বিশ্বকাপ ফুটবল উন্মাদনা

নেত্রকোনায় আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল সমর্থকদের জার্সি কেনার হিড়িক

১১ জুন ২০২৬, ১১:৫৭ AM , আপডেট: ১১ জুন ২০২৬, ১২:০০ PM
ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার পতাকা দেখছেন সমর্থকরা

ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার পতাকা দেখছেন সমর্থকরা © টিডিসি

আজ রাতে পর্দা ‍উঠছে ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের। নিজের দেশের অংশগ্রহণ না থাকলেও সাত সমুদ্র তের নদীর এপারের বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের এ নিয়ে উৎসাহের কমতি নেই। এরই ধারাবাহিকতায় নেত্রকোনার বিভিন্ন উপজেলায় বাজ্রিল-আর্জেন্টিনার সমর্থকদের মধ্যে জার্সি কেনার হিড়িক পড়ছে বিভিন্ন গার্মেন্টসসহ স্পোর্টসের দোকানগুলোয়। বিশেষ করে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা দলের সমর্থকদের উন্মাদনা জ্বরের পারদ মিটার যেন এখন সপ্তমে। চিরাচরিত চিত্রের মতো এবারও প্রিয় দলের ভালোবাসায় মুখর এ দেশের এই ফুটবল পাগলরা। তাই নানা পাগলামীতে মেতে উঠেছে তারা। নেত্রকোনার বিভিন্ন উপজেলার পাশাপাশি  কেন্দুয়ায় ফুটবল বিশ্বকাপের এই উন্মাদনা মাত্রা এখন আকাশচুম্বী। এখানে প্রতিপক্ষকে পাল্লা দিয়ে একের পর এক নানা আয়োজন করে যাচ্ছে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার সমর্থকরা। শেষ মুহূর্তে বিশাল বিশাল আনন্দ শোডাউন ও স্বাগত মিছিল করছে দুদলের সমর্থকরা।

সরেজমিনে উপজেলার মধ্যবাজারসহ বিভিন্ন এলাকার দোকানগুলোয় গিয়ে দেখা যায় তুমুল ব্যস্ততা। দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল সমর্থকরা জার্সি কেনার জন্য সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ভিড় করছেন। চায়ের কাপে ঝড় তোলা  পাড়া-মহল্লা থেকে শুরু করে শহরের অলিগলিতে এখন ফুটবল নিয়ে তুমুল আলোচনা।

গার্মেন্টস ব্যবসায়ী গোলাপ জানান, এক সপ্তাহ ধরে ফুটবল বিশ্বকাপের জন্য জার্সি বিক্রি বেড়েছে। তবে দাম একটু বেশি। বিভিন্ন কোয়ালিটির জার্সি বিক্রি হচ্ছে। ২৫০ থেকে ৬০০ টাকা এবং ৭০০ থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া জার্সিতে প্রিয় খেলোয়াড় কিংবা নিজের নাম লেখাতে অতিরিক্ত ৬০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হচ্ছে।

বেচাকেনা নিয়ে আরেক ব্যবসায়ী রইছ উদ্দিন বলেন, ঈদের আগেই বিক্রি ভালো ছিল। অনেকেই বাড়িতে যাওয়ার সময় সন্তানদের জন্য জার্সি-পতাকা কিনে নিয়েছেন। এবার ব্রাজিলের ও আর্জন্টিনা পতাকা তুলনামূলক বেশি বিক্রি হচ্ছে। খেলা শুরু হলে বিক্রি বাড়বে বলে আশা করছেন। আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের পাশাপাশি স্পেন, পর্তুগাল, ফ্রান্স ও জার্মানির পতাকাও বিক্রি হচ্ছে বলে জানালেন তিনি।

বিশ্বকাপ উপলক্ষে জার্সি কিনতে আসা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমার ছেলে নেইমারের ভক্ত। তাই ব্রাজিলের জার্সি কিনেছি। জার্সিতে ওর নামও লিখে দেব।’

আরেক শিক্ষার্থী  রাকিব বলেন, ‘আমি ছোটবেলা থেকেই আর্জেন্টিনার সমর্থক। বিশ্বকাপ এলেই বন্ধুদের সঙ্গে নতুন জার্সি কিনি। এবার মেসির শেষ বিশ্বকাপ হতে পারে, তাই বিশেষভাবে আর্জেন্টিনার জার্সি কিনেছি।’

জার্সি কিনতে আসা গৃহিণী নাসরিন আক্তার বলেন, ‘আমার দুই ছেলেমেয়ে ব্রাজিলের ভক্ত। ওদের জন্য জার্সি কিনেছি। বিশ্বকাপকে ঘিরে বাসায়ও আলাদা একটা উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে।’

