ইরান যুদ্ধ নিয়ে নেতিবাচক সংবাদ প্রচার করলে লাইসেন্স বাতিলের হুমকি ট্রাম্প প্রশাসনের

১৫ মার্চ ২০২৬, ০৩:৫০ AM , আপডেট: ১৫ মার্চ ২০২৬, ০৩:৫৭ AM
ডোনাল্ড ট্রাম্প

ডোনাল্ড ট্রাম্প © টিডিসি ফটো

ইরান যুদ্ধের খবর ‘বিকৃত’ করার অভিযোগ এনে সংবাদমাধ্যমগুলোর সম্প্রচার লাইসেন্স বাতিলের হুমকি দিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। খবর আল জাজিরা।

মার্কিন ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশনের (এফসিসি) চেয়ারম্যান ব্রেন্ডন কার শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে বলেন, সম্প্রচার মাধ্যমগুলোকে অবশ্যই ‘জনস্বার্থে’ কাজ করতে হবে, অন্যথায় তারা লাইসেন্স হারাবে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই হুঁশিয়ারিকে সংবাদমাধ্যমের ওপর নজিরবিহীন চাপ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

এফসিসি চেয়ারম্যান ব্রেন্ডন কার তার পোস্টে লিখেছেন, ‘যেসব সম্প্রচারকারী সংস্থা গুজব এবং খবর বিকৃত করে সংবাদ প্রচার করছে, লাইসেন্স নবায়নের আগে তাদের সামনে এখনও সংশোধনের সুযোগ আছে।’

ব্রেন্ডন  কারের এই মন্তব্যকে সেন্সরশিপ বা সংবাদমাধ্যমের কণ্ঠরোধের চেষ্টা হিসেবে দেখছেন মুক্তমত প্রকাশের পক্ষের আন্দোলনকারী ও রাজনীতিবিদরা। হাওয়াই অঙ্গরাজ্যের সিনেটর ব্রায়ান শ্যাটজ এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, ‘এটি যুদ্ধের ইতিবাচক খবর প্রচারের একটি পরিষ্কার নির্দেশ, অন্যথায় লাইসেন্স নবায়ন না করার প্রচ্ছন্ন হুমকি।’ তিনি আরও বলেন, এটি সাধারণ কোনো বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান নয়, বরং একটি যুদ্ধের খবর কীভাবে পরিবেশন করা হবে তা নিয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ।

ফাউন্ডেশন ফর ইন্ডিভিজুয়াল রাইটস অ্যান্ড এক্সপ্রেশন (ফায়ার)-এর পাবলিক অ্যাডভোকেসি ডিরেক্টর অ্যারন টের প্রশাসনের এমন অবস্থানের সমালোচনা করে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনী সরকারকে যুদ্ধ সংক্রান্ত তথ্য সেন্সর করার অনুমতি দেয় না।’ 

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টের পরই এফসিসি চেয়ারম্যান এই কড়া বার্তা দেন। ট্রাম্প অভিযোগ করেছিলেন যে, ‘ফেক নিউজ মিডিয়া’ সৌদি আরবে ইরানি হামলায় মার্কিন জ্বালানি বিমান ধ্বংস হওয়ার মিথ্যা তথ্য প্রচার করছে। ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে দাবি করেন, ‘পাঁচটির মধ্যে চারটি বিমানের কোনো ক্ষতিই হয়নি এবং সেগুলো ইতিমধ্যেই পরিষেবায় ফিরেছে।’ ট্রাম্প আরও লিখেছেন, ‘নিম্নমানের এসব সংবাদপত্র ও মিডিয়া আসলে চায় আমরা যুদ্ধে হেরে যাই।’

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ খোদ যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের কাছেও খুব একটা জনপ্রিয় নয়। কুইনিপিয়াক-এর সাম্প্রতিক এক জরিপ বলছে, ৫৩ শতাংশ ভোটার এই সামরিক অভিযানের বিরোধী, যার মধ্যে ৮৯ শতাংশ ডেমোক্র্যাট এবং ৬০ শতাংশ স্বতন্ত্র ভোটার। 

আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা এই যুদ্ধকে আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছেন। যদিও ট্রাম্প দাবি করেছেন, ‘প্রথম এক ঘণ্টার মধ্যেই আমরা জিতে গেছি’, কিন্তু বাস্তবে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন বাহিনীর ওপর ইরানের হামলা অব্যাহত রয়েছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ গত শুক্রবার এক ব্রিফিংয়ে জনমত যুদ্ধের বিপক্ষে যাওয়ার জন্য সরাসরি সংবাদমাধ্যমকে দায়ী করেন। ফক্স নিউজের সাবেক এই উপস্থাপক সাংবাদিকদের ‘দেশপ্রেমিক’ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘মিডল ইস্ট যুদ্ধ তীব্র হচ্ছে’—এমন শিরোনাম না লিখে বরং ‘ইরান ক্রমশ মরিয়া হয়ে উঠছে’—এই ধরনের ইতিবাচক শিরোনাম লেখা উচিত। 

সিএনএন-এর কড়া সমালোচনা করে হেগসেথ আশা প্রকাশ করেন যে, খুব শিগগিরই সংবাদমাধ্যমটি ট্রাম্পের মিত্র ল্যারি এলিসনের ছেলে ডেভিড এলিসনের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে। তার মতে, ‘ডেভিড এলিসন যত দ্রুত এই নেটওয়ার্কের দায়িত্ব নেবেন, ততই মঙ্গল।’ 

সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের ঐতিহাসিক ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্…
  • ০৮ আগস্ট ২০২৬
সে হয়ত না ‍বুঝে করেছে—মঞ্চে বোতল নিক্ষেপ নিয়ে গায়ক হাসান
  • ০৮ আগস্ট ২০২৬
শান্তিপূর্ণ ও সহনশীল ক্যাম্পাস গড়তে সবাইকে দায়িত্বশীল হওয…
  • ০৮ আগস্ট ২০২৬
‘খুনী’-আওয়ামীপন্থি শিক্ষকরা থাকছেন সিনেটে, বয়কটের ঘোষণা দিল…
  • ০৮ আগস্ট ২০২৬
কনস্টেবলের মতোও লাগে না—ওসিকে যুবদল আহ্বায়ক
  • ০৭ আগস্ট ২০২৬
সাকিবের সব রেকর্ড মুছে ফেলুন, বিসিবিকে শফিকুল
  • ০৭ আগস্ট ২০২৬