চবির শাটলট্রেন © সংগৃহীত
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শাটলট্রেন সংস্কারে চাকসুর উদ্যোগে বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাপরিচালকের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও চাকসুর মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সভার বিষয়টি নিশ্চিত করেন চাকসুর আবাসন ও যোগাযোগ সম্পাদক মো. ইসহাক ভুঁইয়া।
তিনি বলেন, গতকাল সোমবার চাকসুর উদ্যোগে পূর্ব নির্ধারিত সময়ানুযায়ী রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের নবনিযুক্ত মহাপরিচালকের সঙ্গে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটলট্রেনের লাইন সংস্কার, স্টেশন রেনোভেশনসহ সমস্যা সমাধানে জরুরি ১৫টি পদক্ষেপ নিয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভা সূত্রে জানা যায়, চবি শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে চাকসুর যোগাযোগ ও আবাসন বিষয়ক সম্পাদক ইসহাক ভুঁইয়া শাটল ট্রেনের বিদ্যমান সমস্যাগুলো তুলে ধরেন। এসময় উপস্থিত রেলওয়ের কর্মকর্তাবৃন্দ স্ব স্ব বিভাগের সমস্যাগুলো সমাধানে গ্রহণীয় উদ্যোগসমূহ ব্যাখ্যা করেন। পরে সর্বশেষ রেলওয়ের মহাপরিচালক (পূর্ব) সবগুলো সমস্যা সমাধানে স্বল্প মেয়াদি ও দীর্ঘ মেয়াদি ১৫টি উদ্যোগ গ্রহণের সিদ্ধান্ত জানান।
এসময় সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী মো. তানভিরুল ইসলাম, সিইই মুহাম্মদ শফিকুর রহমান, সিএমই মোহাম্মদ জাকির হাসান, সিএসটিই তারেক মো. সামছ তুষার, সিসিএম সুজিত কুমার বিশ্বাস, ডিআরএম মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁঞা, সিওপিএস-ই মোহাম্মদ সফিকুর রহমান, ডিইই মো. তাকি আল জাওয়াদ, এজিএম শেখ ফরিদ, ডিটিও ফারহান মাহমুদ, এসি আরএনবি সালামত উল্লাহ, সিআরএনবি মো. মোরশেদ আলম, ডিএমই আব্দুল্লাহ আল মাসুদ উপস্থিত ছিলেন।
চবির পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন সহকারী প্রক্টর ও রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. কামরুল হোসাইন, চাকসুর জিএস সাঈদ বিন হাবিব, চাকসুর যোগাযোগ ও আবাসন সম্পাদক মো. ইসহাক ভূঁঞা, সহ-যোগাযোগ ও আবাসন সম্পাদক ওবাইদুল সালমান, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও প্রকাশনা সম্পাদক হারেস মাতব্বর উপস্থিত ছিলেন।
চাকসুর যোগাযোগ ও আবাসন সম্পাদক মো. ইসহাক ভূঁঞা বলেন, শাটলের সমস্যাসমূহ সমাধানে ইতিপূর্বে প্রায় ৫ বার রেলওয়ের সাথে আমাদের সভা হয়েছে। যার প্রেক্ষিতে শাটলে পাওয়ার কার সংযোজন, নতুন রেক সংযোজন, নিয়মিত নিরাপত্তা অভিযান, লাইট ফ্যান সচল করাসহ অনেকগুলো সমস্যার সমাধান হয়েছে। কিন্তু বগি স্বল্পতার কারণে শাটলে শিক্ষার্থীরা অনেক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, আজকে সভায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল, পিক আওয়ারে নতুন একটি ট্রিপ চালু করা এবং বগির বৃদ্ধির লক্ষ্যে ক্যাম্পাস স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম সংস্কার করা। আশা করছি, আজকে সিদ্ধান্ত হওয়া পদক্ষেপগুলো যথাযথ সময়ে গ্রহণ করতে পারলে শিক্ষার্থীরা পরিবহনের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাবে।
স্বল্প মেয়াদি ১০ উদ্যোগ:
১. ২য় ট্রেনটির কোচ পরিবর্তন করে নতুন কোচ সংযোজন।
২. প্রতি সপ্তাহে ট্রেন ক্লিনিংয়ের ব্যবস্থা করা।
৩. দুপুর ২:০০ টা থেকে ৩:৩৫ টার মধ্যে নতুন ট্রিপ সংযোজন।
৪. ক্যাম্পাস স্টেশনের ড্রেনেজ ব্যবস্থা মেরামত করা।
৫. শাটলের সব লাইট, ফ্যান সংস্কার করা।
৬. রাতের বেলায় ট্রেনের দরজা, জানালা অফ রাখা।
৭. শাটল অ্যাপকে রেলওয়ের রেগুলার সার্ভিসে অন্তর্ভুক্তিকরণ।
৮. শিডিউল বিপর্যয় রোধে সকল পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিশেষ নির্দেশনা প্রদান।
৯. রেললাইনের দুই পাশের ঝোপ ঝাড় পরিস্কার করা।
১০. পাথর নিক্ষেপ বন্ধে পুলিশের সাথে সমন্বয় করে তড়িৎ অভিযান।
দীর্ঘমেয়াদি ৫ উদ্যোগ:
১১. নতুন ইঞ্জিন সংযোজন।
১২. ক্যাম্পাস স্টেশান রেনোভেশান। অলরেডি টেন্ডারে গিয়েছে। শীঘ্রই কাজ শুরু হবে।
১৩. ক্যাম্পাস স্টেশানে রেললাইনের দৈর্ঘ বৃদ্ধি করা। ন্যুনতম চৌদ্দটি বগি সংযোজন যোগ্য করে লাইন সংস্কার। লাইন সংস্কার শেষে বগি বৃদ্ধি করা হবে।
১৪. ষোলশহর থেকে ক্যাম্পাস পর্যন্ত রেললাইন সম্পূর্ণ সংস্কার করা হবে।
১৫. অক্সিজেন স্টপেজ চালু করার লক্ষ্যে যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ।