তাওহীদ হৃদয় © সংগৃহীত
সবচেয়ে কম বয়সী ক্রিকেটার ও প্রথম আফগান হিসেবে বিপিএলে সেঞ্চুরি করে ইতিহাস গড়লেও হাসান ইসাখিলের রঙিন দিনটা জয় দিয়ে রাঙাতে পারেনি নোয়াখালী এক্সপ্রেস। পরাজয়ের মধ্য দিয়েই বিপিএল যাত্রা শেষ হলো তাদের। অন্যদিকে আগের ম্যাচে ঢাকা ক্যাপিটালসকে হারিয়ে প্লে-অফ নিশ্চিত করেছিল রংপুর রাইডার্স।
শেষ ম্যাচে জিতলে সেরা দুইয়ে থাকার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় ম্যাচটিতে বাড়তি গুরুত্ব ছিল তাদের জন্য। সেই সমীকরণের লড়াইয়ে নোয়াখালীকে একপ্রকার উড়িয়ে দেয় রংপুর। তবে নেট রানরেট সেভাবে বাড়িয়ে নিতে পারেনি রাইডার্সরা। এতে টেবিলের তিনে থেকেই গ্রুপ পর্ব শেষ করল লিটন দাসের দল। এর ফলে আগামী ২০ জানুয়ারি সন্ধ্যায় এলিমিনেটর ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ সিলেট টাইটান্স।
রবিবার (১৮ জানুয়ারি) হোম অব ক্রিকেটে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ১৭৩ রানের সংগ্রহ পায় নোয়াখালী। দলের হয়ে ৭২ বলে ১০৭ রান করে অপরাজিত ছিলেন মোহাম্মদ নবিপুত্র ইসাখিল। জবাবে ১৯ দশমিক ৪ ওভারে ৮ উইকেট হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় রংপুর। ৬৩ বলে ১০৯ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন হৃদয়।
লক্ষ্য তাড়ায় নেমে রংপুর রাইডার্সকে দুর্দান্ত সূচনা এনে দেন ডেভিড মালান ও তাওহীদ হৃদয়। উদ্বোধনী জুটিতে ৭৮ রান যোগ করেন তারা। মালান ১৭ বলে ১৫ রান করে ফিরলেও পুরো ইনিংসজুড়েই নিয়ন্ত্রণ নেন হৃদয়। দারুণ ছন্দে ব্যাটিং করে ৫৭ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। ৬৩ বলে ১৫ চার ও ২ ছক্কায় ১০৯ রানের ঝলমলে ইনিংস খেলে ১৯তম ওভারে সাজঘরে ফেরেন হৃদয়। তার ব্যাটেই টুর্নামেন্টে নিজেদের ষষ্ঠ জয় নিশ্চিত করেছে রাইডার্সরা।
শেষদিকে খুশদিক শাহকে সঙ্গে নিয়ে জয় নিশ্চিত করেন অধিনায়ক লিটন। শেষমেশ ৩৫ বলে ৩৯ রান করে অপরাজিত থাকেন লিটন।
এর আগে, ব্যাটিংয়ে নেমে পাওয়ারপ্লের শেষ ওভারেই ৩২ রানে রহমত আলীকে হারায় নোয়াখালী। কিছুক্ষণ পর দলীয় ৩৬ রানে আরেক ধাক্কা আসে, ব্যর্থতার বৃত্তে থাকা জাকের আলী অনিকও ফেরেন সাজঘরে
শুরুতে চাপের মুখে পড়লেও এরপর ইনিংসের দায়িত্ব নেন হাসান ইসাখিল ও অধিনায়ক হায়দার আলী। ইসাখিল প্রথমে সময় নিয়ে খেললেও সেট হওয়ার পর আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন। অন্যপ্রান্তে উইকেট বুঝে রানের গতি সচল রাখেন হায়দার।
৪ চার ও ১০ ছক্কায় ৭০ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ইসাখিল। বিপিএলে প্রথম আফগান ব্যাটসম্যান হিসেবে শতক হাঁকান মোহাম্মদ নবির ছেলে, অভিষেক ম্যাচেও অল্পের জন্য সেঞ্চুরি মিস করেছিলেন তিনি।
এই ইনিংসে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন হায়দার আলীও, শেষ পর্যন্ত ৩২ বলে অপরাজিত ৪২ রান করেন তিনি। আর ইসাখিল ৭২ বলে ১০৭ রান করে অপরাজিত থাকেন। তাদের দৃঢ় জুটিতেই ২০ ওভারে মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে ১৭৩ রানের সংগ্রহ পায় নোয়াখালী।
রংপুরের হয়ে একটি করে উইকেট নেন নাহিদ রানা ও আলিস আল ইসলাম।