আর্জেন্টিনা ফুটবল দল © সংগৃহীত
বড় কোনো চমক ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠেয় ফিফা বিশ্বকাপের স্কোয়াড ঘোষণা করেছেন আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি। তবে লিওনেল মেসির সঙ্গী হিসেবে যেসব তারকারা এতদিন আলোচনায় ছিলেন, তাদেরই অনেকেই এবার কোচের প্রিয় তালিকায় জায়গা পাননি। মূলত মাঠের প্রতিটি পজিশনে একাধিক বিকল্প খেলোয়াড় থাকায় কৌশলগত দিক থেকেও বেশি সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেছেন আর্জেন্টাইন কোচ।
কাতার বিশ্বকাপে অনেকটা তরুণ দল নিয়েই পাড়ি জমিয়েছিল লে আলবিসেলেস্তেরা। সেই দলের দুই তৃতীয়াংশ ফুটবলার এবারও বিশ্বমঞ্চ মাতাবেন। টানা দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জয়ের মিশনে সেই দলের ওপরই আস্থা রেখেছেন স্কালোনি।
আর্জেন্টিনার স্কোয়াডে সবচেয়ে বড় চমক হয়তো মার্কোস আকুনার না থাকা। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে রিভার প্লেটে নিয়মিত সুযোগ না পাওয়ায় বিষয়টি অনেকটা প্রত্যাশিতই ছিল। স্কোয়াডে দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠিত কোনো লেফটব্যাক না থাকায় এই পজিশনে তাকে দিয়ে বাড়তি সুবিধা আদায়ের সুযোগ ছিল কোচের। এই পজিশনে ফাকুন্দো মেদিনা কিংবা ভ্যালেন্তিন বার্কো থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে মিডফিল্ডে খেলছেন বার্কো। তবে লেফটব্যাকেও বেশ অভিজ্ঞ তিনি। সবমিলিয়ে এই পজিশনে ভুগতে পারে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা।
মার্কোস সেনেসির বদলে ফাকুন্দো মেদিনাকে দলে নেওয়াও অবাক করার মতোই। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে নিয়মিতই সুযোগ পাচ্ছিলেন সেনেসি। কিন্তু অভিজ্ঞতা বিবেচনায় দ্বিতীয় সেন্টারব্যাক হিসেবে লিসান্দ্রো মার্তিনেজকেও রাখা হয়েছে।
রক্ষণভাগে ৮ ফুটবলার বেছে নিয়েছেন স্কালোনি। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় ডিফেন্সে লিওনার্দো বালের্দি, লিসান্দ্রো মার্টিনেজ, ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, নিকোলাস ওতামেন্দি ও ফাকুন্দো মেদিনা রয়েছেন। এর মধ্যে প্রয়োজনে বাঁ-প্রান্তেও খেলতে পারেন মেদিনা। যদিও বাঁ-প্রান্তে নিকোলাস তালিয়াফিকো অন্যতম ভরসা। অন্যদিকে ডানপ্রান্তে গনসালো মন্তিয়েল ও নাহুয়েল মলিনা আছেন।
মিডফিল্ডে ৭ জন ফুটবলার জায়গা পেয়েছেন। তাদের মধ্যে লেয়ান্দ্রো পারেদেস, রদ্রিগো দে পল ও এক্সেকিয়েল পালাসিওস মূলত রক্ষণাত্মক দায়িত্ব সামলাতে পারবেন। তবে প্রয়োজনে আক্রমণেও ভূমিকা রাখতে সক্ষম তারা।
অন্যদিকে আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডে স্কালোনির ভরসার নাম ভ্যালেন্তিন বারকো, জিওভানি লো সেলসো, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ও এনজো ফার্নান্দেজ। এই চারজনই মাঝমাঠে সৃজনশীলতা ও আক্রমণের গতি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। তবে লো সেলসোর কারণে এমিলিয়ানো বুয়েন্দিয়া কিংবা ম্যাক্সিমো পেরোনের হয়তো দলে জায়গা হয়নি।
আক্রমণভাগেও একাধিক বিকল্প আছেন। স্কালোনির দলে ফরোয়ার্ড হিসেবে হুলিয়ান আলভারেজ, লিওনেল মেসি, নিকোলাস গনসালেজ, থিয়াগো আলমাদা, জিওভানি সিমিওনে, নিকো পাজ, হোসে ম্যানুয়েল লোপেজ ও লাউতারো মার্টিনেজ আছেন।
গোলরক্ষকের জায়গায় আছেন তিনজন অভিজ্ঞ ফুটবলার। অ্যাস্টন ভিলার হয়ে সম্প্রতি উয়েফা ইউরোপা লিগ জেতা এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্টিনেজ আবারও আর্জেন্টিনার প্রথম পছন্দ। কাতার বিশ্বকাপ ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে তার অসাধারণ পারফরম্যান্স এখনো সমর্থকদের মনে গেঁথে আছে। এ ছাড়া দলে রয়েছেন অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের হুয়ান মুসো এবং অলিম্পিক মার্সেইয়ের হেরোনিমো রুলিও।
তবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের দলে অন্যতম বড় চমক ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়োনোর বাদ পড়া। যদিও গত ডিসেম্বর থেকেই স্কোয়াডে তার না থাকা অনেকটা স্পষ্ট হয়ে উঠছিল। সাম্প্রতিক সময়ে রিয়াল মাদ্রিদে খুব বেশি খেলার সুযোগ না পাওয়াই এর পেছনে প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে। সব মিলিয়ে আকুনা-মাস্তানতুয়োনোদের বাদ পড়া বাদ দিয়ে অভিজ্ঞতা ও তরুণ শক্তির সমন্বয়ে এবারও শক্তিশালী দল নিয়েই বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখার মিশনে নামছে আর্জেন্টিনা।