শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অশোভন আচরণসহ ১৫ অভিযোগ
চলতি মাসেই সিটি ইউনিভার্সিটির অ্যাডভাইজার পদ হারান প্রভোস্ট অধ্যাপক ইলিয়াস আল-মামুন © ফাইল ফটো
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট শেয়ার দেওয়াকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফজলুল হক মুসলিম হলের আবাসিক এক শিক্ষার্থীকে শারীরিকভাবে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে একই হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. ইলিয়াস আল-মামুনের বিরুদ্ধে। আজ রবিবার (১৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় এ ঘটনা জানাজানির পর তার পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন ডাকসু-হল সংসদ নেতা ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
এরই মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের এই অধ্যাপকের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ সামনে এসেছে। চলতি মাসের শুরুতে সাভারের বেসরকারি সিটি ইউনিভার্সিটিতেও তার বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিলেন শিক্ষার্থীরা। এতে তারা অনিয়ম-দুর্নীতি ও অশোভন আচরণের মোটি ১৫টি অভিযোগ আনেন। পরে তাকে সাময়িকভাবে সকল একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তিনি সেখানে ফার্মেসি বিভাগের অ্যাডভাইজার পদে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
আজ রবিবার (১৯) রাতে উপাচার্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) অধ্যাপক ড. মো. লুৎফর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে অধ্যাপক ড. ইলিয়াস আল-মামুনকে অ্যাডভাইজার পদ থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, সিটি ইউনিভার্সিটির ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থীরা চলতি মাসের শুরুতে ড. ইলিয়াস আল-মামুনের বিরুদ্ধে গবেষণা কার্যক্রমে অনাগ্রহ, ইন্টার্নশিপের সুযোগ সীমিত করা, শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন একাডেমিক ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি, ফার্মেসি ক্লাবের কার্যক্রমে বিলম্ব, শিল্প-প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয়হীনতা, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণসহ মোট ১৫টি অভিযোগ উত্থাপন করেন।
এক আবেদনে তারা বলেন, একই বিষয়ে পূর্বেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দাখিল করা হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বাড়তে থাকে এবং বিভাগের একাডেমিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে বলে দাবি করা হয়। এজন্য শিক্ষার্থীরা দ্রুত ও স্থায়ী সমাধানের দাবিতে পুনরায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
শিক্ষার্থীদের দাবি অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে প্রশাসন তাদের অভিযোগ গ্রহণ করলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি। পরে আন্দোলনের মুখে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ২ আগস্ট একটি অফিস আদেশ জারি করে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত ওই আদেশে বলা হয়, শিক্ষার্থীদের আনা অভিযোগ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত অধ্যাপক ড. মো. ইলিয়াস আল মামুন ২ আগস্ট থেকে সিটি ইউনিভার্সিটির ফার্মেসি বিভাগের সকল শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকবেন। একই সঙ্গে বিষয়টি বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অবগতির জন্য জানানো হয়।