ইবি শিক্ষিকা ও অভিযুক্ত কর্মচারী © টিডিসি সম্পাদিত
নিজ বিভাগের অফিস কক্ষে কর্মচারীর হাতে প্রাণ হারিয়েছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে তার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। এতে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ২০ এর অধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে।
যে বিভাগে একজন কর্মচারী দীর্ঘদিন চাকরি করেছেন সেই বিভাগের সভাপতি কে হত্যা করতে এত গুলো ছুরিকাঘাতের ঘটনা ভাবাচ্ছে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের। কর্মচারী ফজলুর এ কেমন ক্ষোভ! একজন মানুষের প্রতি আরেকজন মানুষের কী পরিমাণ রাগ, ক্ষোভ, ঘৃণা জমা থাকলে তার বহিঃপ্রকাশ এতো নির্মম হতে পারে সেটাই ভাবছেন সংশ্লিষ্টরা।
নিহত শিক্ষিকার ময়নাতদন্তের ও এত সংখ্যক আঘাতের ব্যাপারে নিশ্চিত করেছেন কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের আরএমও ডা. হোসেন ইমাম ও মেডিকেল অফিসার ডা. রুমন রহমান। আজ সকালে ময়নাতদন্তের পরে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করে পুলিশ। পরে পরিবারের সদস্যরা লাশ কুষ্টিয়া শহরের বাসায় নিয়ে যান।
আরএমও হোসেন ইমাম বলেন, নিহত শিক্ষকের গলার নিচে সজোরে আঘাত করা হয়েছে। এতে গভীর ক্ষত হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এতেই তার মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া বুক, পেট, হাত–পাসহ বিভিন্ন স্থানে অন্তত ২০টি আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। তাতে মনে হয়েছে, ঘটনার সময় ধস্তাধস্তি হয়েছে। বাঁচার জন্য শিক্ষক হাত দিয়ে ঠেকাতে গেছেন, এতে হাতেও আঘাত লেগেছে। যেভাবে আঘাত করা, তা খুবই ক্ষোভ ও আক্রোশের বহিঃপ্রকাশ মনে হচ্ছে।
নিহত আসমা সাদিয়া রুনা কুষ্টিয়া শহরের কোর্টপাড়া এলাকায় বসবাস করতেন। তিনি তিন মেয়ে ও এক ছেলেসহ চার সন্তানের জননী। ইমতিয়াজ-রুনা দম্পতির ঘরের চার সন্তানের মধ্যে প্রথম সন্তানের বয়স ১১ বছর, দ্বিতীয় সন্তানের বয়স ৯ বছর, তৃতীয় সন্তানের বয়স দেড় বছর এবং তাদের সবচেয়ে ছোট বাচ্চার বয়স ৬ মাস। নিহতের সহকর্মী ও স্বজনরা এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।