হোসে ম্যানুয়েল লোপেস © সংগৃহীত
নিউইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে পালমেইরাস ও আল আহলির ম্যাচের প্রথমার্ধ গোলশূন্য সমতায় শেষ হয়েছিল। পরের রাউন্ডে যাওয়ার লড়াইয়ে জয় ছিল ব্রাজিলিয়ান ক্লাবটির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই বিরতিতে ড্রেসিংরুমে ফিরে কোচ আবেল ফেরেইরা কৌশলগত পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেন। আর সেই পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন বেঞ্চে অপেক্ষমাণ হোসে ম্যানুয়েল ‘ফ্লাকো’ লোপেজ।
দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নামার মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন এই আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড। তার চাপে আল আহলির ওয়েসাম আবু আলি আত্মঘাতী গোল করতে বাধ্য হন। এরপর ১০ মিনিট না যেতেই নিজেই গোল করে ২-০ ব্যবধান নিশ্চিত করেন লোপেজ।
এই গোলের মাধ্যমে ওই মৌসুমে পালমেইরাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে উঠেন তিনি। দল পুনর্গঠনের মধ্য দিয়ে গেলেও, বেঞ্চ থেকে নেমে নিয়মিতভাবেই ম্যাচে প্রভাব ফেলছিলেন লোপেজ। ক্লাব ফুটবলে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পুরস্কারও পেয়েছেন তিনি, পালমেইরাসের জার্সিতে ১৭ গোল করার পর বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের জন্য লিওনেল স্কালোনির আর্জেন্টিনা দলে ডাক পান। আর এবার জায়গা করে নিয়েছেন তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিশ্বকাপ স্কোয়াডেও।
জাতীয় দলে ডাক পাওয়ার পর লোপেজ বলেছিলেন, 'আমি আমার সবচেয়ে বুনো স্বপ্নেও কখনও এমন কিছু ভাবিনি, তবে এটাই জীবন। জীবন সবসময়ই এমন নানা চমকে ভরপুর, আর আমার সামনে যে চ্যালেঞ্জই আসুক না কেন, তা মোকাবেলা করার জন্য আমাকে প্রস্তুত থাকতে হবে।'
লোপেজ যোগ করেন, 'আমি সত্যি ভীষণ আনন্দিত। জাতীয় দলের জন্য এটি একটি অবিশ্বাস্য সময় যাচ্ছে। আমি এই সুযোগটি একেবারেই আশা করিনি, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা এসেছে। আমি আমার দেশের জন্য জানপ্রাণ দিয়ে লড়তে প্রস্তুত। আমার মনে হয় ফুটবলে এর চেয়ে বড় স্বপ্ন আর হতে পারে না, তাই এই স্বপ্ন সত্যি হওয়ায় আমি অত্যন্ত সুখী।'
২০২২ সালে ক্লাবে যোগ দেওয়ার পর থেকেই কোচ ফেরেইরার আক্রমণভাগের অন্যতম ভরসার নাম হয়ে ওঠেন লোপেজ। বিশেষ করে আকাশে বল নিয়ন্ত্রণ ও হেডিং দক্ষতায় তিনি ছিলেন দলের বড় অস্ত্র। তবে এত কিছুর পরও দীর্ঘ সময় ধরে মূল একাদশে নিজের জায়গা পুরোপুরি নিশ্চিত করতে পারেননি এই আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড। কিন্তু প্রতিযোগিতা যখন সবচেয়ে কঠিন পর্যায়ে পৌঁছায়, তখনই নিজের সামর্থ্যের সেরা প্রদর্শন করে দলে অপরিহার্য হয়ে ওঠেন তিনি।
চলতি মৌসুমে পালমেইরাসের হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৩৫ ম্যাচে ১৪ গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে আরও ১০টি গোল করিয়েছেন লোপেজ। আলবিসেলেস্তেদের বিশ্বকাপ দলে ডাক পাওয়ার দিনই করেছিলেন হ্যাটট্রিক অ্যাসিস্ট। এছাড়া কোপা লিবার্তাদোরেসে জুনিয়র এফসির বিপক্ষে ৪-১ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচেও ছিল তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান। এখন অপেক্ষা, বিশ্বকাপের মতো সবচেয়ে বড় মঞ্চে নিজেকে কতটা মেলে ধরতে পারেন এই ফরোয়ার্ড।