বাংলাদেশ ব্যাংকের নবনিযুক্ত গভর্নরের নিয়োগ বাতিলের দাবি

০৫ মার্চ ২০২৬, ০২:৪৯ PM
বাংলাদেশ ব্যাংকের নবনিযুক্ত গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান

বাংলাদেশ ব্যাংকের নবনিযুক্ত গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান © টিডিসি সম্পাদিত

কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার স্বার্থে নবনিযুক্ত গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের নিয়োগ বাতিলের দাবি জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। দেশের আর্থিক খাতের শীর্ষ এ পদে স্বার্থের সংঘাতমুক্ত ভূমিকা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করে সংস্থাটি।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি উত্থাপন করেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। ‘বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের সুশাসন ও দুর্নীতিবিরোধী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ কৌশলগত প্রাধান্য: টিআইবির সুপারিশ’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাম্প্রতিক রদবদল নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তার মতে, এমন এক ব্যক্তিকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত করা উচিত, যিনি সংশ্লিষ্ট খাতে পরীক্ষিত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এবং যাঁর কোনো ধরনের স্বার্থের দ্বন্দ্ব নেই। 

তিনি আরও বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংককে দলীয়করণের প্রভাবমুক্ত রাখতে হবে, অন্যথায় দেশের অর্থনীতি ও ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা অসম্ভব হয়ে পড়বে। টিআইবি মনে করে, বর্তমান নিয়োগটি রাজনৈতিক বিবেচনায় হওয়ায় তা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীন সত্তাকে ক্ষুণ্ন করতে পারে।

গত ২৫ ফেব্রুয়ারি খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ ড. আহসান এইচ মনসুরকে গভর্নরের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং তার স্থলাভিষিক্ত করা হয় মো. মোস্তাকুর রহমানকে। সরকারের এ আকস্মিক সিদ্ধান্তের পরপরই আর্থিক খাতের বিশ্লেষক ও নাগরিক সমাজের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। 

আরও পড়ুন: শিক্ষকদের বদলি নিয়ে দুই নির্দেশনা শিক্ষামন্ত্রীর

টিআইবি বলছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতো সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানে পেশাদারিত্বের পরিবর্তে অন্য কোনো বিষয়কে প্রাধান্য দেওয়া হলে তা দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক সুশাসনের জন্য ক্ষতিকর হবে। সংস্থাটির পক্ষ থেকে সরকারের এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে একজন যোগ্য ও বিতর্কমুক্ত ব্যক্তিকে গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, কেবল গভর্নরের পরিবর্তনই নয় বরং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সামগ্রিক কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন। ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থ পাচার রোধে বাংলাদেশ ব্যাংককে যে ধরনের কঠোর অবস্থান নেওয়া উচিত, তা নিশ্চিত করতে হলে একটি স্বাধীন নীতিনির্ধারণী পর্ষদ থাকা আবশ্যক। 

টিআইবি আশা প্রকাশ করে, সরকার তাদের এই সুপারিশ আমলে নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মর্যাদা ও কর্মক্ষমতা বৃদ্ধিতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তারা দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের তাগিদ দেন।

ভাঙ্গুড়ায় ভেজাল দুধ তৈরির ৬ ড্রাম জেলি ধ্বংস, জরিমানা
  • ০৫ মার্চ ২০২৬
সাংবাদিক আনিস আলমগীরের এখনই মুক্তি মিলছে না
  • ০৫ মার্চ ২০২৬
নতুন বিজ্ঞানমন্ত্রীর কাছে প্রত্যাশা
  • ০৫ মার্চ ২০২৬
শিক্ষকদের উৎসব ভাতা বৃদ্ধির ডিও অর্থমন্ত্রীর কাছে পাঠাল শিক…
  • ০৫ মার্চ ২০২৬
পাকিস্তান সিরিজের প্রস্তুতিতে ‘বিশেষ ম্যাচ’ খেলবেন শান্ত-তা…
  • ০৫ মার্চ ২০২৬
মিল্টন বললেন— ‘ফান্ডের পরিমাণ ২৫ কোটি’, এজাজের উত্তর— ‘১২৬০…
  • ০৫ মার্চ ২০২৬