কুরবানির প্রকৃত শিক্ষা হলো আত্মত্যাগ ও মানবিকতা— বুটেক্স উপাচার্য অধ্যাপক ড. জুলহাস উদ্দিন

২৮ মে ২০২৬, ০৩:০৬ PM
উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইঞ্জিনিয়ার মো. জুলহাস উদ্দিন

উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইঞ্জিনিয়ার মো. জুলহাস উদ্দিন © সংগৃহীত

পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইঞ্জিনিয়ার মো. জুলহাস উদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর পবিত্র ঈদ-উল-আযহা মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এই উৎসব যাতে সবার মধ্যে গড়ে তোলে পারস্পরিক সৌহার্দ, ভ্রাতৃত্ববোধ, পরমতসহিষ্ণুতা ও সম্প্রীতি তিনি সে কামনা ব্যক্ত করেছেন। পাশাপাশি ঈদকে ঘিরে নিজের ভাবনা, শৈশবের স্মৃতি এবং বর্তমান সময়ে সমাজে ঈদুল আযহার তাৎপর্য তুলে ধরেন ডেইলি ক্যাম্পাসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন আলভী আহমেদ।

দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস: পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে দেশবাসী ও বুটেক্স পরিবারের প্রতি আপনার বার্তা কী থাকবে?

উপাচার্য অধ্যাপক ড.জুলহাস উদ্দিন: পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে বুটেক্সের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, অ্যালুমিনিসহ বুটেক্স পরিবার এবং দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি: ঈদ মোবারক।

দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস: ঈদুল আযহার মূল শিক্ষা ও তাৎপর্য আপনি কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন?

উপাচার্য অধ্যাপক ড.জুলহাস উদ্দিন: আমার দৃষ্টিতে ঈদুল আজহার মূল আকর্ষণ হলো মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে অটল ইমান, আনুগত্য এবং সবোর্চ্চ আত্মত্যাগের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করা।

দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস: কুরবানির চেতনা বর্তমান সমাজে কতটা প্রতিফলিত হচ্ছে? আত্মত্যাগ ও মানবিকতার শিক্ষা ব্যক্তি ও সমাজ গঠনে কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

উপাচার্য অধ্যাপক ড.জুলহাস উদ্দিন: কুরবানির চেতনা বর্তমান সমাজে অনেকটাই কম প্রতিফলিত হচ্ছে বলে মনে করি। কুরবানির যে তাৎপর্য অর্থাৎ নিজের পশুত্বকে কুরবানি দিয়ে অন্তরকে পরিশুদ্ধ করা এটা বর্তমান সমাজে অপরিসীম গুরুত্ব বহন করে। এটির অনুসরণ বৃদ্ধি করা উচিত। এতে সমাজে পরিবর্তন আসবে এবং পারস্পরিক বিশ্বাস, সৌহার্দ্য, সম্প্রীতির বন্ধন দৃঢ় হবে।

দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস: তরুণ প্রজন্মের মাঝে ঈদুল আযহার প্রকৃত মূল্যবোধ ছড়িয়ে দিতে কী করা প্রয়োজন বলে মনে করেন?

উপাচার্য অধ্যাপক ড. জুলহাস উদ্দিন: তরুণ প্রজন্ম কে ইসলামী শিক্ষায় আরও বেশি মনোযোগী করতে হবে পাশাপাশি ঈদুল আযহার প্রকৃত মূল্যবোধ ছড়িয়ে দিতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সমাজ—সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

এক্ষেত্রে আমাদের তরুণদের কাছে ঈদের বাহ্যিক আয়োজনের চেয়ে এর অন্তর্নিহিত শিক্ষা—ত্যাগ, সংযম, দায়িত্ববোধ ও মানবসেবার গুরুত্ব তুলে ধরতে হবে। কোরবানি কেবল পশু জবাইয়ের আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি মানুষের ভেতরের অহংকার, স্বার্থপরতা ও নেতিবাচক প্রবণতাকে ত্যাগ করারও প্রতীক—এই বোধ তৈরি করা জরুরি। 

দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস: কুরবানির সময় সমাজের অসচ্ছল মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সংস্কৃতি কতটা জরুরি বলে আপনি মনে করেন?

উপাচার্য অধ্যাপক ড. জুলহাস উদ্দিন: আমি এটা অতিজরুরী বলে মনে করি। বর্তমান বাজারে দ্রব্যমূল্যের যে উর্ধ্বগতি এতে যারা অসহায় দরিদ্র তারা যা উপার্জন করে তা দিয়ে মাংস কিনে খেতে পারে না। আবার তাদের কুরবানি দেয়ারও সামর্থ থাকে না। তাই যারা কুরবানি দেয়ার সামর্থ রাখেন এবং কুরবানি দেন তাদের অবশ্যই উচিত কুরবানির মাংসের একভাগ সমাজের অসচ্ছল মানুষদের মাঝে বিতরণ করা। এতে অসহায় মানুষগুলো ও ঈদের আনন্দে শরিক হতে পারবে। 

দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস: পরিবেশসম্মত ও স্বাস্থ্যকরভাবে কুরবানি সম্পন্ন করার বিষয়ে আপনার পরামর্শ কী?

উপাচার্য অধ্যাপক ড.জুলহাস উদ্দিন: আমি সকলকে অনুরোধ করব কুরবানির বর্জ্য যত্রতত্র না ফেলে সিটি করপোরেশনের আইন অনুযায়ী  যথাস্থানে ফেলতে। যাতে পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা সহজেই এবং দ্রুত বর্জ্য অপসারণ করতে পারে।

দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস: বর্তমানে কুরবানি ঈদ কীভাবে উপভোগ করে থাকেন? ছোটবেলার ঈদুল আযহার কোনো স্মৃতি কি এখনও আপনাকে নাড়া দেয়?

উপাচার্য অধ্যাপক ড. জুলহাস উদ্দিন: বর্তমানে ঈদের দিন নিজের পরিবার, বুটেক্স পরিবার এবং সমাজের আপনজনদের সময় দেয়ার মাধ্যমে ঈদের দিনটা উপভোগ করে থাকি। সরকারি অনুষ্ঠানেও উপস্থিত থাকতে হয়। ছোটবেলার একটা মজার স্মৃতি এখনো মনে পড়ে। ঈদের সময় নতুন পোশাক ও জুতো কিনে তা লুকিয়ে রাখতাম। ঈদের দিন সকালে বের করতাম চমকে দেওয়ার জন্য। ঈদের দিনে সারাদিন বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতাম ও খেলাধুলা করতাম।

দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস: প্রবাসী ও পরিবার থেকে দূরে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য আপনার বিশেষ বার্তা কী?

উপাচার্য অধ্যাপক ড. জুলহাস উদ্দিন: তাদের জন্যও শুভেচ্ছা এবং শুভ কামনা। ঈদ মোবারক। দায়িত্ব পালনে সকলকে সাময়িক ত্যাগ স্বীকার করতে হবে।

দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস: বর্তমান বৈশ্বিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে ঈদুল আযহার শিক্ষা কতটা প্রাসঙ্গিক বলে মনে করেন?

উপাচার্য অধ্যাপক ড. জুলহাস উদ্দিন: বর্তমান বৈশ্বিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে ঈদুল আযহার শিক্ষা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ও তাৎপর্যপূর্ণ। আমি মনে করি, এই উৎসব কেবল ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি মানবিক মূল্যবোধ, সামাজিক দায়িত্ববোধ এবং আত্মত্যাগের এক গভীর শিক্ষা বহন করে। আজকের বিশ্বে আমরা ভোগবাদ, অসহিষ্ণুতা, বৈষম্য ও নৈতিক সংকটের মুখোমুখি। এই প্রেক্ষাপটে ঈদুল আযহা আমাদের শেখায়—নিজের স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে বৃহত্তর মানবকল্যাণের কথা ভাবতে। হযরত ইবরাহিম (আ.)-এর ত্যাগের আদর্শ আমাদের দায়িত্ববোধ, ধৈর্য ও নৈতিক দৃঢ়তার শিক্ষা দেয়। একই সঙ্গে কোরবানির মাধ্যমে সমাজের অসচ্ছল মানুষের সঙ্গে সম্পদ ভাগাভাগি করার যে চর্চা, তা সামাজিক সাম্য ও সহমর্মিতাকে শক্তিশালী করে।

দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস: পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে জাতির উদ্দেশ্যে আপনার শেষ বার্তা কী?

উপাচার্য অধ্যাপক ড. জুলহাস উদ্দিন: ঈদুল আজহার ত্যাগের মহিমায় উজ্জীবিত বাংলাদেশ আরও এগিয়ে যাবে। কেবল ব্যক্তিকেন্দ্রিক চিন্তা না করে সমাজের অন্যদের নিয়েও চিন্তা ভাবনা করতে হবে। দেশপ্রেম নিয়ে মিলেমিশে কাজ এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে এবং বর্তমান সরকারের সুযোগ্য নেতৃত্বে উন্নত, সুখী- সমৃদ্ধ দেশ হবে ইনশাআল্লাহ।

স্কুলের ছাত্রাবাসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড— প্রাণ গেল ঘুমিয়ে থাকা …
  • ২৮ মে ২০২৬
স্থগিত হলো তিতুমীর কলেজ শিবিরের কোরবানির আয়োজন, কর্তৃপক্ষ ব…
  • ২৮ মে ২০২৬
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষে বড় নিয়োগ, পদ ১৩৯, সময় বাড়ল আবেদনের
  • ২৮ মে ২০২৬
হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে না ফেরার দেশে বাংলাদেশ ব্যা…
  • ২৮ মে ২০২৬
ঈদের দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল দুই তরুণের
  • ২৮ মে ২০২৬
রিয়াল মাদ্রিদে যাওয়ার গুঞ্জন, যা বলছেন স্কালোনি
  • ২৮ মে ২০২৬