মেসির দুঃখগাথা যেন শেষ হচ্ছেই না

১৬ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৪৫ AM , আপডেট: ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৪৭ AM
ইন্টার মায়ামির জার্সিতে মেসি

ইন্টার মায়ামির জার্সিতে মেসি © সংগৃহীত

বিশ্বকাপের ফাইনালে হারের শোক কাটতে না কাটতেই বাবাকে হারিয়েছেন লিওনেল মেসি। সেই শোকের মধ্যেই মাঠে ফিরেছেন আর্জেন্টাইন তারকা। তবে বাবার মৃত্যুর পর মাঠে ফিরে আর জয়ের দেখা পাননি তিনি। প্রথমে লিগস কাপে ক্লাব লিওনের কাছে হেরেছে ইন্টার মায়ামি। এরপর এমএলএসে ন্যাশভিল এসসির কাছেও বড় ব্যবধানে হারতে হয়েছে মেসির দলকে। ফলে ব্যক্তিগত ও দলীয়—দুই দিক থেকেই কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন আর্জেন্টাইন এই মহাতারকা।

গত ৮ আগস্ট ৬৮ বছর বয়সে মারা যান মেসির বাবা হোর্হে মেসি। বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে আর্জেন্টিনার রোজারিওতে ফিরে যান মেসি। কঠিন সময়ে পরিবারের সঙ্গে কয়েক দিন সময় কাটিয়ে বুধবার যুক্তরাষ্ট্রে ফেরেন তিনি।

সেদিন মাঠে নামতেই স্টেডিয়ামজুড়ে করতালির শব্দ ওঠে। সমর্থকেরা তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। বলের সঙ্গে তার প্রথম কয়েকটি স্পর্শেও গ্যালারি থেকে উচ্ছ্বাস দেখা যায়।

মাঠে নেমে বেশ সক্রিয় ছিলেন মেসি। সতীর্থদের সঙ্গে সমন্বয় করে আক্রমণে যাওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। কয়েকবার লিওনের রক্ষণেও চাপ তৈরি করেন। তবে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়েরা তাকে ভালোভাবে মার্ক করে রাখায় গোলমুখে পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করতে পারেননি।

মেসির সবচেয়ে ভালো সুযোগগুলোর একটি আসে কর্নার থেকে। তার নেওয়া কর্নার সরাসরি গোলমুখে বাঁক নিতে থাকলে লিওনের গোলরক্ষক মুষ্টি দিয়ে বল সরিয়ে দেন। ফলে সরাসরি কর্নার থেকে গোল করার সম্ভাবনাও নষ্ট হয়।

শেষ পর্যন্ত মেসির ফেরার ম্যাচটি জয়ে রাঙাতে পারেনি ইন্টার মায়ামি। লিওনের কাছে ৩-২ গোলে হেরে লিগস কাপ থেকে বিদায় নেয় তারা।

এরপর এমএলএসে মেসির জন্য অপেক্ষা করছিল আরও কঠিন পরীক্ষা। শনিবার রাতে ইস্টার্ন কনফারেন্সের শীর্ষ দুই দলের লড়াইয়ে ন্যাশভিল এসসির মুখোমুখি হয় ইন্টার মায়ামি। ম্যাচে মেসিকে শুরু থেকেই মাঠে নামান কোচ। কিন্তু এবারও দলকে জেতাতে পারেননি তিনি।

আরও পড়ুন: বাবার মৃত্যুর পর প্রথমবারের মতো মাঠে নামলেন মেসি

ন্যাশভিলের জিওডিস পার্কে ম্যাচের প্রথমার্ধ শেষ হয় ১-১ সমতায়। ১৬ মিনিটে এলিয়াস সাদের বাড়ানো বল হেড করে ন্যাশভিলকে এগিয়ে দেন অ্যান্ডি নাজর। চলতি মৌসুমে এটি ছিল তার প্রথম গোল।

তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ম্যাচে সমতা ফেরায় ইন্টার মায়ামি। ৪৮ মিনিটে ঘুরে দাঁড়িয়ে দারুণ এক গোল করেন টেলাসকো সেগোভিয়া।

এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেয় ন্যাশভিল। একই মিনিটে এলিয়াস সাদের পাস থেকে গোল করে দলকে আবারও এগিয়ে দেন হ্যানি মুখতার। এরপর ৫৬ মিনিটে পেছনের গোড়ালি দিয়ে দারুণ এক শটে গোল করেন স্যাম সারিজ। তাতে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় স্বাগতিকেরা। চলতি মৌসুমে এটি ছিল ন্যাশভিলের হয়ে সারিজের ১২তম গোল, যা দলের মধ্যে সর্বোচ্চ।

৬২ মিনিটে ইন্টার মায়ামির গোলরক্ষক রোকো রিওস-নোভোর ভুলের সুযোগ নিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন মুখতার। ন্যাশভিলের গোলরক্ষক ব্রায়ান শোয়াকে নেওয়া গোলকিক সামলাতে গিয়ে ভুল করেন রিওস-নোভো। সেই ভুলের সুযোগে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে সহজেই জালে পাঠান মুখতার। শেষ পর্যন্ত ৪-১ গোলের জয় পায় ন্যাশভিল।

এই ম্যাচে মেসির জন্য সবচেয়ে হতাশার মুহূর্তগুলোর একটি ছিল পেনাল্টি মিস করা। ২৩ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ন্যাশভিলের গোলরক্ষক ব্রায়ান শোয়াকে তার শট ঠেকিয়ে দেন। ফিরতি বলে ইন্টার মায়ামির সার্জিও রেগিলন গোল করলেও সেটি বাতিল হয়। পেনাল্টি নেওয়ার সময় রেগিলন নির্ধারিত সময়ের আগেই পেনাল্টি এলাকায় ঢুকে পড়েছিলেন।

ন্যাশভিলের বিপক্ষে ম্যাচের আগে এই দলের বিপক্ষে ১২ ম্যাচে মেসির গোল ছিল ১৬টি। কিন্তু এবার সেই পরিচিত প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধেও গোলের দেখা পাননি তিনি। বরং পেনাল্টি মিস করে হতাশ করেছেন। ইন্টার মায়ামির হয়ে এটি ছিল পেনাল্টি থেকে তার টানা তৃতীয় ব্যর্থতা।

মেসির জন্য ম্যাচটি আরও কঠিন ছিল কারণ বাবার মৃত্যুর পর এটিই ছিল ইন্টার মায়ামির হয়ে তার প্রথম পুরো ম্যাচ। এর আগে লিওনের বিপক্ষে দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমেছিলেন তিনি। দুই ম্যাচেই দল হেরেছে।

ন্যাশভিলের কাছে ৪-১ গোলের এই হার ইন্টার মায়ামির জন্য টানা তৃতীয় পরাজয়। অন্যদিকে মেসি দলে যোগ দেওয়ার পর ন্যাশভিলের বিপক্ষে এটি তাদের মাত্র দ্বিতীয় জয়।

ম্যাচের পরিসংখ্যানেও ন্যাশভিলের আক্রমণাত্মক ফুটবলের চিত্র স্পষ্ট হয়েছে। ন্যাশভিল ১৬টি শট নিয়েছে, যার ৮টি ছিল লক্ষ্যে। ইন্টার মায়ামি ৯টি শট নিয়ে ৫টি লক্ষ্যে রাখতে পেরেছে। বল দখলে অবশ্য এগিয়ে ছিল মায়ামি। তারা ৫২ শতাংশ সময় বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছিল, ন্যাশভিলের দখলে ছিল ৪৮ শতাংশ।

পাসের সংখ্যায়ও এগিয়ে ছিল ইন্টার মায়ামি। তারা ৪২৫টি পাস দিয়েছে এবং পাসের নির্ভুলতা ছিল ৮৯ শতাংশ। ন্যাশভিল ৩৭১টি পাস দিয়েছে, যার ৮৩ শতাংশ ছিল সঠিক। তবে বল দখল ও পাসে এগিয়ে থেকেও মেসির দল ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারেনি।

