মাউশি লোগো এবং অধ্যাপক ড. সোহেল © ফাইল ছবি
সরকারি চাকরিজীবীদের ন্যায় এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও নবম পে-স্কেল অনুযায়ী বেতন পাবেন। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা।
তারা বলছেন, পে-স্কেলের গেজেট জারির প্রায় এক সপ্তাহ হতে চললেও এখনো এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের গেজেট জারির উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এর ফলে এক ধরনের অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। শিক্ষকদের বেসিক সরকারি চাকরিজীবীদের ন্যায় হলেও তাদের ভাতা অনেক কম। অল্প বেতনে তাদের জীবিকা নির্বাহ কষ্টসাধ্য হয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় অতি দ্রুত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের পৃথক পে-স্কেলের গেজেট জারির দাবি জানিয়েছেন তারা।
শিক্ষকদের এই অনিশ্চয়তার বিষয় নিয়ে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস কথা বলেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেলের সঙ্গে। তিনি জানিয়েছেন, ‘শিক্ষক-কর্মচারীদের হতাশ হওয়ার কিছু নেই। সরকার তাদের বিষয়ে আন্তরিক। আগামী সপ্তাহে এ বিষয়ে অগ্রগতি হতে পারে।’
এদিকে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও নতুন পে-স্কেল পাবেন বলে ঘোষণা দিয়েছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কোনো কার্যক্রমই শুরু হয়নি। আগামী সপ্তাহে শিক্ষকদের পে-স্কেলের গেজেট নিয়ে কার্যক্রম শুরু হতে পারে বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নবম জাতীয় পে-স্কেলে বেসরকারি শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্ত করতে হলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠাতে হবে। এই চিঠির প্রেক্ষিতেই বেসরকারি জনবলকে নবম পে-স্কেলের সুবিধা দিতে সম্মতি দিয়ে চিঠি দেবে অর্থ মন্ত্রণালয়। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে গেজেট জারি করা সম্ভব হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ে সম্মতি না পাওয়া পর্যন্ত পৃথক গেজেট জারি করা সম্ভব হবে না।
সূত্রের তথ্য বলছে, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের পে-স্কেলে অন্তর্ভুক্তির পৃথক গেজেট জারি নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের উচ্চ পর্যায়ে মৌখিকভাবে আলোচনা হয়েছে। তবে এই আলোচনা আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের কোনো অংশ নয়। আগামী সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশে ফেরার পর এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।
নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের এক কর্মকর্তা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা দেশে না থাকায় এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের পে-স্কেলের পৃথক গেজেটের বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেওয়া যায়নি। আগামী সপ্তাহে এ বিষয়ে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।’