বিএমইউর গবেষণা
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে এই গবেষণা ফলাফল প্রকাশ করা হয় © সংগৃহীত
বাংলাদেশে তরুণ ডায়াবেটিস রোগীদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ প্রচলিত টাইপ-১ বা টাইপ-২ নয়, বরং জিনগতভাবে ভিন্ন বিশেষ ধরণের ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) গবেষকদের সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে, সন্দেহভাজন তরুণ ডায়াবেটিকদের প্রতি পাঁচজনের একজন ‘ম্যাচিউরিটি অনসেট ডায়াবেটিস ইন ইয়াং’ বা মডিতে আক্রান্ত, যা সঠিকভাবে শনাক্ত না হলে চিকিৎসা ব্যবস্থায় জটিলতা তৈরি হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বাস্তবতায় বাংলাদেশে জেনেটিক গবেষণা ও নির্ভুল নির্ণয় পদ্ধতির ওপর জোর দেওয়া জরুরি।
আজ বৃস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) শহীদ ডা. মিলন হলে আয়োজিত ‘ডিসেমিনেশন অব পাবলিশড পিএইচডি রিসার্চ অব ডা. মাশফিকুল হাসান’ শীর্ষক গবেষণা ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিএমইউর এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এম এ হাসানাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে গবেষক ডা. মাশফিকুল হাসান, অধ্যাপক ডা. ইন্দ্রজিৎ প্রসাদ, ডা. মোহাম্মদ সলিমুল্লাহ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। তারা জানান, চিকিৎসক, শিক্ষার্থী ও গবেষকদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণালব্ধ তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া, তরুণদের মধ্যে ডায়াবেটিস সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং বাংলাদেশে আরও গবেষণা ও উন্নত রোগীসেবাকে উৎসাহিত করা এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, গবেষণায় অংশগ্রহণকারী সন্দেহভাজন তরুণ ডায়াবেটিস রোগীদের প্রায় প্রতি ৫ জনে ১ জনের ক্ষেত্রে ‘ম্যাচিউরিটি অনসেট ডায়াবেটিস ইন ইয়াং (মডি)’ নামে পরিচিত বিশেষ ধরণের ডায়াবেটিস সম্পর্কিত কিছু জিনে পরিবর্তন দেখা গেছে। অর্থাৎ সন্দেহভাজন তরুণ রোগীদের প্রায় প্রতি ৫ জনের মধ্যে একজনের নির্দিষ্ট কিছু জিনে পরিবর্তন ছিল, যা মডি নাামে পরিচিত একটি বিশেষ ধরনের ডায়াবেটিসের সঙ্গে সম্পর্কিত। এই জিনগত পরিবর্তনগুলো প্রধানত কম পরিচিত জিনে পাওয়া গেছে, যা পশ্চিমা দেশগুলোর তুলনায় ভিন্ন। এই জিনগত পরিবর্তন আছে এবং নেই— এমন রোগীদের ক্লিনিক্যালভাবে আলাদা করা কঠিন।
গবেষকরা বলছেন, এই ফলাফল প্রাথমিক এবং অনুসন্ধানমূলক; চিকিৎসায় প্রয়োগের আগে আরও গবেষণা প্রয়োজন। এই ধরণের ডায়াবেটিস নতুন নয়, আবার টাইপ-১ এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিসও নয়। তাই রোগীর সঠিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে এবং তরুণদের এই রোগ থেকে নিরাপদ রাখতে এ ধরণের ডায়াবেটিস চিহ্নিত করা জরুরি।
তারা আরো জানান, এমনও দেখা গেছে, এই ধরণের ডায়বেটিস চিকিৎসায় কোনোটি ওষুধেই নিয়ন্ত্রণ সম্ভব, কোনটিতে ওষুধেরই প্রয়োজন পড়ে না। তাই এই ধরণের ডায়াবেটিস সনাক্ত না হলে সঠিক চিকিৎসা ব্যাহত হতে পারে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বাংলাদেশে তরুণদের মধ্যে ডায়াবেটিসের প্রকোপ বাড়ছে, তবে অনেক ক্ষেত্রেই এটি প্রচলিত ডায়াবেটিসের ধরণে পড়ে না। এই গবেষণা থেকে বোঝা যায়— বাংলাদেশে ডায়াবেটিসের জিনগত ধরণ বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের থেকে ভিন্ন হতে পারে। বর্তমান নির্ণয় পদ্ধতিগুলো আমাদের জনসংখ্যার জন্য পুরোপুরি উপযোগী নাও হতে পারে। তাই বাংলাদেশের জন্য এ ক্ষেত্রে বিশেষ গবেষণা প্রয়োজন ও সমাধান খুঁজে বের করা জরুরি। গবেষণাটি সম্প্রতি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কিউ-১ জার্নালে এ প্রকাশিত হয়েছে— যা এর বৈশ্বিক বৈজ্ঞানিক গুরুত্ব নির্দেশ করে।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, বাংলাদেশে এই ধরণের জেনেটিক্যাল স্ট্যাডি অত্যন্ত জটিল ও কঠিন। তবে রোগীদের জন্য, চিকিৎসকদের জন্য এ ধরণের জেনেটিক্যাল রিসার্চ আরো হওয়া প্রয়োজন, যা রোগীদেরকে সঠিক চিকিৎসাসেবা প্রদানে বিশেষ অবদান রাখবে।