পবিপ্রবিতে উপাচার্যের অনুমোদন ব্যতীত চিঠি ইস্যু, রেজিস্ট্রারকে শোকজ

১০ মার্চ ২০২৬, ১১:৫৮ PM
রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. হাবিবুর রহমান

রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. হাবিবুর রহমান © টিডিসি ফটো

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পবিপ্রবি)–এ রাষ্ট্রপতির কাছে পত্র প্রেরণকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিধিবহির্ভূতভাবে রাষ্ট্রপতির বরাবর পত্র পাঠানোর অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. হাবিবুর রহমানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) উপাচার্যের নির্দেশক্রমে ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. শাহজালালের স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে এ শোকজ নোটিশ জারি করা হয়। এতে আগামী ১১ মার্চের   মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

উপাচার্যের দপ্তর সূত্রে জানা যায়, গত ৯ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রপতির বরাবর একটি পত্র পাঠানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, পত্রটি পাঠানোর ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি এবং উপাচার্যের মৌখিক কিংবা আনুষ্ঠানিক অনুমোদনও নেওয়া হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী, রিজেন্ট বোর্ড বা অন্য কোনো উচ্চপর্যায়ের সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট নথি ফাইল আকারে প্রস্তুত করা হয়। এরপর সেই ফাইলে পর্যায়ক্রমে ফাইল নোট লেখা, প্রশাসনিক যাচাই-বাছাই এবং উপাচার্যের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন নেওয়ার পরই রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে চূড়ান্ত চিঠি জারি করা হয়। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই রাষ্ট্রপতির কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো সিদ্ধান্ত ফরওয়ার্ড করা হয়।

জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৭তম রিজেন্ট বোর্ড সভায় সহযোগী অধ্যাপক এবিএম সাইফুলের অধ্যাপক পদে পদোন্নতির সিদ্ধান্ত অনুনমোদিত হয়। এ ধরনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠাতে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একটি ফরওয়ার্ডিং পত্র জারি করা প্রয়োজন হয়। তবে অভিযোগ উঠেছে, এবিএম সাইফুলসহ কয়েকজন কর্মকর্তা গত ৯ মার্চ সংশ্লিষ্ট পদোন্নতি সংক্রান্ত ওই ফরওয়ার্ডিং পত্রটি নির্ধারিত প্রশাসনিক বিধি ও প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে সেটি প্রস্তুত করে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রেরণের উদ্দেশ্যে রেজিস্ট্রারের কাছ থেকে জোরপূর্বক সাক্ষর করিয়ে নেন। এ সংক্রান্ত কিছু প্রমাণাদি প্রতিবেদকদের কাছেও সংরক্ষিত আছে। বিষয়টি পরে প্রশাসনের নজরে এলে উপাচার্যের কার্যালয় থেকে রেজিস্ট্রারের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা তলব করা হয়।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিযুক্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. হাবিবুর রহমানকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি জানান, 'রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো চিঠিটি সঠিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পাঠানো হয়নি। এতে আমার একটু ভুল হয়েছে।” বিষয়টি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “এখন বিষয়টি এই মুহূর্তে যাচাই-বাছাই ও পুনঃবিবেচনার পর্যায়ে রয়েছে। প্রয়োজনীয় তদন্ত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।'

চিঠি প্রস্তুত ও পাঠানোর ক্ষেত্রে তার ওপর কোনো ধরনের চাপ ছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে রেজিস্ট্রার স্বীকার করেন যে, 'বিষয়টি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে হয়নি এবং এ ঘটনায় আমার ওপর বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজনের চাপ প্রয়োগের একটি ঘটনা ঘটেছে।'

তবে কারা এ বিষয়ে জড়িত—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি কোনো নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি। এ সময় তিনি বলেন, 'এ মুহূর্তে বিস্তারিত কিছু বলতে চাই না, খুব দ্রুতই বিষয়গুলো আপনারা জানতে পারবেন।' পরে আর কোনো মন্তব্য না করেই তিনি মুঠোফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, 'রেজিস্ট্রার ড. হাবিবুর রহমান ১০ মার্চ সকাল ১০টার দিকে আমাকে মোবাইলে জানিয়েছেন যে তাকে চিঠিতে সাক্ষর করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মকর্তা বাধ্য করেছেন। এ ঘটনার পেছনে যারা জড়িত এবং যারা রেজিস্ট্রারকে জিম্মি করে এই কাজটি করতে বাধ্য করেছেন, তিনি যদি তাদের সম্পর্কে লিখিত দেন, তাহলে আমি পরবর্তীতে সে বিষয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেব।'

নরসিংদীতে ছাত্রশিবিরের গণইফতার, অংশ নিলেন ১ হাজার শিক্ষার্থী
  • ১১ মার্চ ২০২৬
আজ ইরানে 'সবচেয়ে শক্তিশালী' হামলা হবে: মার্কিন প্রতিরক্ষাম…
  • ১১ মার্চ ২০২৬
পবিপ্রবিতে উপাচার্যের অনুমোদন ব্যতীত চিঠি ইস্যু, রেজিস্ট্রা…
  • ১০ মার্চ ২০২৬
ইরান যুদ্ধ রাশিয়ার যুদ্ধকালীন অর্থনীতির জন্য আশীর্বাদ
  • ১০ মার্চ ২০২৬
সিনা টান করে বলবেন 'বাড়ি টুঙ্গিপাড়া': এমপি জিলানী
  • ১০ মার্চ ২০২৬
জ্বালানি তেল পাচার রোধে সীমান্তে বিজিবির কড়া নজরদারি
  • ১০ মার্চ ২০২৬
close