ইইউ প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ
তারেক রহমানের সঙ্গে ইইউ প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ © সংগৃহীত
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের একটি প্রতিনিধিদল। ইইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার ওই প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ শুরু হয়। চলে দীর্ঘসময়।
বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে মাইকেল মিলারের সৌজন্য সাক্ষাতের সময় বিএনপি স্থায়ী কমিটির নজরুল ইসলাম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিল সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহ, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহাদী আমিনও উপস্থিত ছিলেন।
অপরদিকে ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলারের নেতৃত্বে প্রতিনিধি ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলে ছিলেন ইউরোপীয় ইউনিয়নএক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিসের (ইইএএস) ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর ফর এশিয়া এবং প্যাসিফিক মিস পাওলা পামপালোনি, ডেপুটি হেড অফ ডিভিশন এশিয়া এন্ড প্যাসিফিক-সাউথ এশিয়া মিস মনিকা বাইলাইতে, লিগ্যাল মি. এডভাইজার রাসটিয়াসলাভ স্পাক।
বৈঠক শেষে রাত ৮টার কিছু পর গুলশান কার্যালয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান সংক্ষিপ্ত ব্রিফিংয়ে গণমাধ্যমকে বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি প্রতিনিধিদল আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। ইইউ বাংলাদেশের একটি বড় গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। আপনারা জানেন যে আমাদের আসন্ন যে জাতীয় নির্বাচন, সেই নির্বাচন অনেক গুরুত্বপূর্ণ। সেই নির্বাচনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি বিরাট সংখ্যক পর্যবেক্ষক পাঠাবে। এস বিষয় নিয়ে তারা আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে মতবিনিময় করতে এসেছিলেন। খুব ভাল আলোচনা হয়েছে। ফলপ্রসু আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, তারা (ইইউ) জানতে চেয়েছে আসন্ন নির্বাচন কেমন হতে যাচ্ছে এবং সেখানে আমাদের ভূমিকা কেমন থাকবে? নির্বাচনের পর এদেশের উন্নয়নের ব্যাপারে আমাদের কি কি চিন্তা-ভাবনা।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, তাদের (ইইউ) এসব জিজ্ঞাসার বিষয়ে আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান খুব স্পষ্ট করে বলেছেন, এই নির্বাচনটা যত দ্রুত সম্ভব করার যে দাবিটা তা আমাদেরই ছিল। আমরাই চাচ্ছি এই নির্বাচন যত দ্রুত সম্ভব অর্থাৎ যে তারিখে নির্বাচন; নির্বাচনটা যেন নিদ্দিষ্ট তারিখেই হয়। শান্তিপূর্ণ হয়, অবাদ এবং সুষ্ঠু হয়। এটা তিনি পূর্ণব্যক্ত করেছেন। এটা আমরা চাচ্ছি। তিনি এটাও বলেছেন, এদেশের মানুষ দীর্ঘদিন ভোট দিতে পারেনি। তারা আগ্রহে অপেক্ষা করছে যে, দেশে একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ হবে, তারা অংশ নেবেন এবং নিজেরা ভোট দেবেন। নিজেদের ইচ্ছা-আকাঙ্খা তারা ভোটের মাধ্যমে প্রকাশ করবেন। আমরাও এটার জন্য অপেক্ষা করছি।
তিনি বলেন, নির্বাচনে আমরা (বিএনপি) সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছি। এজন্য যা যা প্রস্তুতি তা গ্রহণ করছি। আমরা কাজ করছি এবং ইইউ এদেশের উন্নয়নে যে অংশগ্রহণ ও অবদান সেজন্য তিনি তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, তাদের অনুরোধও করেছে যে, বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য আগের মতো ইইউ সহযোগিতা করে এবং বাংলাদেশের মানুষ উপকৃত হয়। জবাবে ইইউ প্রতিশ্রুতি দিয়েছে-ভবিষ্যতে ইইউ আরও বৃহৎ আকারে বাংলাদেশের মানুষের কল্যাণে ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশের পাশে থাকবে।
প্রশ্নের জবাবে নজরুল ইসলাম খান বলেন, নির্বাচনে ইইউ‘র অনেক বড় পর্যবেক্ষক টিম আসবে। আমার মনে হয়, এটা শুধু ঢাকা কেন্দ্রীক হবে না। এটা সারাদেশেই থাকবে।