গোল্ডেন বুট পাওয়ার দৌড়ে আছেন ১০ তারকা ফুটবলার © টিডিসি সম্পাদিত
বিশ্বকাপের ট্রফির লড়াই যেমন নজর কাড়ে, তেমনি আলোচনায় থাকে গোল্ডেন বুটের প্রতিযোগিতাও। ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এ সর্বোচ্চ গোলদাতা কে হবেন, এ নিয়ে ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে জল্পনাকল্পনা। সাম্প্রতিক ফর্ম, জাতীয় দলের শক্তিমত্তা এবং বড় মঞ্চে পারফরম্যান্সের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় কয়েকজন তারকা ফুটবলারকে এগিয়ে রাখছেন বিশ্লেষকরা।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এখনো কোনো ফুটবলার দুবার গোল্ডেন বুট জিততে পারেননি। এবার সেই ইতিহাস বদলে দিতে পারেন দুই তারকা—ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে ও ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন।
এমবাপ্পে
২০২২ কাতার বিশ্বকাপে আট গোল করে গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। বিশ্বকাপের মঞ্চে ইতোমধ্যে ১২ গোল করা ফরাসি এই ফরোয়ার্ডকে অনেকেই এবারের আসরের সবচেয়ে বড় দাবিদার হিসেবে দেখছেন। ফ্রান্সও টুর্নামেন্টের অন্যতম শক্তিশালী দল। ফলে দল যদি শেষ পর্যন্ত যেতে পারে, তাহলে এমবাপ্পের সামনে গোলসংখ্যা বাড়ানোর সুযোগও থাকবে যথেষ্ট।
হ্যারি কেইন
২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে ছয় গোল করে গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইন। ৩২ বছর বয়সেও তার গোল করার সামর্থ্য কমেনি। ক্লাব ফুটবলে আরেকটি সফল মৌসুম কাটিয়ে বিশ্বকাপে আসছেন এই স্ট্রাইকার। ইংল্যান্ডকে এবারও শিরোপার অন্যতম দাবিদার ধরা হচ্ছে। ফলে দ্বিতীয়বার গোল্ডেন বুট জয়ের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
লিওনেল মেসি
ক্যারিয়ারে আটটি ব্যালন ডি’অরসহ প্রায় সব বড় ব্যক্তিগত পুরস্কার জিতলেও বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুট এখনো জেতা হয়নি লিওনেল মেসির। ৩৮ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন অধিনায়কের জন্য এবারের বিশ্বকাপ হতে পারে শেষ বিশ্বকাপ। তাই বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের ইতি টানার আগে এই অপূর্ণতা ঘোচানোর সুযোগ থাকবে তার সামনে।
লামিন ইয়ামাল
বিশ্ব ফুটবলের নতুন সেনসেশন লামিন ইয়ামালও রয়েছেন আলোচনায়। ইউরো ২০২৪ জয়ের পর স্পেনের সবচেয়ে বড় ভরসায় পরিণত হয়েছেন তিনি। বিশ্বকাপের ফাইনালের আগেই তার বয়স হবে মাত্র ১৯ বছর। তবে বয়স কম হলেও বড় ম্যাচে পারফর্ম করার সামর্থ্য ইতোমধ্যে দেখিয়েছেন বার্সেলোনার এই উইঙ্গার।
আর্লিং হালান্ড
প্রিমিয়ার লিগে গোলের পর গোল করে নিজেকে বিশ্বের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন আর্লিং হালান্ড। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বেও দুর্দান্ত গোলসংখ্যা নিয়ে আলোচনায় ছিলেন তিনি। তবে তার গোল্ডেন বুট জয়ের সম্ভাবনা অনেকটাই নির্ভর করবে নরওয়ে টুর্নামেন্টে কত দূর যেতে পারে তার ওপর।
ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো
৪১ বছর বয়সেও গোল করার ক্ষুধা হারাননি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে নিজের রেকর্ড আরও সমৃদ্ধ করার সুযোগ থাকবে তার সামনে। পর্তুগালের আক্রমণভাগে ব্রুনো ফার্নান্দেজসহ একাধিক সৃজনশীল ফুটবলার থাকায় রোনালদোকে গোলের সুযোগ তৈরি করে দেওয়ার মতো খেলোয়াড়ের অভাব হবে না।
ভিনিসিয়ুস
রিয়াল মাদ্রিদের তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র গত কয়েক মৌসুমে নিজেকে বিশ্বের অন্যতম সেরা উইঙ্গার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তবে তার ব্যক্তিগত সাফল্য অনেকটাই নির্ভর করবে ব্রাজিল কত দূর যেতে পারে তার ওপর। দল ভালো করলে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়েও শক্ত অবস্থানে থাকতে পারেন তিনি।
উসমান দেম্বেলে
কিলিয়ান এমবাপ্পের পাশাপাশি উসমান দেম্বেলেও ফ্রান্সের হয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারেন। সাম্প্রতিক সময়ে ক্লাব ফুটবলে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স তাকে সম্ভাব্য দাবিদারদের তালিকায় জায়গা করে দিয়েছে। ফ্রান্সের আক্রমণভাগে সুযোগের অভাব না থাকায় গোলের সংখ্যাও দ্রুত বাড়তে পারে তার।
আরও পড়ুন: বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা মেলেনি, মেক্সিকো গেল ইরান দল
মার্টিনেজ ও আলভারেজ
লিওনেল মেসির বাইরে আর্জেন্টিনার হয়ে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে থাকতে পারেন লাউতারো মার্টিনেজ ও হুলিয়ান আলভারেজ। লাউতারো ২০২৪ কোপা আমেরিকায় সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার জিতেছিলেন। অন্যদিকে আলভারেজও ইউরোপীয় ফুটবলে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করে যাচ্ছেন।
আরও চমক দেখাতে পারেন যারা
বিশ্বকাপের প্রতিটি আসরেই কিছু অপ্রত্যাশিত নাম আলোচনায় উঠে আসে। এবার সেই তালিকায় রয়েছেন স্পেনের মিকেল ওয়ারজাবাল, সুইডেনের আলেকজান্ডার ইসাক ও ভিক্টর গিওকেরেস, ব্রাজিলের রাফিনহা, ফ্রান্সের মাইকেল অলিসে ও বেলজিয়ামের রোমেলু লুকাকু। তাদের মধ্যে কেউ যদি গ্রুপ পর্ব বা নকআউট পর্বে গোলের বন্যা বইয়ে দিতে পারেন, তাহলে গোল্ডেন বুটের সমীকরণ মুহূর্তেই বদলে যেতে পারে।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত কোনো ফুটবলার একাধিকবার গোল্ডেন বুট জিততে পারেননি। তাই ২০২৬ বিশ্বকাপ শুধু সর্বোচ্চ গোলদাতা নির্ধারণের লড়াই নয়, বরং নতুন ইতিহাস গড়ারও মঞ্চ। এমবাপ্পে, কেইন, মেসি, হালান্ড কিংবা ইয়ামাল শেষ পর্যন্ত কার পায়ে উঠবে বিশ্বকাপের সোনালি বুট, সেটিই এখন ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় কৌতূহলগুলোর একটি।