‘বেশি দামে কেনা হয় অকেজো মেশিন’
ঢামেক অধ্যাপক ডা. শহীদুল ইসলাম © সংগৃহীত
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) স্পাইন সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. শহীদুল ইসলাম আকনকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে। একইসঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে।
একটি সুপারস্পেশালিটির শিক্ষক-চিকিৎসককে পড়াশোনা, এমনকি তার স্পেশালিটির চিকিৎসাসেবা প্রদানের সুযোগ না থাকা প্রতিষ্ঠানে বদলি করায় আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। এরই মধ্যে আলোচনায় এসেছে কিছুদিন আগে দেওয়া ডা. আকনের একটি বক্তব্য। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজনৈতিক কারণেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহতদের চিকিৎসা দিয়ে শাস্তি পাওয়া এই চিকিৎসককে পুনরায় শাস্তি দেওয়া হয়েছে, যার পেছনে দুর্নীতির বিরুদ্ধে দেওয়া সেই বক্তব্য অনুঘটক হিসেবে কাজ করে থাকতে পারে।
গত ৮ এপ্রিল বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে জামায়াতপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম (এনডিএফ) আয়োজিত আলোচনা সভায় অতিথি হয়ে ওই বক্তব্য দেন ডা. আকন। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য খাতের সংকট তুলে ধরে তিনি বলেন, বাজেট আছে কিন্তু ইমপ্লিমেন্টে সমস্যা, আরেকটা হল বাজেট শর্ট কিনা— দুইটাই আসলে ঠিক। এটাই সত্যি একটা কথা যে হেলথ সেক্টরে যতটুক বাজেট হওয়ার কথা তা নাই, আরেকটা হল বাজেট যেটা আছে এটার প্রপার ইমপ্লিমেন্টেশন নাই।
উদাহরণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ দেশের এক নাম্বার মেডিকেল কলেজ। ঢাকা মেডিকেল কলেজে কি দেশের এক নাম্বার ইনভেস্টিগেশন ফ্যাসিলিটিজটা আছে? অথচ ঢাকা মেডিকেল কলেজে যেটা কেনা হয়েছে, এটা বাইরের বেসরকারিভাবে যে এমআরআই কেনা হয়েছে— তার থেকে দাম বেশি। কিন্তু কিনছি আমরা সবচেয়ে পুরানোটা, অযোগ্যটা। সত্যিকার অর্থে অন্য দেশে এখন বাদ হয়ে গেছে এরকম একটা ডিজাইন আমরা কিনছি।
তিনি বলেন, যদি গুড গভর্নেন্স থাকে, (তাহলে) কিছু ভাল কাজ হয়। বার্ন ইনস্টিটিউটটা আর্মিরা করেছে, অপেক্ষাকৃত ভাল হইছে। এমআরআই অনেকেই ঢাকা মেডিকেল থেকে বার্ন ইনস্টিটিউটে গিয়ে করেন। প্রফেসর দীন মোহাম্মদ স্যার নিউরোসায়েন্স করেছেন, ওনারা সিমেন্সের ভাল এমআরআইটা কিনছেন।
ক্ষুদ্র উদাহরণ দিলাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা তো সব এরকম ইয়ে করি। তাহলে যদি বাজেট ঠিকমত থাকে এবং বাজেটের সঠিক ব্যবহার হয় এবং ম্যান বিহাইন্ড দ্যা মেশিন বা প্রতিষ্ঠান প্রধান যদি ঠিক থাকেন, ওভারঅল দেশ যদি ঠিক থাকে...। এখন প্রতিষ্ঠান প্রধান ঠিক থাকলে তো বেশিদিন থাকবে না। উপস্থাপক যেটা বলছেন যে আপনি ঘুষ খান না, কিন্তু আপনি ঘুষ দিতে বাধ্য।
অডিটরদের দুর্নীতির কারণে ভদ্রলোকেরা প্রকল্প পরিচালক হতে চান না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভদ্রলোকেরা প্রজেক্ট ডাইরেক্টর হতে চায় না। আপনি এক টাকাও পাবেন না, আপনি হান্ড্রেড পার্সেন্ট সৎ, নামাজ পড়েন, রোজা রাখেন, বেহেশতে যাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে আছেন, কিন্তু আপনি যখন কাজ শেষ করবেন, আপনাকে যিনি অডিটে আসবে ওনাকে ৫০% দিতে হবে। আপনি ৫০% কোত্থেকে দিবেন। তাইলে আপনি তো সৎ মানুষ, আপনি একটা টাকা খাইলেন না, আপনি ৫০% দিবেন। নইলে অডিটে আপনার ভুল ধরবে। কারণ আপনার তো ভুল আছে কিছু, কোথাও কোথাও তো ধরতে চাইলে ধরতেই পারে।
প্রসঙ্গ সূত্রে ডা. শহীদুল ইসলাম আকন বলেন, গত দেড় বছরে কিছুটা সরকারের স্বাদ গ্রহণ করেছি আমরা। মিটিং-টিটিংয়ে যাওয়ার কিছু সুযোগ হয়েছে। মিটিংয়ে গেলাম, ঢাকা মেডিকেল কলেজে হোস্টেল দরকার। আমি গেলাম ছাত্রদের পক্ষে হোস্টেল চাইতে। মিটিং হল, মিডিয়াতে আসল যে ঢাকা মেডিকেল কলেজের হোস্টেল ভেঙে পড়ে। আমাকে প্রমাণ করা হল যে এরা ছাত্রদের নিয়ে আন্দোলন করছে ইউনুস সরকারের বিরুদ্ধে। অতএব এদের পানিশমেন্ট হওয়া উচিত।
তিনি বলেন, এক হলো বাজেট কম, দুই হল যেটুকু আছে সেটুকুর সঠিক ব্যবহার নাই এবং যে মানুষটার হাতে পড়েছে, সেই মানুষটাও ওই পদে বেশিদিন থাকতে পারছেন না। আপনাকে কম্প্রোমাইজ করে চলতে হবে।