কর্মচারীর হাতে নিহত ইবি শিক্ষিকার জানাজা সম্পন্ন

০৫ মার্চ ২০২৬, ০৩:০৩ PM
কুষ্টিয়া শহরের পৌর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা জানাজা অনুষ্ঠিত

কুষ্টিয়া শহরের পৌর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা জানাজা অনুষ্ঠিত © টিডিসি

নিজ বিভাগের কর্মচারীর হাতে নিহত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনার জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বাদ জোহর কুষ্টিয়া শহরের পৌর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উপস্থিত শিক্ষক শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে নেমে আসে শোকের ছায়া। পরে তাকে পৌর কেন্দ্রীয় গোরস্তানে দাফন করা হয়।

জানাজায় নিহত শিক্ষিকার বাবা, স্বামী, আত্মীয় স্বজনরা ছাড়াও কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলী, প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলাম, সহকারী প্রক্টর, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও ছাত্রসংগঠনের নেতা ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় আসমা সাদিয়ার বাবা বলেন, ‘সবাই আমার মেয়ের জন্য দোয়া করবেন, তাকে যে আল্লাহ তাআলা জান্নাতবাসী করেন। সেই সঙ্গে যারা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, সবার যেন বিচার নিশ্চিত হয়। আর যেন কারও সঙ্গে এ রকম ঘটনা না ঘটে আল্লাহর কাছে দোয়া করি।’

শিক্ষক সাদিয়ার স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘ইফতারের অনুষ্ঠানের দিনে কেউ একটা মানুষকে নৃশংসভাবে হত্যা করতে পারে তা আমার জানা ছিল না, নিজের জীবন দিয়ে তা দেখতে হলো। ১৩ সেপ্টেম্বর আমার চতুর্থ সন্তান জন্ম নেxয়ার পর আমি তাকে নিয়ে সনো হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম। ১৯ তারিখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছে। একটা দিনের জন্যও তিনি তার দায়িত্ব থেকে অনুপস্থিত হয়নি। আমি প্রশাসনের কাছে, উপস্থিত সকলের কাছে আবেদন করছি তার কোনো ভুলত্রুটি থাকলে ক্ষমা করে দেবেন। এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পেছনে হত্যাকারী একা জড়িত নয়, সবাইকেই শাস্তির আওতায় আনতে হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব নসরুল্লাহ বলেন, ‘রুনা অত্যন্ত বিনয়ী ছিলেন। গতকাল আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে আমি স্তম্ভিত হয়ে গেছি। এ রকম কোনো মর্মান্তিক ঘটনা আমার জীবনে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দেখিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন, সব শিক্ষক-ছাত্রসমাজ আজ শোকাভিভূত। আমরা রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের কাছে হত্যাকারীর উপযুক্ত শাস্তি দাবি করি। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুসারে রুনার পরিবারের যত প্রাপ্য আছে, সব কিছু আমরা নিশ্চিত করব। রুনার পরিবারে চারটি সন্তান আছে, এ পরিবারের পাশে থেকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করবে ইনশাআল্লাহ।’

কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা বলেন, ‘তিনি যদিও আমার সরাসরি শিক্ষক না কিন্তু আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক হিসেবে আমি সবাইকে আমার শিক্ষক মনে করি। সরকারের কাছে আহ্বান জানাব এই বিচারহীনতা থামাতে হবে নইলে আজকে বিশ্ববিদ্যালয় ঘটেছে কাল কুষ্টিয়ার কলেজের ঘটবে। যেহেতু ইসলামের নিয়মনীতি শতভাগ বাস্তবায়ন করতে পারছি না, রাষ্ট্রের আইন যেন শতভাগ কার্যকর করা হয়। যে যে পরিমাণ অপরাধী তাকে ওই পরিমাণ শাস্তির আওতায় এনে দ্রুত কার্যকর করতে হবে।’

ভাঙ্গুড়ায় ভেজাল দুধ তৈরির ৬ ড্রাম জেলি ধ্বংস, জরিমানা
  • ০৫ মার্চ ২০২৬
সাংবাদিক আনিস আলমগীরের এখনই মুক্তি মিলছে না
  • ০৫ মার্চ ২০২৬
নতুন বিজ্ঞানমন্ত্রীর কাছে প্রত্যাশা
  • ০৫ মার্চ ২০২৬
শিক্ষকদের উৎসব ভাতা বৃদ্ধির ডিও অর্থমন্ত্রীর কাছে পাঠাল শিক…
  • ০৫ মার্চ ২০২৬
পাকিস্তান সিরিজের প্রস্তুতিতে ‘বিশেষ ম্যাচ’ খেলবেন শান্ত-তা…
  • ০৫ মার্চ ২০২৬
মিল্টন বললেন— ‘ফান্ডের পরিমাণ ২৫ কোটি’, এজাজের উত্তর— ‘১২৬০…
  • ০৫ মার্চ ২০২৬