মেসির গ্রাফিতি আঁকছেন এক ভক্ত © সংগৃহীত
দরজায় কড়া নাড়ছে ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ। ইতোমধ্যেই বৈশ্বিক এই মহারণের সূচিও প্রকাশিত হয়েছে। তবে বড় দুঃসংবাদ ভারত ও চীনের ফুটবলপ্রেমীদের জন্য। বিশ্বের দুই সর্বাধিক জনবহুল দেশের কোটি কোটি ফুটবল ভক্ত আগামী জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া 'দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ' দেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। এর অন্যতম কারণ ভারতীয় সম্প্রচার অধিকার নিয়ে অচলাবস্থা এবং চীনে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া।
আল জাজিরার প্রতিবেদন বলা হয়েছে, চীনে এখনো কোনো চুক্তির ঘোষণা আসেনি। অথচ ফিফার তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ বিশ্বকাপে ডিজিটাল ও সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে মোট ভিউয়ারের মধ্যে ৪৯ দশমিক ৮ শতাংশই ছিল চীনের। একই অবস্থা ভারতের ক্ষেত্রেও।
অন্যদিকে রিলায়েন্স-ডিজনির যৌথ ২ কোটি ডলারের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ফিফা। এ নিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, ফিফার চাওয়া অর্থের তুলনায় এই প্রস্তাব অনেক কম হওয়ায় আলোচনা অচলাবস্থায় আছে। একই সময়ে সম্প্রচারস্বত্ব নিয়ে আলোচনা করলেও শেষ পর্যন্ত কোনো প্রস্তাব দেয়নি সনি গ্রুপও।
ফিফা জানিয়েছে, ইতোমধ্যে বিশ্বের অন্তত ১৭৫টি অঞ্চলের সম্প্রচারকারীদের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করেছে তারা।
এ ছাড়া ফিফার এক বিবৃতিতে বলা হয়, “চীন ও ভারতে ২০২৬ বিশ্বকাপের মিডিয়া স্বত্ব বিক্রির বিষয়ে আলোচনা চলছে এবং এই মুহূর্তে তা গোপনীয় রাখা জরুরি।”
আগামী ১১ জুন শুরু হবে এবারের বৈশ্বিক মহারণ। এই সময়েই অর্থাৎ আগামী পাঁচ সপ্তাহের মধ্যেই চুক্তি, সম্প্রচার অবকাঠামো প্রস্তুত এবং বিজ্ঞাপন বিক্রির কাজ শেষ করতে হবে। ভারতের ক্ষেত্রে ২০২৬ ও ২০৩০ বিশ্বকাপের জন্য প্রায় ১০ কোটি ডলার চেয়েছিল ফিফা। পরে যদিও তা কমানো হয়। তবে দুই কোটির প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্তা সংস্থাটি।
এর আগে, ২০২২ বিশ্বকাপে ভারতের সম্প্রচারস্বত্ব প্রায় ৬ কোটি ডলারে কিনেছিল রিলায়েন্সের তৎকালীন মিডিয়া ইউনিট। অন্যদিকে পূর্ববর্তী বিশ্বকাপগুলোতে অর্থাৎ ২০১৮ ও ২০২২ সালে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত সম্প্রচার সংস্থা চীনের সেন্ট্রাল টেলিভিশন আগেভাগেই স্বত্ব কিনে নিত এবং টুর্নামেন্ট শুরুর কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই প্রচারণা ও স্পন্সর-ভিত্তিক বিজ্ঞাপন প্রচার শুরু করত।