চিরনিদ্রায় শায়িত ইবি শিক্ষিকা © টিডিসি ফটো
চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা। গতকাল বিকেলে নিজ বিভাগের অফিস কক্ষে কর্মচারীর ছুরিকাঘাতে প্রাণ হারান তিনি।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বাদ জোহর কুষ্টিয়া শহরের পৌর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে পৌর কেন্দ্রীয় গোরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়।
জানা গেছে, শিক্ষিকা আসমা সাদিয়া ব্যক্তিগত জীবনে চার সন্তানের জননী। তার স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান কুষ্টিয়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের পরিদর্শক। ইমতিয়াজ-রুনা দম্পতির ঘরের চার সন্তানের মধ্যে মধ্যে তিনজন কন্যা সন্তান ও এক পুত্র সন্তান রয়েছে তার। । তাদের প্রথম সন্তানের বয়স ১১ বছর, দ্বিতীয় সন্তানের বয়স ৯ বছর, তৃতীয় সন্তানের বয়স দেড় বছর এবং তাদের সবচেয়ে ছোট বাচ্চার বয়স ৬ মাস। স্বামীর সাথে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের পাশেই একটি বাসায় বসবাস করতেন রুনা। এছাড়াও ৩ ভাই-বোনের মধ্যে তিনি সবার বড় বোন ছিলেন।
জানাজায় নিহত শিক্ষিকার বাবা, স্বামী, আত্মীয় স্বজনরা ছাড়াও কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলী, প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলাম, সহকারী প্রক্টর, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও ছাত্রসংগঠনের নেতা ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। এসময় এলাকাজুড়ে নেমে আসে শোকের ছায়া। একজন সাধারণ কর্মচারী কর্তৃক এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রকাশ্য শাস্তি দাবি করেছেন আত্মীয় স্বজন ও স্থানীয় এলাকাবাসী।
শিক্ষক সাদিয়ার স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘ইফতারের অনুষ্ঠানের দিনে কেউ একটা মানুষকে নৃশংসভাবে হত্যা করতে পারে তা আমার জানা ছিল না, নিজের জীবন দিয়ে তা দেখতে হলো। ১৩ সেপ্টেম্বর আমাদের চতুর্থ সন্তান জন্ম নেওয়ার পর আমি তাকে নিয়ে সনো হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম। ১৯ তারিখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছে। একটা দিনের জন্যও তিনি তার দায়িত্ব থেকে অনুপস্থিত হয়নি। আমি প্রশাসনের কাছে, উপস্থিত সকলের কাছে আবেদন করছি তার কোনো ভুলত্রুটি থাকলে ক্ষমা করে দেবেন। এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পেছনে হত্যাকারী একা জড়িত নয়, সবাইকেই শাস্তির আওতায় আনতে হবে।’