চাঁবিপ্রবির আইসিটি বিভাগের চেয়ারম্যান নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি © টিডিসি সম্পাদিত
চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চাঁবিপ্রবি) আইসিটি বিভাগের প্রভাষক নাজিম উদ্দিনকে ৩ বছর মেয়াদে বিভাগীয় চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয় আইন লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সহকারী বা সহযোগী অধ্যাপকের নিচের পদের কাউকে এভাবে নিয়োগের বিধান নেই। চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০২০ এর সঙ্গে বিষয়টি সাংঘর্ষিক হলেও কর্তৃপক্ষ বলছে, জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
গত ১৮ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ভারপ্রাপ্ত) রেজিস্ট্রার আল মামুন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে আগামী তিন বছরের জন্য তাকে এ দায়িত্ব অর্পণ করা হয়। তবে চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২০ (ধারা ২৫) অনুযায়ী, বিভাগের অধ্যাপকদের মধ্য হতে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে পালাক্রমে তিন বছর মেয়াদে উপাচার্য কর্তৃক বিভাগীয় চেয়ারম্যান নিযুক্ত হবেন। তবে শর্ত থাকে যে, যদি কোনো বিভাগে অধ্যাপক না থাকেন তাহলে উপাচার্য সহযোগী অধ্যাপকদের মধ্য হইতে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে পালাক্রমে একজনকে বিভাগীয় চেয়ারম্যান নিযুক্ত করিবেন।
চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক ও এক প্রভাষকের শূন্য পদ রয়েছে। উপাচার্য নিয়োগের অনুমতি চেয়েছেন ইউজিসি বরাবর। সেখান থেকে খুব দ্রুত অনাপত্তিপত্র দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। অনাপত্তিপত্র পেলেই যেখানে সহযোগী অধ্যাপক যোগদান করাতে পারবেন, সেক্ষেত্রে সাময়িক সময়ের জন্য অস্থায়ীভাবে প্রভাষককে ভারপ্রাপ্ত বা চলতি দায়িত্ব দেওয়া যেত।
যদি সহযোগী অধ্যাপক না থাকেন তাহলে উপাচার্য সহকারী অধ্যাপকদের মধ্য হতে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে এক জনকে বিভাগীয় চেয়ারম্যান নিযুক্ত করবেন। তবে শর্ত থাকে যে, সহকারী অধ্যাপক পদমর্যাদার নিচে কোনো শিক্ষককে বিভাগীয় চেয়ারম্যান পদে নিযুক্ত করা যাবে না।
একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, লোকবল সংকট থাকলে অস্থায়ীভাবে কাউকে দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু তিন বছরের জন্য একজন প্রভাষককে বিভাগীয় প্রধান করা বিশ্ববিদ্যালয় আইনে কোনোভাবেই বৈধ নয়। সহযোগী অধ্যাপক ৫ম এবং সহকারী অধ্যাপক ৬ষ্ঠ গ্রেডে নিয়োগ পান। আর প্রভাষক নিয়োগ পান ৯ম গ্রেডে।
চাঁবিপ্রবির রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) আল মামুন বলেন, প্রতিষ্ঠানটির তিনটি বিভাগের জন্য ১২ জন শিক্ষক (প্রভাষক) আছেন। তারমধ্যে আইসিটি বিভাগে তিনজন শিক্ষক রয়েছেন। তাদের মধ্য থেকে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে নাজিম উদ্দিনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক ও এক প্রভাষকের শূন্য পদ রয়েছে। উপাচার্য নিয়োগের অনুমতি চেয়েছেন ইউজিসি বরাবর। সেখান থেকে খুব দ্রুত অনাপত্তিপত্র দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। অনাপত্তিপত্র পেলেই যেখানে সহযোগী অধ্যাপক যোগদান করাতে পারবেন, সেক্ষেত্রে সাময়িক সময়ের জন্য অস্থায়ীভাবে প্রভাষককে ভারপ্রাপ্ত বা চলতি দায়িত্ব দেওয়া যেত।
আরও পড়ুন: ৭ম গণবিজ্ঞপ্তিতে সুপারিশ পেলেন ১১ হাজার ৭১৩ জন
বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে আইসিটি বিভাগের প্রভাষক নাজিম উদ্দিনকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
সরাসরি এভাবে ৩ বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়ায় অনিয়ম হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরুর আগেই একজন প্রভাষককে তিন বছরের জন্য বিভাগীয় প্রধান নিয়োগ দেওয়ায় বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন উঠেছে।
চাঁবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. পেয়ার আহম্মেদ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমরা কোনো আইন বহির্ভূত কাজ করিনি। লোকবল সংকটের কারণে আপাতত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে যোগ্য কেউ এলে সঙ্গে সঙ্গে নাজিম উদ্দিনকে সরিয়ে নেওয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান রেজিস্ট্রারও স্থায়ীভাবে ওই পদের নন। প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল রাখতে অস্থায়ীভাবে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, চাঁবিপ্রবি আইন ২০২০-এর অধীনে প্রণীত তফসিলের ১ম সংবিধির ধারা ৪-এর উপধারা ২ অনুযায়ী আইসিটি বিভাগে বিভাগীয় প্রধান নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
যদিও চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এর ২০২০ সালের মূল আইনে বলা হয়েছে, সহকারী অধ্যাপক পদের নিচে কোনও শিক্ষককে ৩ বছর মেয়াদে বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব দেওয়া যাবে না। প্রভাষককে স্থায়ীভাবে তিন বছরের জন্য নিয়োগ দিতে তফসিলের একটি অস্পষ্ট ধারাকে অফিস আদেশে উল্লেখ করে মূল আইনের স্পষ্ট বিধান লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।