নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাওয়া ক্ষতিগ্রস্ত বাসটি © টিডিসি ছবি
স্কুল ছুটির পর সহপাঠীদের সঙ্গে বাড়ি ফিরছিল ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাতেমা আক্তার সুরাইয়া (১২)। পথিমধ্যে ফেনী-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের সিলোনিয়া বাজার এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস হঠাৎ তাদের ওপর উঠে যায়। এতে সহপাঠীদের চোখের সামনেই বাসের চাপায় প্রাণ হারান সুরাইয়া। এ ঘটনায় আরও অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছে।
রবিবার (১৬ আগস্ট) বিকেলে সিলোনিয়া বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ফাতেমা আক্তার সুরাইয়া সিলোনিয়া এলাকার চাঁনপুর গ্রামের মোহাম্মদ হানিফের মেয়ে। সে সিলোনিয়া হাই স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত ছিলেন।
এ ঘটনায় আহতদের মধ্যে দাগনভূঞার আলমপুর গ্রামের মাঈনুদ্দিনের মেয়ে রাইসা আক্তার ও একই এলাকার নুরনবীর মেয়ে নুসরাত জাহানের নাম জানা গেছে। আহত রাইসা আক্তারকে গুরুতর অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তবে এখনো অন্য আহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বিকেল সোয়া ৪টার দিকে সিলোনিয়া হাই স্কুলের ছুটি শেষে মহাসড়কের পাশ দিয়ে শিক্ষার্থীরা হেঁটে বাড়ি ফিরছিল। এ সময় ফেনী থেকে নোয়াখালীগামী ‘শরীয়তপুর এক্সপ্রেসের’ বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে শিক্ষার্থী ও পথচারীদের চাপা দিয়ে সড়কের পাশে উল্টে যায়। এতে কয়েকজন শিক্ষার্থী ও পথচারী হতাহত হন।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে দাগনভূঞা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ফেনী জেনারেল হাসপাতাল ও বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। গুরুতর আহত ফাতেমা আক্তার সুরাইয়াকে ফেনীর মহিপালের স্টারলাইন স্পেশালাইজড হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন হাসপাতালটির ব্যবস্থাপক জাহাঙ্গীর আলম।
প্রত্যক্ষদর্শী মো. রিয়াদ হোসেন বলেন, স্কুল ছুটির পর শিক্ষার্থীরা সড়কের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল। হঠাৎ বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাদের ওপর উঠে যায় এবং সড়কের পাশে উল্টে পড়ে। এতে অন্তত সাত-আটজন শিক্ষার্থী চাপা পড়েছিল। পরে স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
ফেনী জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক মমিনুল ইসলাম সোহাগ বলেন, বিকেলে রাইসা আক্তার নামে এক শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত রয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সিলোনিয়া হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক কামাল উদ্দিন বলেন, দুর্ঘটনায় বিদ্যালয়ের অন্তত ৭-৮ জন শিক্ষার্থী আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে ফাতেমা আক্তার সুরাইয়ার মৃত্যু হয়েছে। আরও দুই শিক্ষার্থীকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। আহত অন্য শিক্ষার্থীদের বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে দুর্ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক অবরোধ করে যানচলাচল বন্ধ করে দেয়। পরে দাগনভূঞা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দিলে যানচলাচল স্বাভাবিক হয়।
দাগনভূঞা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফয়জুল আজীম বলেন, দুর্ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক অবরোধ করেছে এমন খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। যেহেতু এটি মহাসড়কে সংঘটিত দুর্ঘটনা, তাই এই বিষয়ে মহিপাল হাইওয়ে থানা পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেবে।
এ ব্যাপারে মহিপাল হাইওয়ে থানা পুলিশের পুলিশের উপপরিদর্শক কবির হোসেন বলেন, নিহত শিক্ষার্থীর মরদেহ সুরতহাল শেষে পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়া হস্তান্তর করা হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি থানায় নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও উত্তেজিত শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের অনুরোধে পরিস্থিতি বিবেচনায় সেটি সিলোনিয়া হাই স্কুলের মাঠে রাখা হয়েছে। বাসের চালক ও হেলপার পলাতক রয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।