আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি © সংগৃহীত
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত হয়েছেন। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ভোরে তেহরানে তার নিজ দপ্তরে অবস্থানকালে এক হামলায় তিনি প্রাণ হারান বলে নিশ্চিত করেছে ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা ফারস নিউজ এজেন্সি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনকালে খামেনি হামলার শিকার হন। সরকারি বিবৃতিতে ঘটনাটিকে ‘কাপুরুষোচিত হামলা’ হিসেবে উল্লেখ করে জানানো হয়, শনিবার ভোরে এ আক্রমণ চালানো হয়।
ইরানের নেতৃত্ব কে দেবেন?
ইরানের সর্বোচ্চ এই নেতার নিহত হওয়ার খবরে তেহরানসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—খামেনির অনুপস্থিতিতে ইরানের নেতৃত্ব কার হাতে যাবে?
ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যু হলে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব অস্থায়ীভাবে তিন সদস্যের একটি কাউন্সিলের হাতে ন্যস্ত হতে পারে। এই কাউন্সিলে থাকবেন ইরানের রাষ্ট্রপতি, বিচার বিভাগের প্রধান এবং অভিভাবক পরিষদের একজন ধর্মগুরু। তারা দেশের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করবেন এবং পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া তদারক করবেন।
তেহরান থেকে আল জাজিরার এক সাংবাদিক রবিবার (১ মার্চ) জানিয়েছে, ‘এই সময়ে আমরা জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলী লারিজানিকে কর্তৃত্ব দেওয়ার খবরও পাচ্ছি।’ তবে এসব তথ্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত নয়।
এর আগে রয়টার্স জানিয়েছিল, ইরানের ওপর কোনো হামলা বা গুপ্তহত্যার ঘটনা ঘটলে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিতে পারেন আলী লারিজানি—এমন নির্দেশনা দিয়েছিলেন খামেনি নিজেই। তেহরানের শাসনব্যবস্থা সুরক্ষিত রাখতে তিনি সামরিক ও সরকারি উচ্চপদে চার স্তরের উত্তরাধিকার পরিকল্পনাও প্রণয়ন করেন। অর্থাৎ কোনো শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হলে তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে ধারাবাহিকভাবে চারজনের নাম আগেভাগেই নির্ধারণ করা হয়েছে।
নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, খামেনির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হলে বা তিনি নিহত হলে তার ঘনিষ্ঠ বিশ্বাসভাজনদের একটি দল দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেবে। সম্ভাব্য শীর্ষ নেতৃত্বের তালিকায় আলী লারিজানি ছাড়াও রয়েছেন পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি।