বিক্ষোভ কর্মসূচি © টিডিসি ফটো
সরকারি চাকরিতে নিয়োগের পুলিশ ভেরিফিকেশনে পাশকৃত প্রার্থীদের বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (চাকসু)। রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে এ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়। এ সময় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জিরো পয়েন্ট এসে মিছিলটি শেষ হয়।
বিক্ষোভ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন চাকসুর জিএস সাইদ বিন হাবিব, আবাসন ও যোগাযোগ সম্পাদক ইসহাক ভুঁইয়া, মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক মোনায়েম শরীফ, পাঠাগার ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক মাসুম বিল্লাহসহ চাকসু নেতৃবৃন্দ।
চাকসুর আবাসন ও যোগাযোগ সম্পাদক ইসহাক ভুঁইয়া বলেন, সরকার শিক্ষক নিয়োগ ও ব্যবস্থাপনা কমিটিতে অন্যায্য পরিবর্তন এনে নিজেদের দলীয় কর্মীদের সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানো এবং নিয়োগের শেষ পর্যায়ে ভেরিফিকেশনের নামে মেধাবীদের বাদ দেওয়ার যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এর মাধ্যমে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে দলীয় লোকজনকে সুযোগ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, ছাত্র-জনতার আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে গিয়ে কোনো অন্যায্য ও জনবিরোধী সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা মেনে নেওয়া হবে না। সরকারকে এ ধরনের সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ড থেকে অবিলম্বে বিরত থাকতে হবে। অন্যথায় জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জনগণের যে গণরোষ তৈরি হবে, তার দায় সরকারকেই নিতে হবে এবং শেষ পর্যন্ত গণরোষের মুখে তাদের ক্ষমতা ছাড়তে হতে পারে।
জিএস সাইদ বিন হাবিব বলেন, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে সচিবদের পরিবর্তে নিজেদের রাজনৈতিক কর্মীদের নিয়োগ দিয়ে নগ্ন দলীয়করণ শুরু করেছে। শিক্ষক নিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রেও অন্যায্য হস্তক্ষেপ ও সুপারিশের মাধ্যমে ছাত্র-জনতার আকাঙ্ক্ষাকে বারবার বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে জনস্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে দেশ পরিচালনার পরিবর্তে সরকার একের পর এক জনস্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, যার প্রভাব ইতোমধ্যে বিভিন্ন ক্যাম্পাসেও পড়ছে এবং উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, জনগণ পরিবর্তনের প্রত্যাশা নিয়ে তাদের দায়িত্ব দিয়েছে, তাই সেই প্রত্যাশার প্রতি সম্মান দেখানো সরকারের দায়িত্ব। বিএনপির প্রতি আহ্বান থাকবে, হঠকারী ও বিতর্কিত সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে জনগণের প্রত্যাশা, ছাত্র-জনতার আকাঙ্ক্ষা এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে সুন্দর ও জনকল্যাণমুখীভাবে দেশ পরিচালনা করুন।