ফাউলের দিক থেকে ন্যাশভিল করেছে ১৩টি, ইন্টার মায়ামি ৯টি। ন্যাশভিলের খেলোয়াড়েরা একটি হলুদ কার্ড দেখেছেন, মায়ামি দেখেছে তিনটি। কোনো দলই লাল কার্ড দেখেনি। অফসাইডে ন্যাশভিল একবার এবং ইন্টার মায়ামি তিনবার ধরা পড়েছে। কর্নার পেয়েছে ন্যাশভিল ১০টি, আর মায়ামি পেয়েছে চারটি।

ন্যাশভিলের কাছে হারের ফলে ইস্টার্ন কনফারেন্সের শীর্ষস্থান থেকেও আরও দূরে সরে গেল ইন্টার মায়ামি। ১৯ ম্যাচে ৪৩ পয়েন্ট নিয়ে ন্যাশভিল শীর্ষে রয়েছে। তাদের ১৩ জয়, চার ড্র ও দুটি হার। অন্যদিকে ৩৮ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ইন্টার মায়ামি। ফলে শীর্ষে থাকা ন্যাশভিলের সঙ্গে মায়ামির ব্যবধান এখন পাঁচ পয়েন্ট।

আগস্টে লিগস কাপের তিন ম্যাচে খেলোয়াড়দের ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে খেলিয়েছিলেন ন্যাশভিলের কোচ বিজে ক্যালাহান। তবে মায়ামির বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তিনি শক্তিশালী একাদশ নিয়ে মাঠে নামেন। সেই সিদ্ধান্তের ফলও পেয়েছে দলটি।

মেসির জন্য ব্যক্তিগতভাবেও সময়টা কঠিন যাচ্ছে। বিশ্বকাপের ফাইনাল হারার পর বাবাকে হারিয়েছেন তিনি। পরিবারের পাশে থাকার জন্য দেশে ফিরে আবার যুক্তরাষ্ট্রে ফিরেছেন। মাঠে ফিরলেও পরপর দুই ম্যাচে দলকে জয়ের পথে নিতে পারেননি। প্রথম ম্যাচে লিওনের কাছে ৩-২ এবং পরের ম্যাচে ন্যাশভিলের কাছে ৪-১ গোলে হেরেছে ইন্টার মায়ামি।

তবে মৌসুম এখনো শেষ হয়নি। ন্যাশভিলের সামনে এমএলএসের নিয়মিত মৌসুমে আরও ১৫টি ম্যাচ রয়েছে। আগামী বুধবার ন্যাশভিল নিউইয়র্ক রেড বুলসের মাঠে খেলবে। একই দিনে ইন্টার মায়ামি মুখোমুখি হবে ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের।

ফলে কঠিন সময় পেরিয়ে মেসি ও ইন্টার মায়ামি কীভাবে ঘুরে দাঁড়ায়, এখন সেটিই দেখার বিষয়। ব্যক্তিগত শোক, মাঠের ব্যর্থতা এবং দলের টানা হার—সব মিলিয়ে মেসির দুঃখগাথা যেন এখনো শেষ হওয়ার কোনো লক্ষণই দেখাচ্ছে না।

ইতিহাস গড়তে ৫৭ রান দরকার বাংলাদেশের
  • ১৬ আগস্ট ২০২৬
বর্ষাকে বিদায় জানিয়ে এল শরৎকাল
  • ১৬ আগস্ট ২০২৬
বেরোবি শিক্ষকের নামে ফেসবুকে ভুয়া আইডি, থানায় জিডি
  • ১৬ আগস্ট ২০২৬
তাসকিনের আঘাত সামলে গ্রিনের সেঞ্চুরি, অপেক্ষা বাড়ছে বাংলাদে…
  • ১৬ আগস্ট ২০২৬
মেসির দুঃখগাথা যেন শেষ হচ্ছেই না
  • ১৬ আগস্ট ২০২৬
ইতিহাস গড়লেন মিরাজ
  • ১৬ আগস্ট ২০২৬