নির্বাচন কমিশন © টিডিসি সম্পাদিত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের নির্ধারিত সময় শেষে দেশের ৩০০ সংসদীয় আসনে চূড়ান্ত প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। ইসির প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে মোট ১ হাজার ৯৬৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিনে সারা দেশে মোট ৩০৫ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। আজ বুধবার (২১ জানুয়ারি) প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। প্রতীক পাওয়ার পর আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণায় নামতে পারবেন প্রার্থীরা।
চূড়ান্ত প্রার্থীর তালিকা দেখুন এখানে
নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে সারাদেশে মোট ৩ হাজার ৪২২টি মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে দাখিল করেছিলেন ২ হাজার ৫৮৫ জন প্রার্থী। প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে ১ হাজার ৮৫৮ জনকে বৈধ প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং ৭২৬টি মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
বাতিল হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে ৬৩৯ জন ইসিতে আপিল করেন। আপিল নিষ্পত্তি শেষে ৪৩১ জন প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা ফিরে পান। সব প্রক্রিয়া শেষে ৩০৫ জন প্রার্থী সরে দাঁড়ালে চূড়ান্ত প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়ায় ১ হাজার ৯৬৭ জনে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে চূড়ান্ত প্রার্থীর সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৯৭০ জন।
এবারের নির্বাচনে প্রায় অর্ধশত রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে। প্রার্থীদের অধিকাংশই বিভিন্ন নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মনোনীত, তবে শতাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থীও ভোটের মাঠে রয়েছেন। এর মধ্যে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র প্রার্থীদের নিয়ে ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, নির্বাচনী আচরণবিধি প্রতিপালনে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি ভোটারদের কেন্দ্রমুখী করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। রিটার্নিং অফিসারদের সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত স্বচ্ছ ব্যালট পেপারের মাধ্যমে বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।