এক হল কর্মচারীকে ঈদ উপহারসামগ্রী তুলে দেওয়া হচ্ছে © টিডিসি
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) আবাসিক হলগুলোর কর্মচারীদের মধ্যে ঈদ উপহারসামগ্রী বিতরণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলে পর্যায়ক্রমে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে সেমাই, চিনি, পোলাও চাল ও গুঁড়া দুধসহ প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী কর্মচারীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, ছাত্রকল্যাণ দপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট হল প্রভোস্টদের উদ্যোগে দ্বিতীয়বারে এ বছরও হল কর্মচারীদের মধ্যে ঈদ উপহারসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। গত বছর বর্তমান প্রশাসন একই ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করে প্রশংসিত হয়েছিলেন।
ঈদসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলের প্রভোস্ট ও সহকারী প্রভোস্টদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের সহকারী পরিচালক ও ইটিই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. আবু ইসমাইল সিদ্দিকী সাইফ ও ছাত্রকল্যাণ দফতরের উপপরিচালক ও স্থাপত্য বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জেড এইচ এম মঞ্জুর মোর্শেদ, সিএমই বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. বদিউল ইসলাম, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. এইচ এম রাসেল এবং মানবিক বিভাগের অধ্যাপক মো. আবু বকর সিদ্দিকীসহ সংশ্লিষ্টরা।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হল, শহীদ আব্দুল হামিদ হল, শহীদ শহীদুল ইসলাম হল, টিন শেড হল, শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক হল, শহীদ লেফটেন্যান্ট সেলিম হল, নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরীরানী হলসহ নতুন চারটি হলে ঈদ সামগ্রী বিতরণ করা হয়। বিভিন্ন হলে দায়িত্ব পালন করা তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী, মাস্টার রোল ও হল পে কর্মচারীরা এ সুবিধা পান। এ ছাড়া নতুন চারটি হলের কেয়ারটেকার দেরও ঈদ উপহার দেওয়া হয়।
ঈদসামগ্রীর মধ্যে ছিল ১ কেজি সেমাই, ১ কেজি চিনি, পোলাও চাল ও গুঁড়া দুধ। হলভিত্তিক কর্মচারীদের মধ্যে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হলে ২৭ জন, শহীদ আব্দুল হামিদ হলে ১৬ জন, টিন শেড হলে ৯ জন, শহীদ শহীদুল ইসলাম হলে ১৬ জন, শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক হলে ২৮ জন, শহীদ লেফটেন্যান্ট সেলিম হলে ২০ জন এবং নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরীরানী হলে ২৯ জন কর্মচারীর মধ্যে এসব সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
ঈদ উপহারসামগ্রী বিতরণের সময় লেফটেন্যান্ট শহিদ সেলিম হলের রান্নার কাজে দায়িত্বরত বাবুর্চি শাকিল বলেন, ‘১৯৮১ সাল থেকে কাজ করছি। আগে এ রকম উপহার আমরা পাইনি। সামনেও যেন এরকম অব্যাহত থাকে, এটাই আমরা আশা করি।’
ঈদসামগ্রী পেয়ে আনন্দ প্রকাশ করে টিন শেড হলে কর্মরত মোছা. সেতারা বলেন, ‘খুব খুশি হয়েছি। প্রশাসনকে ধন্যবাদ, এটা দেওয়ায়। আমরা গরিব মানুষ, আমাদের উপকার হবে। আল্লাহ যদি দেয়, প্রতিবছরই যেন পাই।’
অন্যদিকে নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরীরানী হলে কর্মরত এক বৃদ্ধা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, ‘রাজ্জাক স্যার (বর্তমান উপাচার্য) যখন ছাত্র ছিল তার আগে থেকেই তিনি এখানে কাজ করছেন। কিন্তু আগে কখনো এমন উপহার পাননি। রাজ্জাক স্যার গরিব মানুষের উপকার করেছেন বলে তিনি জানান এবং এতে তারা খুব খুশি।’
ঈদের আনন্দ ভাগাভাগির এমন উদ্যোগ কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সকল সদস্যের প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহমর্মিতার প্রকাশ বার্তা বহন করে। দীর্ঘদিন ধরে নীরবে দায়িত্ব পালন করা হল কর্মচারীদের পাশে দাঁড়িয়ে রুয়েট প্রশাসনের এই উদ্যোগ ক্যাম্পাসে মানবিকতা চর্চার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এতে একদিকে যেমন কর্মচারীদের মধ্যে উৎসাহ ও আনন্দের সঞ্চার হয়েছে, অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও বন্ধন আরও দৃঢ় হয়েছে।