ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো © সংগৃহীত
ফিফা বিশ্বকাপের স্বত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির ব্যর্থ ও বিতর্কিত উদ্যোগের পর ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর অবিলম্বে পদত্যাগ দাবি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নরওয়েজীয় ফুটবল ফেডারেশন (এনএফএফ)। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার বর্তমান সংকট ও ইনফান্তিনোর ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) প্রকল্প কেন্দ্রিক ধারাবাহিক বিতর্কের মুখে নরওয়েই প্রথম দেশ হিসেবে সরাসরি তার পদত্যাগের আহ্বান জানাল।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাতে নরওয়েজীয় ফুটবল ফেডারেশনের পরিচালনা পর্ষদের সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশ্ব ফুটবলের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিয়ে সোচ্চার এনএফএফ মনে করে, সাম্প্রতিক ঘটনার পর ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের প্রতি ন্যূনতম আস্থাও আর অবশিষ্ট নেই।
নরওয়েজীয় ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি লিসে ক্লাভনেস দ্য গার্ডিয়ান-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, বৈশ্বিক ফুটবল অঙ্গন এখন চরম মেরুকরণ ও বিশৃঙ্খলার মধ্যে পড়েছে। তাই বিশ্ব ফুটবল সমাজকে সংকট মুক্ত করতে তারা সর্বসম্মতিক্রমে ইনফান্তিনোর ওপর থেকে আস্থা প্রত্যাহার করেছেন এবং তার অবিলম্বে পদত্যাগ দাবি করছেন।
আগামী সপ্তাহের মধ্যেই এনএফএফ আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ চেয়ে ফিফার কাছে চিঠি পাঠাবে বলে আশা করা হচ্ছে। ২০২৩ সালে ফিফা সভাপতি হিসেবে ইনফান্তিনোর পুনরায় নির্বাচিত হওয়ার সময়ও নরওয়ে তাকে সমর্থন দেয়নি। পদত্যাগের দাবির পাশাপাশি ২০১৬ সালে ইনফান্তিনো দায়িত্ব নেওয়ার পর গৃহীত সংস্কার প্যাকেজগুলোর সার্বিক পর্যালোচনারও দাবি জানানো হয়েছে।
এর বাইরে তিনটি সুনির্দিষ্ট বিষয়ে ফিফার এথিক্স কমিটির (নীতিমালা কমিটি) কাছে নতুন করে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানাতে যাচ্ছে নরওয়ে। প্রথমটি হলো—ফিফা নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে সদস্য দেশগুলোকে বড় আর্থিক সুবিধার আশ্বাস দিয়ে এফএফই প্রকল্প চালুর চেষ্টা করা, যা ক্ষমতার অপব্যবহারের শামিল। দ্বিতীয়টি হলো—মার্কিন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফিফার পিস প্রাইজ প্রদান করা। এবং তৃতীয়টি হলো—বিশ্বকাপে মার্কিন স্ট্রাইকার ফোলাড়িন বালোগুনের লাল কার্ড বাতিল করার সিদ্ধান্ত, যা ট্রাম্পের সাথে ইনফান্তিনোর ফোনালাপের পর নেওয়া হয়েছিল।
নরওয়ে এই অভিযোগপত্রে ইউরোপের অন্যান্য প্রভাবশালী ফুটবল ফেডারেশনগুলোকেও যুক্ত করার চেষ্টা করছে।
এদিকে, এফএফই প্রকল্প বাতিল হলেও ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা (UEFA) টুর্নামেন্ট বর্জনের হুমকি বহাল রেখেছে। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর পোল্যান্ডে শুরু হতে যাওয়া অনূর্ধ্ব-২০ নারী বিশ্বকাপ প্রথম বর্জনের মুখে পড়তে পারে। তবে ক্লাভনেস আশা প্রকাশ করেছেন, বিশ্ব ফুটবলের বৃহত্তর স্বার্থেই পরিস্থিতি তার আগেই সমাধানের মুখ দেখবে এবং ইনফান্তিনো সরে দাঁড়াবেন।