বিশ্বকাপে বারবার কেন স্টেডিয়াম পরিষ্কার করেন জাপানিরা, জানুন পেছনের কারণ

১৫ জুন ২০২৬, ১০:৪৯ AM
খেলা শেষে স্টেডিয়াম পরিষ্কার করেন জাপানিরা

খেলা শেষে স্টেডিয়াম পরিষ্কার করেন জাপানিরা © সংগৃহীত

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে জাপানের ২-২ গোলে ড্রয়ের পর মাঠের লড়াইয়ের চেয়ে ভিন্ন এক দৃশ্যই বেশি আলোচনায় এসেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ১৪ জুন যুক্তরাষ্ট্রের ডালাস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচ শেষে শত শত জাপানি সমর্থককে স্টেডিয়ামের গ্যালারি পরিষ্কার করতে দেখা যায়। হাতে তাদের পরিচিত নীল রঙের আবর্জনার ব্যাগ। ম্যাচ শেষে তারা গ্যালারিতে পড়ে থাকা প্লাস্টিকের বোতল, খাবারের মোড়ক, টিস্যু ও অন্যান্য আবর্জনা কুড়িয়ে পুরো দর্শকসারিকে পরিচ্ছন্ন করে তোলেন।

এই দৃশ্যের ছবি ও ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এক্স (সাবেক টুইটার) ও ইনস্টাগ্রামে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ফুটবলপ্রেমীরা জাপানি সমর্থকদের এই আচরণের প্রশংসা করেন। তবে জাপানিদের জন্য এটি কোনো প্রচারণামূলক কর্মকাণ্ড বা সাময়িক প্রবণতা নয়; বরং এটি তাদের সংস্কৃতি ও জীবনদর্শনের গভীরে প্রোথিত একটি অভ্যাস। এমন কার্যক্রম প্রায় প্রতিটি বিশ্বকাপেই দেখা যায়।

বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টে জাপানি সমর্থকদের স্টেডিয়াম পরিষ্কার করার ঐতিহ্য নতুন নয়। ১৯৯৮ সালে ফ্রান্স বিশ্বকাপে জাপানের প্রথম অংশগ্রহণের সময় থেকেই এই চর্চা শুরু হয়। এরপর থেকে বিভিন্ন বিশ্বকাপ ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরে নিয়মিতভাবেই তাদের এমন দায়িত্বশীল আচরণ দেখা গেছে।

২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপেও জার্মানির বিপক্ষে ঐতিহাসিক ২-১ গোলের জয়ের পর খলিফা আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে নিজেদের গ্যালারি পরিষ্কার করেছিলেন জাপানি সমর্থকরা। শুধু সমর্থকরাই নন, ম্যাচ শেষে নিজেদের ড্রেসিংরুম পরিষ্কার করে রেখে যাওয়ার জন্য জাপানের খেলোয়াড়রাও বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হন। সেই ছবি ফিফার অফিসিয়াল অ্যাকাউন্ট থেকেও প্রকাশ করা হয়েছিল।

আরও পড়ুন: ৪ ধাপে কমার পর দ্বিতীয় দফায় সোনার দামে বড় লাফ, ভরিতে বাড়ল কত?

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আচরণের মূল ভিত্তি জাপানের শিক্ষা ব্যবস্থা। দেশটির স্কুলগুলোতে সাধারণত আলাদা পরিচ্ছন্নতাকর্মী থাকে না। প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকেই শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় ‘ওসৌজি জিকান’ বা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সময় পালন করতে হয়। এ সময় তারা নিজেরাই দল গঠন করে শ্রেণিকক্ষ ঝাড়ু দেয়, মেঝে পরিষ্কার করে এবং স্কুলের বিভিন্ন সাধারণ স্থান পরিচ্ছন্ন রাখে।

ওসাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক স্কট নর্থ ২০১৮ সালে বিবিসিকে বলেছিলেন, ছোটবেলা থেকেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে গড়ে ওঠা এই অভ্যাস পরবর্তীতে সামাজিক দায়িত্ববোধে রূপ নেয়। ফলে স্টেডিয়াম, পার্ক কিংবা যেকোনো জনপরিসর পরিষ্কার রাখা তাদের কাছে স্বাভাবিক দায়িত্ব হিসেবে বিবেচিত হয়।

জাপানি সামাজিক সংস্কৃতিতে অন্যের জন্য অসুবিধা সৃষ্টি না করার বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশটিতে ‘মেইওয়াকু’ নামে পরিচিত এই ধারণা অনুযায়ী অন্যের জন্য ঝামেলা বা ভোগান্তি তৈরি করা সামাজিকভাবে নিরুৎসাহিত করা হয়। তাই নিজেদের ব্যবহৃত স্থান অপরিষ্কার রেখে যাওয়া বা আবর্জনা ফেলে আসাকে তারা অসম্মানজনক আচরণ হিসেবে দেখে।

এছাড়া জাপানে বহুল প্রচলিত একটি প্রবাদ রয়েছে ‘তাতসু তোরি আতো ও নিগোসাজু’, যার অর্থ, ‘উড়ে যাওয়ার আগে পাখি তার চিহ্ন নোংরা করে রেখে যায় না।’ এই প্রবাদটিও জাপানি সমর্থকদের অনুপ্রাণিত করে। তারা বিশ্বাস করেন, কোনো স্থান ত্যাগ করার সময় সেটিকে অন্তত আগের মতো কিংবা আরও ভালো অবস্থায় রেখে যাওয়া উচিত।

বিশ্বকাপ কিংবা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় জাপানি সমর্থকরা নিজেদের দেশের প্রতিনিধি হিসেবেও বিবেচনা করেন। তাই বিদেশের মাটিতে নিজেদের আচরণের মাধ্যমে দেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরার চেষ্টা করেন তারা। পরিচ্ছন্নতা জাপানি সংস্কৃতির গভীরে প্রোথিত একটি মূল্যবোধ হওয়ায় স্টেডিয়াম পরিষ্কার করাকে তারা সম্মান, দায়িত্ববোধ এবং সংস্কৃতির অংশ হিসেবেই দেখেন।

ডালাসে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে জাপানি সমর্থকদের এই উদ্যোগ আবারও প্রমাণ করেছে, তাদের কাছে শুধু মাঠের ফলাফলই নয়, পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীলতা এবং আয়োজক দেশের প্রতি সম্মান প্রদর্শনও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এই সংস্কৃতির কারণেই বিশ্বকাপ এলেই জাপানি সমর্থকদের স্টেডিয়াম পরিষ্কারের দৃশ্য বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয় এবং ক্রীড়াঙ্গনে দায়িত্বশীল সমর্থকের অনন্য উদাহরণ হিসেবে বারবার প্রশংসিত হয়।

এনসিপির জুলাই পদযাত্রার সমাবেশ চলাকালে বিস্ফোরণ
  • ০৬ জুলাই ২০২৬
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামীপন্থী উপাচার্য বদরুজ্জামান ভূঁ…
  • ০৬ জুলাই ২০২৬
জনগণকে প্রতিশ্রুতি দিলেও বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে বাজেটে কার্যক…
  • ০৬ জুলাই ২০২৬
ট্রাস্টি বোর্ড ভেঙে ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটিতে প্রশাসক নিয়োগ …
  • ০৬ জুলাই ২০২৬
বাবার পরিশ্রম-সততা ছিল অনুপ্রেরণা, আনসার সদস্যের ছেলে বিসিএ…
  • ০৬ জুলাই ২০২৬
সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উপপরিচালক নিয়োগ
  • ০৬ জুলাই ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • JULY 26, 2026
  • Admission Test
  • AUGUST 01, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
FALL 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence