মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, যশোর © টিডিসি সম্পাদিত
২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে ৯ম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের নিবন্ধন কার্যক্রমের সময়সূচি ও নিয়মাবলি প্রকাশ করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, যশোর। বোর্ডের আওতাধীন স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ও পাঠদানের অনুমতিপ্রাপ্ত সব মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের তথ্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইনে আপলোড করতে হবে।
যশোর শিক্ষা বোর্ডের ১৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখের বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ৮ম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার তিন বছরের মধ্যে শিক্ষার্থীকে অবশ্যই ৯ম শ্রেণিতে ভর্তি হতে হবে। ২০২৩ ও ২০২৪ সালে ৮ম শ্রেণি উত্তীর্ণ এবং ২০২৫ শিক্ষাবর্ষে ৮ম শ্রেণিতে নিবন্ধন করা শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ বিদ্যালয় থেকে প্রশংসাপত্র নিয়ে যেকোনো বিদ্যালয়ে ৯ম শ্রেণিতে ভর্তি হতে পারবে। এ ক্ষেত্রে বোর্ডের পূর্বানুমতির প্রয়োজন হবে না। ৯ম শ্রেণিতে ভর্তি করা সব শিক্ষার্থীর তথ্য অনলাইনে আপলোড করতে হবে। অনলাইনে তথ্য না থাকলে ওই শিক্ষার্থীকে নিবন্ধিত শিক্ষার্থী হিসেবে গণ্য করা যাবে না।
নিবন্ধন কমিটি গঠন: শিক্ষার্থীদের নিবন্ধনের তথ্য আপলোডের জন্য শিক্ষকদের সমন্বয়ে তিন সদস্যের নিবন্ধন কমিটি গঠন করতে হবে। কমিটি আপলোড করা শিক্ষার্থীদের তথ্য প্রিন্ট করে যাচাই করবে। এরপর সব সদস্যের স্বাক্ষরসহ প্রধান শিক্ষকের অনুমোদন নিয়ে তা প্রতিষ্ঠানে সংরক্ষণ করতে হবে। তথ্যের কোনো ভুলত্রুটির জন্য প্রতিষ্ঠান প্রধান ও কমিটির সদস্যরা যৌথভাবে দায়ী থাকবেন।
বিভাগ বা গ্রুপ নির্বাচন: নিবন্ধন কার্যক্রমে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মানবিক, বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখা এবং সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে অবহিত করবেন। পরে শিক্ষার্থীরা অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনা করে বিভাগ বা গ্রুপ নির্বাচন করবে। এরপর নির্ধারিত বিভাগ বা গ্রুপে নিবন্ধনের জন্য প্রধান শিক্ষক বরাবর লিখিত আবেদন করতে হবে। আবেদনে উল্লেখ করা বিভাগ বা গ্রুপ অনুযায়ী দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন। শিক্ষার্থীদের ৮ম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল বিবেচনা করে গ্রুপ বিভাজন করা যেতে পারে।
কম্পিউটার ও ইন্টারনেটের সুবিধা নেই এমন প্রতিষ্ঠানকে নিকটবর্তী ইউনিয়ন ই-সেবা কেন্দ্রের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের তথ্য আপলোড করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই দোকান বা ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানে নিবন্ধনের কাজ করা যাবে না।
শিক্ষার্থীদের আপলোড করা তথ্যের হার্ডকপি বা প্রিন্ট কপির সঙ্গে পরবর্তী সময়ে নিবন্ধন কার্ড যাচাই করতে হবে। প্রয়োজন হলে পরীক্ষার ফরম পূরণের আগে তথ্য সংশোধন করতে হবে। সংরক্ষণের প্রয়োজন হলে প্রধান শিক্ষকের স্বাক্ষর করা নিবন্ধন তথ্যের প্রিন্ট কপি বোর্ডের সংশ্লিষ্ট শাখায় জমা দিতে হবে।
তথ্য জমা দানের সময়: ১ মার্চ ২০২৬ তারিখের ৯ম শ্রেণির হাজিরা খাতা অনুযায়ী উপস্থিত ও অনুপস্থিত সব শিক্ষার্থীর তথ্য নিবন্ধনের জন্য দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে শ্রেণির রোলের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। ভুলবশত কোনো শিক্ষার্থী নিবন্ধন থেকে বাদ পড়লে এর দায় প্রতিষ্ঠান প্রধানকে নিতে হবে। জেলা বা উপজেলা বয়েজ স্কাউট ও গার্লস গাইডের ফি বকেয়া থাকলে তা পরিশোধ করে রশিদ দাখিল করতে হবে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ফির চেয়ে বেশি অর্থ কোনোভাবেই আদায় করা যাবে না।
নিবন্ধনের নিয়ম: যশোর শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে গিয়ে বাম পাশের মেন্যু থেকে ইনস্টিটিউশন প্যানেলে ক্লিক করে প্রতিষ্ঠানের ইআইআইএন ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করতে হবে। এরপর ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে (এসএসসি ২০২৭) অ্যাপ্লিকেশন মেন্যুতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের তথ্য আপলোড, ফি প্রদান এবং ফাইনাল সাবমিট করে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে।
বয়স: বয়সের ক্ষেত্রে নিবন্ধনের সময় খেয়াল রাখতে হবে, পরীক্ষা বছরের ১ জানুয়ারি শিক্ষার্থীর বয়স ন্যূনতম ১৪ বছর ১ দিন এবং ৩১ ডিসেম্বর সর্বোচ্চ ২০ বছর হতে হবে।
বিশেষ অনুমতি: কোনো বিদ্যালয়ে চতুর্থ বিষয় এবং বিজ্ঞান বা ব্যবসায় শিক্ষা শাখার স্থায়ী অনুমতি না থাকলে প্রতি বিষয়ের জন্য ২ হাজার টাকা এবং প্রতি শাখার জন্য ৩ হাজার টাকা বিশেষ অনুমতি ফি সোনালী সেবার মাধ্যমে সচিবের অনুকূলে জমা দিতে হবে। তবে সংশ্লিষ্ট বিষয় ও শাখা চালুর জন্য উপযুক্ত শিক্ষক, শিক্ষা সরঞ্জাম ও অবকাঠামো থাকতে হবে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে বিশেষ অনুমতির আবেদন করে বোর্ডের অনুমতি নিতে হবে। অন্যথায় ওই শাখা বা বিষয়ের শিক্ষার্থীদের তথ্য অনলাইনে পাঠানো যাবে না।
নিবন্ধন ফি: ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিবন্ধন ফি শিক্ষার্থীপ্রতি ১০০ টাকা। এ ছাড়া ক্রীড়া ফি ৫০ টাকা, বয়েজ স্কাউট বা গার্লস গাইড ফি ২৫ টাকা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফি ১৫ টাকা, রেড ক্রিসেন্ট ফি ১৬ টাকা এবং বিএনসিসি ফি ৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে শিক্ষার্থীপ্রতি মোট ফি ২১৬ টাকা। বিলম্বে নিবন্ধনের জন্য শিক্ষার্থীপ্রতি অতিরিক্ত ৫০ টাকা ফি দিতে হবে।
অন্যান্য ফি: রেড ক্রিসেন্ট ফি শিক্ষার্থীপ্রতি ৪০ টাকা হারে আদায় করতে হবে। আদায়কৃত অর্থের ৬০ শতাংশ সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আলাদা হিসাব নম্বরে যুব রেড ক্রিসেন্ট কার্যক্রম পরিচালনার জন্য রাখতে হবে এবং বাকি ৪০ শতাংশ শিক্ষা বোর্ডে পাঠাতে হবে।
আরও দেখুন: জামালপুরের ঐতিহ্যবাহী পিঠালি, শত বছরের স্বাদে আজও জমে ওঠে উৎসবের আয়োজন
প্রতিষ্ঠানপ্রতি ফি: পাঠ্যসূচি ও মান বণ্টন ফি ৫১ টাকা, বার্ষিক ক্রীড়া অধিভুক্তি ফি ৩০০ টাকা এবং বার্ষিক বয়েজ স্কাউট বা গার্লস গাইড অধিভুক্তি ফি ২০ টাকা। সব মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানপ্রতি মোট ফি ৩৭১ টাকা।
নিবন্ধনের সময়সূচি: বিলম্ব ফি ছাড়া নিবন্ধন ও সোনালী সেবার টাকা জমা দেওয়ার সময় ১৮ আগস্ট থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত। বিলম্ব ফিসহ নিবন্ধন ও সোনালী সেবার টাকা জমা দেওয়া যাবে ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ১৯ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত।
ফি জমা: বোর্ডের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, নির্ধারিত ফি সোনালী সেবার মাধ্যমে জমা দিতে হবে এবং ব্যাংক থেকে পাওয়া সোনালী সেবার জমাদানকারীর অংশ সংরক্ষণ করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই টিটি, ডিডি বা পে-অর্ডার গ্রহণ করা হবে না।
যোগাযোগ: নিবন্ধনসংক্রান্ত সহায়তার জন্য যশোর শিক্ষা বোর্ডের ০১৭১১-২৭১৪৯৭, ০১৭৩৪-২১৩২৯১, ০১৭১২-৯৬৪০৫২, ০১৭১৫-৮৫১১৪৫ ও ০১৭৩১-৪৫৪৪০৯ নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে।
নিবন্ধন সংক্রান্ত বিস্তারিত জানতে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, যশোরের বিজ্ঞপ্তি দেখুন।
সূত্র: মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, যশোর