অনুমোদন থাকলেও বরাদ্দ নেই: জানুয়ারিতেই চাঁবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের হলে উঠানোর আশ্বাস দিলেন উপাচার্য

০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:১৪ PM , আপডেট: ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:১৭ PM
চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চাঁবিপ্রবি)

চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চাঁবিপ্রবি) © টিডিসি ফটো

প্রতিষ্ঠার পর থেকেই নানা সংকটে জর্জরিত চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চাঁবিপ্রবি)। শিক্ষক ও জনবল সংকটের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য বর্তমানে প্রধান বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে তীব্র আবাসন সংকট। তিন মাস আগে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) থেকে হল ব্যবহারের প্রশাসনিক অনুমোদন মিললেও বাজেট সংকটে ঝুলে আছে শিক্ষার্থীদের সিট বরাদ্দ। তবে সব জট কাটিয়ে চলতি জানুয়ারি মাসের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের হলে তোলার আশ্বাস দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. পেয়ার আহমেদ।

আজ বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) 'দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস'-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে উপাচার্য জানান, 'ইউজিসি আমাদের হল ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে, তবে নির্দিষ্ট পরিমাণ বরাদ্দ এখনো দেয়নি। একটি শিক্ষার্থীর জন্য প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র—বিছানার বেড, পড়ার চেয়ার-টেবিলসহ অন্যান্য সামগ্রী কিনতে প্রায় ৩২ হাজার টাকা লাগে জনপ্রতি। 

বর্তমানে শিক্ষার্থী সংখ্যা ৩৫০ জন। শুধু ফার্নিচার বাবদই প্রায় ৫৭ লাখ টাকা প্রয়োজন, যার বাজেট এখনো পাওয়া যায়নি ইউজিসি থেকে। এ কারণেই শিক্ষার্থীদের হলে উঠানো সম্ভব হচ্ছে না। তিনি আরও জানান, তিনটি বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রায় সাড়ে ৩ হাজার স্কয়ারফিট হলের প্রয়োজন।' 

বরাদ্দ না আসায় কাজ আটকে থাকলেও জানুয়ারি মাসের মধ্যেই যেকোনো একটি ব্যবস্থা করে শিক্ষার্থীদের হলে ওঠানোর আশ্বাস দেন তিনি।

হল চালুর বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমাজের মধ্যে দ্বিমত দেখা দিয়েছে। এক পক্ষ মনে করছে, শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ লাঘবে আসবাবপত্র ছাড়াই তাদের হলে ওঠার অনুমতি দেওয়া হোক, যা পরবর্তীতে কর্তৃপক্ষ সমন্বয় করবে। তবে অন্য পক্ষ মনে করছে, পূর্ণ বরাদ্দ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে শিক্ষার্থীদের হলে তোলা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। শিক্ষকদের এই মতবিরোধ ও সিদ্ধান্তহীনতার কারণে কিছুটা বিপাকে পড়েছেন উপাচার্যও।

হল কার্যকর না হলেও প্রতি মাসে হল প্রভোস্টদের ভাতা বাবদ সরকারের অর্থ ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বর্তমানে দুই হলের প্রভোস্ট হিসেবে দায়িত্বরত প্রিন্স মাহমুদ এবং খাদিজা খাতুন টুম্পার পেছনে প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা ব্যয় হচ্ছে।

 প্রিন্স মাহমুদ বলেন, আমরা দ্রুত সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি। জানুয়ারি মাসের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের হলে উঠানোর জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। হল সংকট নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বললে তারা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে জানান, দূর-দূরান্ত থেকে এসে পড়াশোনা করতে গিয়ে অনেকেই জানতেন না যে এখানে হলের সুবিধা নেই। ফলে আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে থাকতে হচ্ছে তাদের। এতে যেমন আর্থিক চাপ বাড়ছে, তেমনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন শিক্ষার্থীরা—বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীরা।

তারা বলেন, হল সুবিধা থাকলে আমাদের এই ভোগান্তি হতো না। ভাড়া বাসায় থাকতে গিয়ে নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের একটাই দাবি—দ্রুত হল সমস্যার সমাধান করা হোক।

দূর-দূরান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থীরা জানান, হলের সুবিধা না থাকায় তারা মেস বা ভাড়া বাসায় থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে একদিকে যেমন আর্থিক চাপ বাড়ছে, অন্যদিকে নারী শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তাদের দাবি, পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা না থাকলেও অন্তত জানুয়ারির মধ্যেই যেন হলের ব্যবস্থা করা হয়।

চাঁবিপ্রবি কেবল আবাসন নয়, বিশ্ববিদ্যালয়টিতে এখনো জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ হয়নি। নেই নিজস্ব খেলার মাঠ, আধুনিক ল্যাব কিংবা মানসম্মত ক্যান্টিন ব্যবস্থা। একটি পূর্ণাঙ্গ ও আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বপ্ন নিয়ে আসা শিক্ষার্থীরা এখন প্রতিদিন পার করছেন নানা প্রতিকূলতায়। দ্রুত এই সব সংকটের সমাধান হবে—এমনই প্রত্যাশা সাধারণ শিক্ষার্থীদের।

খুবিতে শিক্ষার্থী মৌমিতা হালদারের মৃত্যুর প্রতিবাদে বিক্ষোভ…
  • ৩১ মার্চ ২০২৬
বিশ্বকাপের আগে বড় শাস্তির শঙ্কায় আর্জেন্টিনা
  • ৩১ মার্চ ২০২৬
মার্চের বেতন নিয়ে সর্বশেষ যা জানাল মাউশি
  • ৩১ মার্চ ২০২৬
ঢাবির পোস্টগ্রাজুয়েট মেডিসিন অনুষদের নতুন ডিন অধ্যাপক সামি …
  • ৩১ মার্চ ২০২৬
চাকসু প্রতিনিধির ওপর হামলায় গ্রেপ্তার ১
  • ৩১ মার্চ ২০২৬
‘আমি মুক্তিযোদ্ধা, আপনিও জানেন মাননীয় স্পিকার, কিন্তু আওয়াম…
  • ৩১ মার্চ ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • April 1, 2026
  • Admission Test
  • April 4, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
SUMMER 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence