ইয়াসিন আয়ারি © টিডিসি সম্পাদিত
পারিবারিক ঐতিহ্য ও রক্তের টান থাকা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক ফুটবলে তিউনিসিয়ার হয়ে খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়ে সুইডেনকে বেছে নিয়েছিলেন তরুণ মিডফিল্ডার ইয়াসিন আয়ারি। আর কাকতালীয়ভাবে ২০২৬ বিশ্বকাপে নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচেই সেই তিউনিসিয়ার মুখোমুখি হতে হয় তাকে।
ম্যাচের ৭ মিনিটে তিউনিসিয়ার রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ নিয়ে বক্সের বাইরে থেকে এক শক্তিশালী শটে টপ কর্নারে বল জড়িয়ে সুইডেনকে এগিয়ে নেন ব্রাইটনের এই মিডফিল্ডার। তবে গোল করার পর পারিবারিক ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান জানিয়ে কোনো বুনো উল্লাস বা উদযাপন করেননি আয়ারি; বরং বল জালে জড়ানোর সাথে সাথেই দুই হাত জোড় করে ক্ষমা চেয়ে নেন এবং মাঠে সিজদাহ দিয়ে মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিউনিসিয়ার বিপক্ষে এই ম্যাচটি ইয়াসিন আয়ারির ব্যক্তিগত জীবনে এক আবেগঘন অধ্যায়। তার মা আফ্রিকান দেশ তিউনিসিয়াতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং বহু বছর ধরেই আয়ারির সামনে সেই দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল খেলার এক বড় সম্ভাবনা ছিল। প্রকৃতপক্ষে, ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের আগে তিউনিসিয়ান ফুটবল ফেডারেশন তাকে তাদের জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য জোর চেষ্টা চালিয়েছিল। তবে আয়ারি এবং তার ঘনিষ্ঠ মহল সুইডিশ জাতীয় দলের হয়ে শুরু করা পথেই এগিয়ে যাওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন।
সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমের উত্তরে অবস্থিত সোলনা শহরে জন্ম ও বেড়ে ওঠা আয়ারি সবসময়ই ‘যে দেশ তাঁর যত্ন নিয়েছে, সেই দেশকে কিছু ফিরিয়ে দেওয়া’-কে অগ্রাধিকার দিতেন, এবং তাঁর এই অবস্থানে পরিবারেরও পূর্ণ সমর্থন ছিল। তবে আয়ারি পরিবার এবং তিউনিসিয়া ফুটবল দলের মধ্যকার সম্পর্ক এখনই পুরোপুরি শেষ হয়ে যাচ্ছে না।
ইয়াসিনের পরিস্থিতি এখন পুরোপুরি নিষ্পত্তি হয়ে গেলেও, তাঁর ছোট ভাই তাহা এখনও আফ্রিকান এই জাতীয় দলটির রাডারে রয়েছেন, কারণ তাদের কোচিং স্টাফ ইউরোপে জন্মগ্রহণকারী তিউনিসীয় বংশোদ্ভূত তরুণ খেলোয়াড়দের ওপর কড়া নজর রাখছে।
ম্যাচের প্রথমার্ধের শুরুর সেই আবেগঘন গোলের পর অতিরিক্ত সময়েও তিউনিসিয়ার রক্ষণভাগকে পরাস্ত করে আরও একটি অপ্রতিদ্বন্দী গোল করেন আয়ারি, যা সুইডেনের ৫-১ গোলের বিশাল জয় নিশ্চিত করে।
নিজের এই জোড়া গোল নিয়ে তিনি উদ্দামভাবে চিৎকার না করলেও, ম্যাচ শেষে সতীর্থদের আলিঙ্গনে আবদ্ধ হয়ে জয় উদযাপন করেন। ২০২৬ বিশ্বকাপের শুরুতেই আয়ারির এই গোল না করে ক্ষমা চাওয়ার গল্পটি ফুটবল ভক্তদের মাঝে এক অনন্য নজির সৃষ্টি করেছে।