তাওহীদ হৃদয় © সংগৃহীত
জাতীয় দলের নিয়মিত সদস্য তাওহীদ হৃদয়। গত তিন বছর ধরে সাদা বলের ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন এই ব্যাটার। চলতি বছর টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক হলেও প্রথম ম্যাচে নিজের সামর্থ্যের পুরোটা মেলে ধরতে পারেননি। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে ৩৫০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে ফের আলোচনায় এসেছেন হৃদয়।
স্বাভাবিকভাবেই এমন ঐতিহাসিক ইনিংসের পর টেস্ট দলে হৃদয়ের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমনের দাবি, নতুন করে নির্বাচকদের নজরে আসেননি হৃদয়; বরং অনেক আগ থেকেই লাল বলের ক্রিকেটের পরিকল্পনায় আছেন তিনি।
এ নিয়ে হাবিবুল বাশার সুমন বলেন, ‘হৃদয় টেস্টের জন্যও যোগ্য, অনেক আগেই বলেছি। তামিমকে (তানজিদ) যখন টেস্ট দলে নেওয়া হয়েছিল, তখনই বলা হয়েছিল হৃদয়ও টেস্টে ভালো করবে। সে সবসময় লাল বলের বিবেচনায় রয়েছে। আসন্ন আফগানিস্তান টেস্টে থাকবে কি না, সেটা সময় বলবে।’
হৃদয়ের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে উচ্ছ্বসিত জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুলও। গত ১০ মাসে হৃদয়ের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে এই ব্যাটারের পরিশ্রম ও ধারাবাহিকতার প্রশংসা করেছেন তিনি।
আশরাফুল বলেন, ‘হৃদয়ের পারফরম্যান্সে আমি খুবই খুশি। গত ১০ মাস ধরে দলের সঙ্গে কাজ করছি। ও ব্যাটিং নিয়ে পরিশ্রম করে, অসাধারণ।’
টেস্ট অভিষেকে ব্যর্থ হওয়ার পর হৃদয় দ্রুত নিজের ভুলগুলো চিহ্নিত করে সেখান থেকে শিক্ষা নিয়েছেন বলেও মনে করেন আশরাফুল। তিনি বলেন, ‘জিম্বাবুয়েতে টেস্ট অভিষেক এতটা ভালো হয়নি। ওই দুই ইনিংসেই বুঝতে পেরেছে ভুলটা কোথায়।’
এরপরই দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ‘এ’ দলের হয়ে ৩৫০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়েছেন হৃদয়। তার এই ইনিংসকে অসাধারণ বলছেন আশরাফুল।
তিনি বলেন, ‘পরের ইনিংসেই ৩৫০ নটআউট- অসাধারণ। ১০ মাসে রেকর্ড দেখুন সাদা বলের- ওয়ানডেতে ৬০+ গড়, টি-টোয়েন্টিতে ৪৫। স্ট্রাইক রেট ১৪০। প্রচুর ধারাবাহিক। এখন লাল বলেও দারুণ রেকর্ড। যেহেতু টেস্ট দল খুব অভিজ্ঞ, এমন পারফর্ম করতে থাকলে সুযোগ হলেই নির্বাচকরা ডাকবেন, ভালো হবে। গত ৩ বছর ধরেই সাদা বলে সে গুরুত্বপূর্ণ একজন।’
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাকাই টেস্টে হৃদয় থাকলে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স আরও ভালো হতে পারত কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে অবশ্য ভিন্ন প্রেক্ষাপটের কথা উল্লেখ করেছেন আশরাফুল।
তিনি বলেন, ‘এটা তো ভিন্ন প্রেক্ষাপট। ডারউইনে আমরা অসাধারণ পারফর্ম করেছি। শুধু অসাধারণ না, দেশের সব জয়ের ওপরে এই জয়। ১১ সেশন ডমিনেট করে জিতেছি। ম্যাকাইতে ভালো করতে পারিনি, কন্ডিশন ভিন্ন ছিল। টসও বড় ভূমিকা রেখেছে।’
দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে হৃদয়ের ৩৫০ রানের ইনিংস তাই শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, টেস্ট ক্রিকেটে তার সম্ভাবনা নিয়েও নতুন করে ভাবনার সুযোগ তৈরি করেছে। এখন দেখার বিষয়, আসন্ন আফগানিস্তান সিরিজেই লাল বলের ক্রিকেটে আরেকটি সুযোগ পান কি না এই তরুণ ব্যাটার।