গ্রেপ্তারকৃত তিন আসামি © সংগৃহীত
ভোলার লালমোহনে অটোরিকশা চালককে হত্যা করে ইজিবাইক ছিনতাইয়ের ঘটনায় মূল রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ৩ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো চাকু ও ৪টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে ভোলা জেলা পুলিশের উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার শহিদুল্লাহ কাওছার।
পুলিশ জানায়, নিহত আবু বকর সিদ্দিক (৫১) পেশায় একজন অটোরিকশা (ইজিবাইক) চালক ছিলেন। গত ৩০ ডিসেম্বর রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে চরফ্যাশন পৌরসভা বাসস্ট্যান্ড থেকে লালমোহনের গজারিয়া বাজার যাওয়ার কথা বলে কয়েকজন যাত্রী তার ইজিবাইক ভাড়া করে। লালমোহন থানার পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের কচুয়াখালী এলাকায় পৌঁছালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে যাত্রীরা তাকে বুকে ধারালো চাকু দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে এবং নীল রঙের ইজিবাইকটি ছিনতাই করে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই চালকের মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে লালমোহন থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে সুলতান আল বাদী হয়ে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি লালমোহন থানায় হত্যা ও ডাকাতির অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-০১)।
মামলার পর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (লালমোহন সার্কেল) সত্যজিৎ কুমার ঘোষ-এর নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়। প্রযুক্তির সহায়তায় মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) ঘটনার মূল আসামি মোঃ ইব্রাহিম (৩৬)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে এবং আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।
ইব্রাহিমের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অপর দুই আসামি মোঃ রাজা (৩২) ও কাজী তারেক (৩৫)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত চাকু ও ৪টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ইব্রাহিম ও কাজী তারেকের বাড়ি চরফ্যাশন উপজেলার শশীভূষণ থানায় এবং মোঃ রাজার বাড়ি বোরহানউদ্দিন উপজেলার দেউলা এলাকায়। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃতরা সবাই একটি সক্রিয় আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সদস্য। এছাড়া মোঃ রাজার বিরুদ্ধে ঢাকার সাভার ও মোহাম্মদপুর থানায় হত্যা ও ডাকাতিসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
পুলিশ সুপার আরও জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার ও ছিনতাইকৃত ইজিবাইক উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) সোহান সরকার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সত্যজিৎ কুমার ঘোষসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।