তিন টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী © টিডিসি সম্পাদিত
৫০ সদস্যের মন্ত্রিসভা নিয়ে গঠিত বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারে দুজন টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। টেকনোক্র্যাট প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে আরও একজনকে। টেকনোক্র্যাট বলতে এমন ব্যক্তিকে বোঝায়, যিনি সাধারণত নির্বাচিত প্রতিনিধি নন, বরং নিজের পেশাগত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে দায়িত্ব পান। তিনি রাজনীতির মাধ্যমে ভোটে নির্বাচিত হন না, বরং সরকার বিশেষজ্ঞ হিসেবে তাকে নিয়োগ দেয়।
অপরদিকে জাতীয় সংসদ নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত একটি ‘আইনসভা’। সংসদে মন্ত্রীদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তবে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীদের বিষয়টি অন্যদের তুলনায় কিছুটা আলাদা।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত সরকারে টেকনোক্র্যাট কোটায় ড. খলিলুর রহমানকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়ক মন্ত্রী, মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ ইয়াছিনকে কৃষি মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও খাদ্য মন্ত্রণালয় বিষয়ক মন্ত্রী এবং মো. আমিনুল হককে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী নিয়োগের বিষয়টি বাংলাদেশের সংবিধান দ্বারা নির্ধারিত। তারা সংবিধানের চতুর্থ ভাগের (নির্বাহী বিভাগ) ৫৬ ধারা মোতাবেক নিয়োগপ্রাপ্ত হন। এর উপধারা-১-এ বলা হয়েছে, ‘একজন প্রধানমন্ত্রী থাকিবেন এবং প্রধানমন্ত্রী যেরূপ নির্ধারণ করিবেন, সেইরূপ অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপ-মন্ত্রী থাকিবেন।’ উপধারা-২-এ বলা হয়েছে, ‘প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপ-মন্ত্রীদিগকে রাষ্ট্রপতি নিয়োগদান করিবেন; তবে শর্ত থাকে যে, তাঁহাদের সংখ্যার অন্যূন নয়-দশমাংশ সংসদ-সদস্যগণের মধ্য হইতে নিযুক্ত হইবেন এবং অনধিক এক-দশমাংশ সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হইবার যোগ্য ব্যক্তিগণের মধ্য হইতে মনোনীত হইতে পারিবেন।’
তবে সংসদে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীদের ভূমিকা নির্ধারণ করা হয়েছে সংবিধানের পঞ্চম ভাগের (আইনসভা) ৭৩ক ধারায়। এতে বলা হয়েছে, ‘প্রত্যেক মন্ত্রী সংসদে বক্তৃতা করিতে এবং অন্যভাবে ইহার কার্যাবলীতে অংশগ্রহণ করিতে অধিকারী হইবেন, তবে যদি তিনি সংসদ-সদস্য না হন, তাহা হইলে তিনি ভোটদান করিতে পারিবেন না এবং তিনি কেবল তাঁহার মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত বিষয় সম্পর্কে বক্তব্য রাখিতে পারিবেন ।
এই বিধান অনুযায়ী, টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীরা নিজ মন্ত্রণালয় ছাড়া অপর কোনো মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বক্তব্য রাখতে পারবেন না। একই সঙ্গে সংসদে তার ভোটাধিকার নেই।