পটুয়াখালীর গলাচিপা
টিডিসি সম্পাদিত © টিডিসি
গ্রামীণ জনপদের মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে নির্মাণ করা হয়েছিল কমিউনিটি ক্লিনিক। কিন্তু সম্প্রতি ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় সেখানে আর স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ভবনের দেয়ালজুড়ে বড় ফাটল, ছাদ থেকে খসে পড়ছে পলেস্তারা, কোথাও কোথাও বেরিয়ে এসেছে রড। ফলে দুর্ঘটনার আশঙ্কায় ভবনটি ছেড়ে পাশের সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে আশ্রয় নিয়েছে স্বাস্থ্য সহকারী। একটি ছোট কক্ষে চলছে চিকিৎসাসেবা। এতে একদিকে যেমন ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগীরা, অন্যদিকে সীমিত জায়গায় সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে স্বাস্থ্যকর্মীদের।
পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে গজালিয়া হাট কমিউনিটি ক্লিনিকে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, গজালিয়া বাজারসংলগ্ন এলাকায় থাকা কমিউনিটি ক্লিনিকের পুরোনো ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে আছে। ভবনটির চারপাশে আগাছা ও দেয়ালে শেওলা জমেছে। বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে বড় বড় ফাটল। দরজা-জানালারও বেহাল। ভবনের বিভিন্ন অংশে রড বেরিয়ে রয়েছে। ছাদ চুইয়ে ভেতরে পানি পড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন স্থান থেকে খসে পড়ছে পলেস্তারা। ২০০০ সালে নির্মিত ভবনটি বর্তমানে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় সেখান থেকে আসবাব, সরকারি ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এসব সামগ্রী পাশের সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি কক্ষে রাখা হয়েছে। বর্তমানে ওই ছোট কক্ষেই সীমিত পরিসরে দেওয়া হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা।
স্থানীয় লোকজন জানান, চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীদের ছোট একটি কক্ষে অপেক্ষা করতে হয়। একই কক্ষে ওষুধ, রেজিস্টার ও চিকিৎসাসামগ্রী রাখায় স্বাস্থ্যকর্মীদেরও স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে সমস্যা হচ্ছে। জায়গা সংকটের কারণে অনেক রোগীকে কক্ষের বাইরেও অপেক্ষা করতে হয়। এতে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম।
চিকিৎসাসেবা নিতে আসা মরিয়ম নামে এক নারী বলেন, ‘আমরা চিকিৎসা নিতে এসে আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ছোট কক্ষের সামনে বসে থাকতে হয়। জায়গা কম হওয়ায় ভেতরে বসা যায় না। এভাবে আর কত দিন কষ্ট করব। দ্রুত নতুন কমিউনিটি ক্লিনিক ভবন নির্মাণ করা হলে আমাদের দুর্ভোগ কমবে।’
আরও পড়ুন: অবসর সুবিধার টাকা পেতে শিক্ষকদের আর অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না: প্রধানমন্ত্রী
গজালিয়া ইউনিয়নের স্বাস্থ্য সহকারী মো. মামুন বলেন, ২০১৯ সাল থেকেই ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। একদিন বিকট শব্দ হয় পরে দেখা যায় ছাদে বড় ফাটল। এরপরে রোগী ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে পাশের আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি কক্ষে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হচ্ছে। এই ক্লিনিক থেকে গজালিয়া ও ডাকুয়া ইউনিয়নের প্রায় ৮ থেকে ৯ হাজার মানুষ স্বাস্থ্যসেবা নেন। নতুন ভবনের জন্য একাধিকবার আবেদন করা হলেও এখনো কোনো ব্যবস্থা হয়নি।
এ বিষয়ে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মেজবাউদ্দিন বলেন, ‘ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় বিকল্প স্থানে স্বাস্থ্যসেবা চালানো হচ্ছে। নতুন ভবনের জন্য স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে যোগাযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও জানানো হয়েছে। আমরা দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছি।’
স্থানীয় ব্যক্তিদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা কমিউনিটি ক্লিনিক ভবনটি দ্রুত অপসারণ করে সেখানে নতুন ভবন নির্মাণ করা হোক। একই সঙ্গে নিরাপদ ও স্বাভাবিক পরিবেশে এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।