প্রতীকী ছবি © সংগৃহীত
রমজান মাসে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইফতারের সময় জানানোর নিয়ম ভিন্ন। কোথাও আজানের মাধ্যমে, কোথাও সাইরেন বা ডিজিটাল ঘড়ি ব্যবহার করা হয়। কিন্তু মিসরে এই মুহূর্তটি ঘোষণা করা হয় ভিন্নভাবে—কামান ছুড়ে। অর্থাৎ কামানের বিস্ফোরণের শব্দে দেশটিতে রোজা ভাঙে। শুধু মিসর নয়, মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশেও এই প্রথা এখনো চলমান। সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার ও জর্ডানসহ কয়েকটি দেশে এটি প্রচলিত।
রমজান শুরু উপলক্ষ্যে এই ঐতিহ্যবাহী প্রথা বহু শতাব্দী ধরে মিসরের সংস্কৃতির অংশ। স্থানীয়ভাবে এটি ‘মিদফা আল-ইফতার’ বা ‘রমজান ক্যানন’ নামে পরিচিত। কায়রোর ঐতিহাসিক দুর্গ সালাহ আল-দিন সিটাডেল থেকে সর্বশেষ ১৯৯২ সালে কামান ছোড়া হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ বছর ধরে এই প্রথা বন্ধ ছিল। কিন্তু ৩০ বছর পর আবারও দেশে এটি চালু করা হয়েছে। এবারের রমজানের প্রথম দিন থেকেই মিসরীয়রা ঐতিহ্য অনুযায়ী রোজা ভাঙছে। কর্তৃপক্ষ জানায়, এটি চালু করার মূল উদ্দেশ্য ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং মানুষের সাংস্কৃতিক স্মৃতি জীবিত রাখা। আধুনিক প্রযুক্তির কারণে এখন আর ইফতারের সময় জানানোর জন্য কামানের প্রয়োজন নেই, তবুও মিসরীয়দের কাছে এটি রমজানের জনপ্রিয় প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। স্থানীয়রা এটিকে শুধু সময় জানানোর মাধ্যম মনে করেন না, বরং রমজানের আবেগ, ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অংশ হিসেবে দেখেন।
রমজানে কামান ছোড়ার প্রথার উৎপত্তি নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে ভিন্ন মত রয়েছে। অনেকের মতে, এটি শুরু হয় ১৪৫৫ সালে। বর্ণনায় বলা হয়, মমলুক সুলতান খুশ কাদামকে জার্মান তৈরি একটি কামান উপহার হিসেবে দেওয়া হয়। একদিন তিনি দুর্ঘটনাক্রমে রমজানের প্রথম দিনে সূর্যাস্তের সময় কামানটি পরীক্ষা করেন। বিস্ফোরণের শব্দ শুনে এলাকার মুসলিমরা মনে করেন, রোজা ভাঙার সময় হয়েছে এবং তারা প্রথম খাবার গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে সুলতান নিয়মিত সূর্যাস্তের সময় কামান ছোড়ার নির্দেশ দেন।
অন্য বর্ণনায় বলা হয়, মিসরের শাসক মুহাম্মদ আলি পাশা ১৮০৫–১৮৪৮ সালের মধ্যে প্রথম রমজানে কামান ছোড়েন। তিনি শক্তিশালী মিসরীয় সেনা গঠনের জন্য প্রচুর কামান পরীক্ষা করছিলেন। দুর্ঘটনাক্রমেই রমজানের প্রথম দিন কামান ছোড়া হয়। এরপর ১৯ শতকের শেষ দিকে এই প্রথা কায়রো থেকে জেরুজালেম, দামাস্কাস ও বাগদাদে ছড়িয়ে পড়ে। ১৯০৭ সালে এটি কুয়েতে পৌঁছায় এবং পরে পুরো খাড়ি অঞ্চলে প্রচলিত হয়ে যায়।