কোলাজ ছবি © সম্পাদিত ছবি
বিশ্বকাপ শুরুর আগেই ইনজুরি আতঙ্কে ভুগছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করলেও স্কোয়াডের অন্তত নয়জন গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলারের ফিটনেস নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে কোচ লিওনেল স্কালোনির। কেউ দীর্ঘমেয়াদি চোট কাটিয়ে ফিরছেন, কেউ আবার পেশির সমস্যায় ভুগছেন। ফলে শিরোপা ধরে রাখার মিশনের আগে বাড়তি সতর্ক অবস্থানে আছে আলবিসেলেস্তেরা।
সবচেয়ে বড় উদ্বেগের নাম লিওনেল মেসি। ৩৮ বছর বয়সী এই অধিনায়ক সম্প্রতি ইন্টার মায়ামির হয়ে ফিলাডেলফিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে হঠাৎ মাঠ ছাড়েন। পরে পরীক্ষায় তার বাঁ হ্যামস্ট্রিংয়ে মাংসপেশির ক্লান্তি ধরা পড়ে। চিকিৎসকদের মতে, এটি গুরুতর চোট নয়। সাধারণত এমন সমস্যা থেকে সেরে উঠতে ৭ থেকে ১৪ দিন সময় লাগে। তবে বয়সের কারণে মেসির ক্ষেত্রে ঝুঁকি নিতে চাইছে না কোচিং স্টাফ।
মেসির অবস্থা নিয়ে স্কালোনি বলেন, ‘অবশ্যই আমরা চাইতাম এমন কিছু না ঘটুক। এখন অপেক্ষা করতে হবে এবং নতুন পরীক্ষার ফল দেখতে হবে, যাতে বোঝা যায় প্রাথমিক রিপোর্ট ঠিক ছিল কি না।’
রক্ষণভাগে সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তার কারণ লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই ডিফেন্ডার দীর্ঘ সময় হাঁটুর ইনজুরিতে ভুগেছেন। মৌসুমের বড় অংশ মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছে তাকে। হাঁটুর লিগামেন্ট ও জয়েন্ট সমস্যার কারণে কয়েক মাস পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। যদিও তিনি এখন দলে ফিরেছেন, তবু পুরোপুরি ম্যাচ ফিটনেস ফিরে পেয়েছেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। চিকিৎসকদের ধারণা, এমন চোটের পর পুরো ছন্দে ফিরতে অনেক সময় ৬ থেকে ৮ সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগে।
ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোকেও নিয়ে দুশ্চিন্তা কম নয়। টটেনহ্যামের এই ডিফেন্ডার ডান হাঁটুর কোল্যাটেরাল লিগামেন্টে চোট পেয়েছিলেন। সাধারণত এ ধরনের চোট থেকে সেরে উঠতে ৪ থেকে ৬ সপ্তাহ সময় লাগে। যদিও তিনি এখন অনুশীলনে ফিরেছেন, তবে এখনো শতভাগ ফিট নন বলে জানা গেছে। বিশ্বকাপের আগে তাকে আলাদা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
নাহুয়েল মলিনাও সাম্প্রতিক সময়ে পেশির চোটে ভুগেছেন। আতলেতিকো মাদ্রিদের এই রাইট ব্যাক উরুর পেশিতে টান পড়ার কারণে কয়েকটি ম্যাচ খেলতে পারেননি। সাধারণত এমন ইনজুরি থেকে ফিরতে ২ থেকে ৩ সপ্তাহ সময় লাগে। ধীরে ধীরে অনুশীলনে ফিরলেও তাকে নিয়ে এখনো সতর্ক আর্জেন্টিনা শিবির।
গনজালো মন্তিয়েলের অবস্থাও খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়। রিভার প্লেটের এই ডিফেন্ডারও পেশির সমস্যায় ভুগেছেন। তার চোট মূলত কাফ মাসলে ছিল বলে জানা গেছে। এই ধরনের চোটে পুরোপুরি সুস্থ হতে সাধারণত ১০ দিন থেকে ৩ সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগে। তাই তাকে নিয়েও ঝুঁকি নিতে চাইছে না কোচিং স্টাফ।
নিকো গনজালেজও ইনজুরি সমস্যার কারণে আলোচনায় আছেন। কাতার বিশ্বকাপের আগেও শেষ মুহূর্তে চোটে পড়ে দল থেকে ছিটকে গিয়েছিলেন তিনি। এবার মৌসুমজুড়ে ছোটখাটো পেশির চোটে ভুগেছেন। যদিও বর্তমানে খেলার জন্য প্রস্তুত ধরা হচ্ছে, তারপরও তার ফিটনেস নিয়ে আলাদা নজর রাখা হচ্ছে।
মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজও পুরো মৌসুমে ফিটনেস সমস্যায় ভুগেছেন। চেলসির হয়ে কয়েকটি ম্যাচ মিস করতে হয়েছে তাকে। পেশির ক্লান্তি ও হালকা ইনজুরির কারণে নিয়মিত বিশ্রামে রাখা হয়েছিল। তবে তার চোট গুরুতর নয় বলেই মনে করছেন চিকিৎসকেরা।
জিওভানি লো সেলসোকেও নিয়ে কিছুটা সতর্ক অবস্থানে আছে আর্জেন্টিনা। ইনজুরির কারণে ২০২২ বিশ্বকাপ মিস করেছিলেন এই মিডফিল্ডার। এবারও মৌসুমে কয়েকবার ছোটখাটো পেশির সমস্যায় পড়েছেন। তবে বর্তমানে তিনি দলের সঙ্গে পূর্ণ অনুশীলন করছেন।
লিয়ান্দ্রো পারেদেসও পুরো মৌসুমে ছোটখাটো চোটে ভুগেছেন। যদিও এখন তিনি নিয়মিত অনুশীলনে আছেন, তবু তার শারীরিক অবস্থাও পর্যবেক্ষণে রাখছে মেডিকেল টিম।
বিশ্বকাপের আগে এতগুলো ফুটবলারের ফিটনেস সমস্যা স্কালোনিকে ভাবাচ্ছে। এজন্যই মূল স্কোয়াডের বাইরে আরও কয়েকজন তরুণ ফুটবলারকে অনুশীলন ক্যাম্পে ডাকছেন তিনি। কোনো খেলোয়াড় শেষ মুহূর্তে ছিটকে গেলে যেন বিকল্প প্রস্তুত থাকে, সেটাই এখন কোচের প্রধান লক্ষ্য।
স্কালোনি আগেই জানিয়েছিলেন, ‘আমরা চাই না চূড়ান্ত তালিকায় পরে খুব বেশি পরিবর্তন আনতে হোক, তাই আরও কিছু সময় নিচ্ছি।’
১ জুন থেকে শুরু হবে আর্জেন্টিনার অনুশীলন ক্যাম্প। বিশ্বকাপের আগে সেখানে খেলোয়াড়দের ফিটনেস নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে মেডিকেল টিম। এরপরই বোঝা যাবে, ইনজুরি শঙ্কা কাটিয়ে আর্জেন্টিনা পূর্ণ শক্তির দল নিয়েই বিশ্বকাপে নামতে পারবে কি না।
বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আগামী ১৬ জুন কানসাস সিটিতে আলজেরিয়ার মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। এরপর গ্রুপ ‘জে’ পর্বে অস্ট্রিয়া ও জর্ডানের বিপক্ষে খেলবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।