্রিক চরিত্র রক্ষা করার কথা জানানো হয়েছিল দলটির ঘোষণাপত্রে।

প্রতিষ্ঠার পর জুলাই মাসে ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সারাদেশের জনগণের মাঝে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিজেদের পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেন দলটির নেতারা। এক মাসে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া— বাংলাদেশের ৬৪টি জেলা সফর করে এনসিপির জুলাই পদযাত্রা। এর মধ্য দিয়ে প্রান্তিক অঞ্চল থেকে মফস্বল দেশের প্রতিটি স্থানে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিতে সক্ষম হয় দলটি। 

গত বছর ২৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে এক জনসভা থেকে আত্মপ্রকাশ করে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের দলটি। অনুষ্ঠানের ঘোষণাপত্রে সেকেন্ড রিপাবলিকের প্রস্তাব দেয় দলটি। সেকেন্ড রিপাবলিক প্রতিষ্ঠার জন্য গণপরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে একটি নতুন সংবিধান প্রণয়ন, জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষায় শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা, ভেঙে পড়া রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় গড়ে তোলা ও তাদের গণতান্ত্রিক চরিত্র রক্ষা করার কথা জানানো হয়েছিল দলটির ঘোষণাপত্রে।

পরবর্তীতে একই বছর ৩ আগস্ট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নতুন বাংলাদেশের ২৪ দফা সংবলিত ইশতেহার ঘোষণা করে এনসিপি। নতুন বাংলাদেশকে সেকেন্ড রিপাবলিক আখ্যা দেন দলের আহবায়ক নাহিদ ইসলাম।  ২৪ দফার মধ্যে গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সংস্কার, ন্যায়ভিত্তিক বিচারব্যবস্থা ও আইন সংস্কার, সেবামুখী প্রশাসন ও দুর্নীতি দমন, জনবান্ধব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্বাধীন গণমাধ্যম ও শক্তিশালী নাগরিক সমাজ, বাংলাদেশপন্থি পররাষ্ট্রনীতি, জাতীয় প্রতিরক্ষা কৌশল প্রভৃতি বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সবশেষ গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০টি আসনে শাপলা কলি প্রতীকে ও জোটগতভাবে নির্বাচনে অংশ নেয় এনসিপি। এরমধ্যে ছয়টি আসনে জয়লাভ করে দলটির প্রার্থীরা। 

নির্বাচনের ফলাফলে দেখা গেছে, ৩০টি আসনে এনসিপি ভোট পেয়েছে ২২ লাখ ৬৯ হাজার ৬৩১টি, যা মোট ভোটের ৩.২১ শতাংশ। এনসিপি প্রার্থীদের জয় পাওয়া ৬টি আসনের মধ্যে ৫টি আসনে তাদের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল, নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসন লাভ করা ও বর্তমানে দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থীরা ও একটি আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী। বাকি আসনগুলোতেও এনসিপির প্রার্থীরাও ভালো ফলাফল করেন। 

বিকল্প শক্তি হিসেবে কতটা অবস্থান অবস্থান তৈরি করতে পেরেছে এনসিপি?
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানে দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে বাংলাদেশের রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকা শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয়। ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের পর নতুন বাংলাদেশের প্রত্যাশা ছিল সাধারণ মানুষের। সে জায়গা থেকে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের ঘোষণা আসে এনসিপির পক্ষ থেকে।

জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফরহাদ শাকিব বলেন, এনসিপির প্রতি জুলাই প্রজন্মের যে চাওয়া, সেই চাওয়া অনুযায়ী তারা কাজ করতে পারেনি বিগত ১৭ মাসে। জুলাইয়ের যে দায় ও দরদ, সেটা সময়ে সময়ে তাদের দ্বারা পদদলিত হয়েছে। গতানুগতিক রাজনীতির মতো পারস্পরিক কাদা ছোড়াছুড়ি করে জুলাই প্রজন্মের মধ্যকার ঐক্য নষ্ট করার দায়ও তাদের ওপর অনেকখানি বর্তায়। তবে যতদিন জুলাই বাংলাদেশের জনমানুষের হৃদয়ে থাকবে, ততদিন এনসিপির আবেদন তরুণ প্রজন্মের কাছে থাকবে।