অন্যদিকে দোকানে ব্যানার বানাতে আসা ব্রাজিল সমর্থক শফিক ও জাকির বলেন, ‘আমাদের এলাকার প্রায় ১০০ জন মিলে টাকা তুলে বিশাল ব্যানার তৈরি করছি। বিশ্বকাপ উপলক্ষে প্রিয় দলকে শুভেচ্ছা জানাতেই আমাদের এই আয়োজন।অন্যদিকে আর্জেন্টিনার সমর্থক গোলাপ ও আয়েশ জানান, বন্ধুরা মিলে জমানো টাকা দিয়ে আর্জেন্টিনা ও মেসির ছবিসহ বড় ব্যানার বানাচ্ছেন তারা।’

ডিজিটাল সাইন ও প্রিন্টিং ব্যবসায়ী পাপ্পু জানান, নির্বাচন বা ঈদের মৌসুমের মতোই এখন তাদের ব্যবসা চাঙ্গা। প্রতিদিন শত শত তরুণ কম্পিউটারের পাশে বসে নিজেদের পছন্দমতো ডিজাইন করে ব্যানার বানাচ্ছেন। কাজের চাপ এতটাই বেশি যে, ব্যবসায়ীদের সারাদিনের পাশাপাশি রাত জেগেও প্রিন্টিংয়ের কাজ করতে হচ্ছে।

ব্রাজিল সমর্থক সাবেক ফুটবলার রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ফুটবল মানে ব্রাজিল, ব্রাজিল মানে ফুটবল।" এই কথাটা সবারই মানতে হবে। ব্রাজিলের খেলোয়াড়দের নৈপুণ্য দেখে মূলত আমি ব্রাজিল দল সাপোর্ট করি। বর্তমানে কেন্দুয়ার পরিবেশটা পুরোপুরি উৎসবমুখর। শহরজুড়ে হাজার হাজার মানুষ একসাথে ব্রাজিল দল নিয়ে উচ্ছ্বাস করেছে। সব খেলোয়াড়ই ভালো ফর্মে আছে। আমরা আশাবাদী, ব্রাজিল এবার চ্যাম্পিয়ন হবে।’

আর্জেন্টিনা সমর্থক আয়েশ উদ্দিন বলেন, ‘বিশ্বকাপ শুরুর প্রাক্কালে আমার প্রত্যাশা ২০২২ সালের বিশ্বকাপ জয়ের গৌরবগাঁথার পুনরাবৃত্তি ঘটবে ২০২৬ সালেও। আমার বিশ্বাস, লিওনেল মেসির নেতৃত্বে আবারও বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ ট্রফি উঠবে আর্জেন্টিনার হাতে।’

ফুটবল ভক্তদের এই উন্মাদনা নিয়ে কৌতুলী হয়েছে সাধারণ মানুষও। তারা বলছেন, খেলাধুলা ও সংস্কৃতিচর্চার মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য এবং ইতিবাচক বিনোদনের পরিবেশ গড়ে তোলাই এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। বর্ণাঢ্য শোডাউন, জমকালো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও কনসার্ট আরো নানা কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে জানান দুই দলের সমর্থকরা।

এ ব্যাপারে কেন্দুয়া উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক জোবায়ের ইমন বলেন, ফুটবল একটি ক্রেজ সৃষ্টিকারী খেলা। বাংলাদেশের ফুটবলে জনপ্রিয়তা রয়েছে ব্যাপক। সেই সঙ্গে দুই বিশ্ব ফেভারিট দল ব্রাজিল–আর্জেন্টিনার রেকর্ড ভক্ত রয়েছে এই দেশে। কেন্দুয়ার চিত্র আরো বৃহৎ। এই উন্মদনা অত্যন্ত সুখকর। এর মাধ্যমের যুবসমাজের মধ্যে সুস্থধারা তৈরি হয়। দুই দলের পাল্টাপাল্টি যে শোডাউনসহ অন্যান্য কর্মসূচি তাতে উপজেলাজুড়ে আনন্দমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

সব মিলিয়ে, মাঠে বল গড়ানোর আগেই দেশে শুরু হয়ে গেছে মাঠের বাইরের ফুটবল উন্মাদনা। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এই উন্মাদনা যেন শুধু খেলাই সীমাবদ্ধ থাকে এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশের মধ্য দিয়েই শেষ হয় বিশ্ব ফুটবলের এই শ্রেষ্ঠ আসর।

চতুর্থ দফায় দেশে স্বর্ণের দামে পতন, ভরিতে কমল কত?
  • ১১ জুন ২০২৬
৯ম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু নির্মাণে চুক্তি স্বাক্ষর
  • ১১ জুন ২০২৬
এবার তানভীরের আঘাত, বিপদ বাড়াল অস্ট্রেলিয়ার
  • ১১ জুন ২০২৬
স্থগিত হলো পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের নিয়োগ পরীক্ষা
  • ১১ জুন ২০২৬
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশেষ বৃত্তির চেক হস্তান্তর শুরু
  • ১১ জুন ২০২৬
রাজধানীতে চলন্ত মোটরসাইকেল আরোহীর মাথায় ইট ছুড়ে বাইক ছিনতাই…
  • ১১ জুন ২০২৬
×