পে-স্কেল © সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাবে বিশ্বের অর্থনীতি দমকা চাপের মুখে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনীতিও কাঁপছে। এই সংকটের মধ্যে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত নতুন পে-স্কেল কার্যকর করার ক্ষেত্রে সরকার ধাপে ধাপে পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি সংকট ও জাতীয় রাজস্ব ঘাটতির প্রেক্ষাপটে দ্রুত সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন সম্ভব নয়, তাই ধীর পদ্ধতিতেই এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।
অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতিমধ্যেই নির্দেশ দিয়েছেন, নতুন বেতনকাঠামো ধাপে ধাপে কার্যকর করা হবে। পুরো দেশের সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন একযোগে পরিবর্তন এখন সম্ভব নয়। সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন ও সুবিধার ওপর নেতিবাচক প্রভাব না পড়ানোর পাশাপাশি দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতাও বজায় রাখতে চাইছে সরকার।
গত বছরের ২৭ জুলাই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামো প্রণয়নের জন্য ২১ সদস্যের একটি কমিশন গঠন করা হয়। সাবেক অর্থ সচিব ও পিকেএসএফ চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান কমিশনের প্রধান ছিলেন। কমিশনকে ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয় এবং চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি কমিশন তাদের সুপারিশ জমা দেয়। বর্তমানে সরকার সেই প্রতিবেদন রিভিউ করে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
নতুন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, পে-স্কেলের সুপারিশ অনুযায়ী মোট অর্থের পরিমাণ ও বাস্তবায়নের সম্ভাব্যতা খতিয়ে দেখা হবে। সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামোর প্রভাব এবং দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।
অর্থমন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন বাজেট প্রণয়নের সময় সংসদে নতুন পে-স্কেল সংক্রান্ত আলোচনা হতে পারে। সরকারের লক্ষ্য হলো সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন কাঠামো আপডেট করা হলেও দেশের আর্থিক সংকট ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা।
এর মাধ্যমে সরকারের ধাপে ধাপে পদক্ষেপ নেওয়ার নীতির প্রতিফলন ঘটছে, যা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রেখে সরকারি কর্মচারীদের উপযুক্ত বেতন কাঠামো প্রদানের প্রক্রিয়াকে সহজতর করবে।