দলটির নেতাদের মতে, এক বছরে শক্ত সাংগঠনিক ভিত্তি গড়ে তোলা কঠিন হলেও তারা নির্বাচনে অংশ নিয়ে নতুন রাজনৈতিক বার্তা পৌঁছে দিতে পেরেছেন। সীমিত ব্যয়ে নির্বাচন, ক্রাউডফান্ডিং, সাংস্কৃতিক প্রচারণা ও ট্রাকভিত্তিক জনসভা— এসব উদ্যোগের মাধ্যমে তারা প্রচলিত রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তনের সূচনা করেছেন বলেও মনে করেন তারা। ছোট ছোট ইতিবাচক পরিবর্তনের মাধ্যমে ভবিষ্যতে সুস্থ ও জনমুখী রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা সক্ষম বলেও আশা প্রকাশ করেন তারা।

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপি নেতা আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেন, ‘প্রতিষ্ঠার পর থেকে গত এক বছরে এনসিপি অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেছে। রাজনীতিতে নতুন বন্দোবস্তের জায়গাটা আমরা পুরোপুরি এখনও তৈরি করতে পারিনি। পুরোনো এস্টাবলিশমেন্টের জন্যই এটা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। তবে মানুষের সমর্থন এনসিপির সাথে আছে, নতুন বন্দোবস্তের আকাঙ্ক্ষাও মানুষের মাঝে রয়েছে। আমরা আশাবাদী, সেই আকাঙ্ক্ষার জায়গা এনসিপি হাত ধরে পূরণ হবে।’

এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি ও দলটির যুগ্ম আহবায়ক মনিরা শারমিন বলেন, মানুষ ও সংগঠন— এই দুইয়ের ওপরই দল দাঁড়িয়ে থাকে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এক বছরে একটি দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করা প্রায় অসম্ভব বললেই চলে। বিশেষ করে যখন আমরা ‘নতুন বন্দোবস্তের রাজনীতির কথা বলেছি এবং পুরোনো রাজনৈতিক শক্তিগুলো আমাদের পেছনে টেনে ধরার চেষ্টা করেছে। 

তিনি বলেন, ‘আমরা কখনোই দাবি করছি না যে, আমরা পুরোপুরি সফল হয়ে গেছি। কারণ নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত বাস্তবায়নের দায়িত্ব কার্যত আমাদের কাঁধেই এসে পড়েছে। আমরা ভেবেছিলাম, পাঁচ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে দেশের সব রাজনৈতিক দলের চিন্তাধারায় পরিবর্তন আসবে— রাজনীতিকে নতুনভাবে ভাবার একটা সম্মিলিত প্রয়াস দেখা যাবে।’

‘বাস্তবে দেখা গেছে, অধিকাংশ দলই পুরোনো পথেই হেঁটেছে। এই প্রেক্ষাপটে আমাদেরও নির্বাচনি রাজনীতিতে অংশ নিতে হয়েছে। তবে আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের প্রার্থীদের অর্জিত ভোটের হার প্রমাণ করে যে, নতুন রাজনীতির বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছেছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে এত কম সময়ে কোনো নতুন দল এতটা জনপ্রিয়তা পেয়েছে— এমন উদাহরণ বিরল। এর পেছনে নতুন রাজনৈতিক বার্তার পাশাপাশি গণ-অভ্যুত্থানের সেন্টিমেন্টও কাজ করেছে’, যোগ করেন তিনি।

