আর্সেনালের সাবেক ফুটবলার ও তার স্ত্রী © সংগৃহীত
স্ত্রীর উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণে নিজের বিলাসবহুল প্রাসাদ বিক্রি করে আলোচনায় এসেছেন আর্সেনাল কিংবদন্তি টনি অ্যাডামস। প্রায় ২৫ বছর ধরে বসবাস করা কটসওল্ডসের ৪ মিলিয়ন পাউন্ড (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬৫ কোটি টাকা) মূল্যের বাড়িটি বিক্রি করে স্ত্রী পপি টিচারের সঙ্গে লন্ডনে ফিরে যাচ্ছেন তিনি। কারণ, পপি আবার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে পড়াশোনা শুরু করতে চান। ফুটবল ক্যারিয়ারে অসংখ্য সাফল্য পাওয়া অ্যাডামসের এই সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
৫৯ বছর বয়সী টনি অ্যাডামস ২০২৫ সালের শুরুর দিকে বাড়িটি বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত করেন। পরে একই বছরের ডিসেম্বরে প্রায় ৪ মিলিয়ন পাউন্ডে সেটি বিক্রি হয়। নতুন মালিক হয়েছেন ব্রিটিশ রক ব্যান্ড ওয়েসিস-এর তারকা সংগীতশিল্পী লিয়াম গ্যালাঘার।
ইংল্যান্ড জাতীয় দলের সাবেক এই ডিফেন্ডারের বিলাসবহুল বাড়িটি ছিল কটসওল্ডস অঞ্চলের সিরেনসেস্টারের কাছে। প্রায় পাঁচ একর জমির ওপর নির্মিত সম্পত্তিটিতে ছিল সুইমিং পুল, টেনিস কোর্ট, ঘোড়ার আস্তাবল এবং দুটি শয়নকক্ষবিশিষ্ট একটি আলাদা কটেজ।
অ্যাডামস ২০০২ সালে বাড়িটি কিনেছিলেন। পরে যে দামে বিক্রি করেছেন, সেটি কেনার সময় তার প্রায় অর্ধেক অর্থ ব্যয় হয়েছিল বলে জানা গেছে।
২০২২ সালে জনপ্রিয় টেলিভিশন অনুষ্ঠান স্ট্রিক্টলি কাম ড্যান্সিং-এ অংশ নেওয়া অ্যাডামস দীর্ঘ ২৫ বছর এই বাড়িতে বসবাস করেছেন। তবে পরিবারের নতুন পরিকল্পনার কারণেই শেষ পর্যন্ত প্রিয় বাড়িটি বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেন।
ডেইলি মেইলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অ্যাডামস বলেন, ‘এটি আমাদের জীবনের একটি নতুন অধ্যায়। আমরা বাড়িটি বিক্রি করেছি এবং আবার লন্ডনে ফিরে যাচ্ছি। আমার স্ত্রী আবার পড়াশোনা শুরু করছে।’
অ্যাডামসের স্ত্রী পপি টিচারও কেন তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি জানান, শুরুতে বিষয়টি শুনে টনি কিছুটা অবাক হলেও পরে তাকে পুরোপুরি সমর্থন দিয়েছেন।
পপি বলেন, ‘আমি টনিকে বলেছিলাম, আমি আর্লি মডার্ন হিস্ট্রি নিয়ে পড়তে চাই। তখন সে আমাকে জিজ্ঞেস করেছিল, ‘‘এটা পড়ে কীভাবে অর্থ উপার্জন করবে?’’ আমি বলেছিলাম, ‘করব না!’
তিনি আরও বলেন, ‘তবে আমি মনে করি, সে আমার জন্য গর্বিত। সবাইকে বলে বেড়ায় আমি পিএইচডি করছি, যদিও আসলে আমি মাস্টার্স করছি।’
দীর্ঘদিন সন্তানদের দেখাশোনার দায়িত্ব পালন করার পর এবার নিজের স্বপ্ন পূরণের সময় এসেছে বলেও জানান পপি।
তিনি বলেন, ‘আমি সন্তানদের বড় করেছি। কিন্তু এখন আবার নিজের মস্তিষ্ককে কাজে লাগাতে চাই।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমি আর টনি লন্ডনের জীবন কাটাতে চাই। আমরা গ্যালারিতে যেতে চাই, নানা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে চাই।’
এদিকে নতুন বাড়িতে উঠে দারুণ অভিজ্ঞতার কথাও জানিয়েছেন লিয়াম গ্যালাঘার। নতুন প্রতিবেশীদের আতিথেয়তায় তিনি মুগ্ধ।
এক সাক্ষাৎকারে বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশীদের বিষয়ে জানতে চাইলে গ্যালাঘার বলেন, ‘তারা সত্যিই অসাধারণ। তারা প্রায়ই আমার জন্য কেক আর স্কোন বানিয়ে নিয়ে আসে।’
আর্সেনালের ইতিহাসের অন্যতম সেরা অধিনায়ক টনি অ্যাডামসের জন্য দীর্ঘদিনের স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি বিক্রি করা সহজ সিদ্ধান্ত ছিল না। তবে স্ত্রীর উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণ এবং জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করার ইচ্ছাকেই তিনি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। তাই কোটি টাকার প্রাসাদ ছেড়ে নতুন ঠিকানায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এই ইংলিশ ফুটবল কিংবদন্তি।