যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড © ফাইল ছবি
যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ফি’র টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে বোর্ডের পরীক্ষা শাখা। নির্ধারিত টাকার চেয়ে যদি কোনো প্রতিষ্ঠান পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করে, তাহলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে নিশ্চিত করেছেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. আব্দুল মতিন।
তিনি জানান, বোর্ডের ওয়েবসাইটে দেয়া চিঠির মাধ্যমে জানানো হয়েছে, পরীক্ষার্থীপ্রতি ১০০ টাকা হারে বিলম্ব ফি’সহ ‘সোনালী সেবার’ মাধ্যমে ফিসের টাকা জমা দিয়ে ১১ মার্চ হতে ১৮ মার্চ পর্যন্ত এইচএসসি পরীক্ষার ফরমপূরণ চলবে। এ জন্য শিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত ফি হলো, বিজ্ঞান শাখায় ২ হাজার ৯৯৫ টাকা। এর মধ্যে কেন্দ্র ফি ২ হাজার ১৪০, ব্যবহারিক ফিসহ কেন্দ্র ফি ৮৫৫ টাকা।
মানবিক ও ব্যবসায়ী শিক্ষা শাখায় ফি ২ হাজার ৪৩৫ টাকা। এর মধ্যে কেন্দ্র ফি ১ হাজার ৯৪০, ব্যবহারিক ফি‘সহ কেন্দ্র ফি ৪৯৫ টাকা। তবে মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় কোনও পরীক্ষার্থীর ৪র্থ বিষয়ে ব্যবহারিক পরীক্ষা থাকলে বর্ণিত ফি-এর সাথে অতিরিক্ত ১৪০ এবং মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় কোন পরীক্ষার্থীর নৈর্বচনিক বিষয়ে ব্যবহারিক বিষয় প্রতি আরও টাকা যোগ হবে।
পরীক্ষার যাবতীয় ফি সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, যশোর-এর অনুকূলে কেবল সোনালী ব্যাংকের যে কোনও শাখা হতে সোনালী সেবার মাধ্যমে জমা দিতে হবে। কোনও ক্রমেই নগদ টাকা, পে-অর্ডার, পোস্টাল অর্ডার, মনি অর্ডার, সিকিউরিটি ডিপোজিট রিসিট অথবা ট্রেজারি চালান ইত্যাদিতে বোর্ডের ফি গ্রহণ করা হবে না।
বিজ্ঞপ্তিতে বর্ণিত তারিখের পর কোনোক্রমেই পরীক্ষার ফি বাবদ সোনালী সেবা ও অন্যান্য কাগজপত্র গ্রহণ করা হবে না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে সর্বোচ্চ ২৪ মাসের টিউশন ফি আদায় করতে পারবে। এর চেয়ে বেশি টাকা আদায় করলে ওই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে কেবল বৈধ রেজিস্ট্রেশনধারী ও নির্বাচনি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীরা আবেদন ফরমপূরণ করতে পারবে। কোনও পরীক্ষার্থী তার রেজিস্ট্রেশন বহির্ভূত কোন বিষয় বা বিষয়সমূহের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলে উক্ত বিষয় বা বিষয় সমূহের পরীক্ষা কোনরূপ যোগাযোগ ছাড়াই বাতিল করা হবে। কোনও পরীক্ষার্থী তার নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত কোন কারণ কিংবা শারীরিক অসুস্থতার জন্য নির্বাচনি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে না পারলে বা নির্বাচনি পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ হলে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীর অভিভাবকের লিখিত আবেদন ও পরীক্ষার্থীর প্রাক নির্বাচনি পরীক্ষার সন্তোষজনক ফলাফলের ভিত্তিতে পরীক্ষার ফরমপূরণ করতে পারবে।
আরও পড়ুন: প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগের নতুন আবেদন শুরু হতে পারে ১৫ মার্চ
সমাজসেবা অধিদপ্তরের নিবন্ধিত শারীরিকভাবে অক্ষম বা সেরিব্রালপালসি বা বিশেষভাবে সক্ষম পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে নির্বাচনি পরীক্ষায় উত্তীর্ণের বিষয়টি শিথিলযোগ্য। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহ পরীক্ষার্থীদের এইচএসসি পরীক্ষায় অধিকতর সফলতার জন্য প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতিমূলক পরীক্ষা গ্রহণ করতে পারে। কিন্তু এ পরীক্ষা পরীক্ষার্থীর জন্য বাধ্যতামূলক নয় এবং এর জন্য অতিরিক্ত ফি ধার্য বা আদায় করা যাবে না।
যে সব পরীক্ষার্থী ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ এর কম পেয়েছে শুধুমাত্র তারাই জিপিএ উন্নয়নের জন্য পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব বিষয়ে পরীক্ষা দিতে হবে। ২০২৪ সালে আংশিক বিষয়ে ফরমপূরণ করে উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীরা এ সুযোগ পাবে না।
উল্লেখ্য যে, জিপিএ উন্নয়ন পরীক্ষার্থী ব্যতীত নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ সকল শিক্ষার্থীর জন্য বাধ্যতামূলক। তবে যে সব পরীক্ষার্থী ইতোমধ্যে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে অকৃ তকার্য হয়েছে তাদের নির্বাচনী পরীক্ষায় উত্তীর্ণের বিষয়টি বাধ্যতামূলক নয়। সমাজসেবা অধিদপ্তর কর্তৃক নিবন্ধিত শারীরিকভাবে অক্ষম বা সেরিব্রালপালসি বা বিশেষভাবে সক্ষম শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে নির্বাচনি পরীক্ষায় উত্তীর্ণের বিষয়টি শিথিলযোগ্য।
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. আব্দুল মতিন বলেন, যদি কোনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে ফরম পূরণের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হয়, এমন লিখিত অভিযোগ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।