মনিরা শারমিন বলেন, ‘আমরা নির্বাচনি সংস্কৃতিতেও পরিবর্তন আনতে চেয়েছি। যেখানে কালো টাকা ও শক্তির প্রভাব এখনো দৃশ্যমান, সেখানে আমরা সীমিত সম্পদ নিয়ে নির্বাচন করেছি। আমাদের ৩০ জন প্রার্থীর ব্যয় বড়ো দলের একজন প্রার্থীর ব্যয়ের এক-তৃতীয়াংশেরও কম। আমরা ক্রাউড ফান্ডিং মডেল চালু করেছি— পরে অন্য দলগুলোও এই পথ অনুসরণ করতে শুরু করেছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা নির্বাচনে ভয়ভীতি নয়, সাহস ও ইতিবাচকতার বার্তা দিয়েছি। প্রচারণায় সাংস্কৃতিক উপাদান যুক্ত করেছি— থিম সং, পথের গান, ট্রাকে করে জনসভা— সবকিছু মিলিয়ে রাজনীতিকে তরুণদের জন্য আকর্ষণীয় ও প্রাণবন্ত করে তুলতে চেয়েছি। বড় মঞ্চের বদলে পিকআপ ট্রাকে জনসভা করার উদ্যোগ নিয়েছি অর্থাভাবের কারণে, পরে দেখা গেছে, অন্যান্য দলও এই পদ্ধতি অনুসরণ করছে।’

‘বাস্তবে দেখা গেছে, অধিকাংশ দলই পুরোনো পথেই হেঁটেছে। এই প্রেক্ষাপটে আমাদেরও নির্বাচনি রাজনীতিতে অংশ নিতে হয়েছে। তবে আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের প্রার্থীদের অর্জিত ভোটের হার প্রমাণ করে যে, নতুন রাজনীতির বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছেছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে এত কম সময়ে কোনো নতুন দল এতটা জনপ্রিয়তা পেয়েছে— এমন উদাহরণ বিরল। এর পেছনে নতুন রাজনৈতিক বার্তার পাশাপাশি গণ-অভ্যুত্থানের সেন্টিমেন্টও কাজ করেছে’ -মনিরা শারমিন, যুগ্ম আহবায়ক, এনসিপি

এসব ছোট ছোট পরিবর্তনই প্রমাণ করে যে, এনসিপি চাপ সৃষ্টি করতে পেরেছে এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে নতুন ভাবনার সূচনা করেছে, উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘নতুন রাজনীতি রাতারাতি প্রতিষ্ঠিত হবে না। তবে আমরা যাত্রা শুরু করেছি। আমাদের লক্ষ্য— ছোট ছোট ইতিবাচক পরিবর্তনের মাধ্যমে রাজনীতিকে একটি সুস্থ, সাহসী ও জনমুখী ধারায় নিয়ে যাওয়া।’

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নতুন বন্দোবস্তের রাজনীতির প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে প্রচলিত রাজনৈতিক ধারার মধ্যেই চলে গেছে, বিশেষ করে নির্বাচনী জোট করার মাধ্যমে। ফলে তারা স্বতন্ত্র বিকল্প শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। তবে এক বছর খুব বেশি সময় নয়। অতীত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে যদি তারা আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সংগঠিত রাজনৈতিক কাঠামো গড়ে তুলতে পারে, তাহলে ভবিষ্যতে বিকল্প শক্তি হওয়ার সম্ভাবনা এখনো রয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতন্ত্র চর্চাকেন্দ্রের পরিচালক ড. আইনুল ইসলাম দ্য ডেইলি ক্যামপাসকে বলেন, এনসিপি রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশের সময় ‘নতুন বন্দোবস্তের রাজনীতির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে দেখা গেছে, তারা শেষ পর্যন্ত প্রচলিত রাজনৈতিক ধারার মধ্যেই প্রবেশ করেছে। বিশেষ করে নির্বাচনে জোট করা এবং প্রচলিত রাজনৈতিক কৌশল অনুসরণ করার মাধ্যমে তারা মূলধারার রাজনীতির সঙ্গেই একীভূত হয়ে গেছে। ফলে যে নতুন ধারার রাজনীতির প্রতিশ্রুতি ছিল, সেটি বাস্তবে আলাদা কোনো রূপ পায়নি। এটি তাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হতে পারে।

আরও পড়ুন: চাকরির বয়স ৩২ করাসহ অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশগুলোর ভাগ্যে কী আছে?

