ভিসা সুবিধা পেতে ডাকাতির নাটক, যুক্তরাষ্ট্রে ১১ ভারতীয় গ্রেপ্তার

১৫ মার্চ ২০২৬, ০৮:১৭ AM , আপডেট: ১৫ মার্চ ২০২৬, ০৮:১৭ AM
ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন

ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন © সংগৃহীত

ভিসা জালিয়াতির অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে ১১ জন ভারতীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, অভিবাসন সুবিধা পাওয়ার উদ্দেশ্যে তারা পরিকল্পিতভাবে ভুয়া সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনা সাজিয়ে নিজেদের অপরাধের শিকার হিসেবে উপস্থাপন করতেন।

মার্কিন অঙ্গরাজ্য ম্যাসাচুসেটসের বোস্টনে ফেডারেল তদন্তকারীরা জানান, অভিযুক্তরা বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও দোকানে সাজানো ডাকাতির ঘটনা ঘটিয়ে সেসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিদের অপরাধের শিকার হিসেবে দেখানোর ব্যবস্থা করতেন। এর মাধ্যমে তারা যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ অভিবাসন সুবিধা পাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভিসা জালিয়াতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে অপরাধের শিকার হয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তদন্তে সহায়তা করা বিদেশি নাগরিকদের জন্য বিশেষ অভিবাসন সুবিধা হিসেবে পরিচিত ইউ-ভিসা। তদন্তকারীদের মতে, এই ভিসা পাওয়ার উদ্দেশ্যেই পুরো ঘটনাগুলো সাজানো হয়েছিল।

ফেডারেল তদন্ত সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তরা কনভিনিয়েন্স স্টোর, মদের দোকান ও ফাস্টফুড রেস্টুরেন্টসহ বিভিন্ন স্থানে অন্তত ছয়টি সাজানো ডাকাতির ঘটনা ঘটিয়েছেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী একজন ব্যক্তি অস্ত্রের মতো দেখতে কোনো বস্তু হাতে নিয়ে দোকানে ঢুকে ক্যাশ কাউন্টার থেকে টাকা নিয়ে পালিয়ে যেতেন। পুরো ঘটনাটি যেন বাস্তব মনে হয়, সে জন্য তা প্রতিষ্ঠানের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ করা নিশ্চিত করা হতো।

তদন্তে আরও জানা যায়, ঘটনাকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করতে দোকানে থাকা ব্যক্তিরা সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে খবর দিতেন না। বরং ইচ্ছাকৃতভাবে অন্তত পাঁচ মিনিট বা তার বেশি সময় অপেক্ষা করতেন, যাতে ভুয়া ডাকাত সহজেই পালিয়ে যেতে পারে এবং ঘটনাটি বাস্তব বলে মনে হয়।

তদন্তকারী সংস্থাগুলোর দাবি, এই পরিকল্পনায় অংশ নেওয়ার জন্য কিছু ব্যক্তি অর্থও প্রদান করতেন, যাতে তারা নিজেদের অপরাধের শিকার হিসেবে উপস্থাপন করতে পারেন। অভিযোগ রয়েছে, এই অর্থের একটি অংশ সংগঠকেরা দোকান মালিকদের দিতেন, যাতে তাদের প্রতিষ্ঠানে ভুয়া ডাকাতির ঘটনা সাজানো যায়।

গ্রেপ্তার হওয়া ছয়জন হলেন জিতেন্দ্রকুমার প্যাটেল, মহেশকুমার প্যাটেল, সঞ্জয়কুমার প্যাটেল, অমিতাবাহেন প্যাটেল, সঙ্গীতাবেন প্যাটেল এবং মিতুল প্যাটেল। তাদের ম্যাসাচুসেটসে গ্রেপ্তার করে বোস্টনের ফেডারেল আদালতে প্রাথমিক শুনানিতে হাজির করা হয় এবং পরে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে রমেশভাই প্যাটেল, রোনাককুমার প্যাটেল, সোনাল প্যাটেল এবং মিনকেশ প্যাটেল–কে কেনটুকি, মিসৌরি ও ওহাইয়ো অঙ্গরাজ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরবর্তী শুনানির জন্য তাদের বোস্টনের ফেডারেল আদালতে হাজির করা হবে।

মার্কিন আইনে ভিসা জালিয়াতির ষড়যন্ত্র প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড, তিন বছর পর্যন্ত তদারকির অধীনে মুক্তি এবং সর্বোচ্চ ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার জরিমানার মুখোমুখি হতে হতে পারে।

ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই), মার্কিন অভিবাসন বিভাগ এবং বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগে এই তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। তথ্যসূত্র: এনডিটিভি

সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের ঐতিহাসিক ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্…
  • ০৮ আগস্ট ২০২৬
সে হয়ত না ‍বুঝে করেছে—মঞ্চে বোতল নিক্ষেপ নিয়ে গায়ক হাসান
  • ০৮ আগস্ট ২০২৬
শান্তিপূর্ণ ও সহনশীল ক্যাম্পাস গড়তে সবাইকে দায়িত্বশীল হওয…
  • ০৮ আগস্ট ২০২৬
‘খুনী’-আওয়ামীপন্থি শিক্ষকরা থাকছেন সিনেটে, বয়কটের ঘোষণা দিল…
  • ০৮ আগস্ট ২০২৬
কনস্টেবলের মতোও লাগে না—ওসিকে যুবদল আহ্বায়ক
  • ০৭ আগস্ট ২০২৬
সাকিবের সব রেকর্ড মুছে ফেলুন, বিসিবিকে শফিকুল
  • ০৭ আগস্ট ২০২৬