বিকল্প শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার যে সম্ভাবনা ছিল, সেটিও তারা পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারেনি উল্লেখ করে এই রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই একটা দ্বিমুখী বা বাইনারি কাঠামো বিদ্যমান— একদিকে একটা বড়ো দল, অন্যদিকে আরেকটি বড় দল। তৃতীয় শক্তির অভাব বারবার আলোচিত হয়েছে। দেশের মানুষও বহুবার তৃতীয় বা বিকল্প শক্তির খোঁজ করেছে। 
এনসিপির সামনে সেই শূন্যস্থান পূরণের সুযোগ ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচনে তারা কতটা সফল হতো, সেটি ভিন্ন প্রশ্ন, কিন্তু একটি স্বতন্ত্র বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করার সুযোগ তারা পেয়েছিল। তবে জোটভিত্তিক রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার ফলে তারা আলাদা বিকল্প হিসেবে দাঁড়াতে পারেনি। 

তিনি আরও বলেন, এনসিপির উত্থান একটি আন্দোলন ও বিপ্লবী প্রেক্ষাপট থেকে। আন্দোলন পরিচালনা এবং রাজনৈতিক দল হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ—এই দুই বাস্তবতা ভিন্ন। আন্দোলনের স্পিরিট দিয়ে জনমত তৈরি করা যায়, কিন্তু নির্বাচনি রাজনীতিতে সফল হতে হলে সংগঠন, কৌশল, অন্তর্ভুক্তিমূলক নেতৃত্ব এবং বিস্তৃত সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা প্রয়োজন। এই জায়গায় এনসিপি এখনো পরিপক্ব হতে পারেনি।

ড. আইনুল ইসলাম বলেন, কেবল তরুণ নেতৃত্ব দিয়ে দল গড়া সম্ভব হলেও, ভোটের রাজনীতিতে জিততে হলে সব বয়স ও শ্রেণির মানুষের সমর্থন প্রয়োজন। এই বিস্তৃত সামাজিক ভিত্তি গঠনের কাজটি তারা এখনো সম্পূর্ণভাবে করতে পারেনি। তাদের মধ্যে একটা এক্সক্লুশনারি প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে— অর্থাৎ সমাজের সব শ্রেণি, পেশা ও বয়সের মানুষকে যথেষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে পারেনি। একটা রাজনৈতিক দলকে টেকসই হতে হলে ইনক্লুসিভ বা একোমোডেটিভ হতে হয়, বিভিন্ন মত, শ্রেণি ও পেশার মানুষকে জায়গা দিতে হয়। 

এক বছর খুব দীর্ঘ সময় নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা একটি নির্বাচন পার করেছে বলেই এখন তাদের মূল্যায়ন হচ্ছে। সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে তোলা, জেলা পর্যায়ে বিস্তার ঘটানো, নেতৃত্ব তৈরি করা— এসব কাজে সময় লাগে। গত এক বছরের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে যদি তারা বিপ্লবের স্পিরিটকে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সংগঠিত রাজনৈতিক রূপ দিতে পারে, তাহলে সামনে তাদের সম্ভাবনা এখনো রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে আত্মহত্যা বেশি ছেলেদের, স্কুলে বেশি মেয়ে
  • ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
চাঁদপুরে মধ্যরাতে পুড়েছে ৬ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান 
  • ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
এক বছরে মাদ্রাসার ৪৪ শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা, বেশি যে কারণে
  • ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ঝালকাঠি জেলা ছাত্রশিবিরের নতুন সভাপতি এনামুল, সেক্রেটারি মা…
  • ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের অর্ধেকই স্কুলের
  • ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আবারও স্বর্ণের দামে বড় লাফ, এবার ভরি কত?
  • ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