টম ল্যাথাম © সংগৃহীত
তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচের সিরিজ খেলতে বাংলাদেশ সফরে এসেছে নিউজিল্যান্ড। তবে এই দলে নিয়মিত বেশ কয়েকজন তারকা ক্রিকেটার নেই। আইপিএল ও পিএসএলে ব্যস্ত রয়েছেন তারা। ফলে, তুলনামূলকভাবে দ্বিতীয় সারির দল নিয়েই বাংলাদেশে এসেছে কিউইরা। তবুও অভিজ্ঞদের অনুপস্থিতিকে সমস্যা নয়, বরং সুযোগ হিসেবেই দেখছেন নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক টম ল্যাথাম।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) মিরপুরে ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে টম ল্যাথাম বলেন, ‘কিছুটা অনভিজ্ঞ দল নিয়ে এখানে এসেছি। তবে, এর ফলে অনেকে ছেলে সুযোগ পাচ্ছে, যারা আগে হয়তো সেভাবে অত সুযোগ পায়নি। এখানে ভিন্ন কন্ডিশনে সবার সামনেই দারুণ সুযোগ। বাংলাদেশে খেলা, উপমহাদেশে খেলার অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করেই তারা সামনের দিনে এগিয়ে যাবে। এখান থেকে যত বেশি অভিজ্ঞতা নেওয়া যায়, চেষ্টা থাকবে ভিন্ন ভিন্ন ক্রিকেটারকে সুযোগ দিয়ে দেখার, এর ফলে সামনের দিনে নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেটে (ক্রিকেটারদের) ভালো গভীরতা তৈরি হবে।’
ল্যাথাম আরও বলেন, ‘আমরা এখানে সিরিজ জিততেই এসেছি। সবার মূল লক্ষ্য এটাই। এই পয়েন্টেই সবাই যেতে চাই। প্রতিটি ম্যাচেই আপনাকে শিখতে হবে যেন সিরিজের শেষ ভাগে গিয়ে নিজেদের ভালো সুযোগ দিতে পারি। আমি মনে করি, এখানে কিছুটা কম অভিজ্ঞ প্লেয়ার রয়েছে। তবে, বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলাটা তাদের জন্য ভালো সুযোগ হবে। আমার দায়িত্ব হচ্ছে সবার মাঝে এই কন্ডিশন সম্পর্কে অভিজ্ঞতা বিনিময় করা। সামনে যা আছে, সেই পরিস্থিতি বুঝে সেভাবেই আমাদের খেলতে হবে।’
এমন দল সামলানো কঠিন কিনা, এমন প্রশ্নে ল্যাথামের জবাব, ‘একদমই কঠিন না। এখানে নিউজিল্যান্ডকে প্রতিনিধিত্ব করার আরও একটি সুযোগ পেলাম। প্রতিটি সুযোগই দারুণ রোমাঞ্চকর। অনেকে বিশ্বের নানা প্রান্তে খেলছে। এভাবেই ক্রিকেট এখন আগাচ্ছে। অনেক লিগ হচ্ছে, সেগুলো আন্তর্জাতিক সিরিজের সঙ্গে ক্ল্যাশও করছে। ফলে আমরা ভিন্ন ভিন্ন প্লেয়ার খেলাতে চাচ্ছি, যেন তারা দায়িত্ব নিতে শেখে।’
তরুণদের কাছে কী প্রত্যাশা প্রশ্নের জবাবে অধিনায়ক বলেন, ‘আমরা চাই তারা যেন তাদের স্কিলটা কাজে লাগায়। অবশ্যই আমরা চাই ছেলেরা ঘরোয়া ক্রিকেটে নিউজিল্যান্ডে নিজ নিজ দলের হয়ে যেভাবে খেলেছে, এখানেও যেন সেভাবেই খেলে। যদি তারা তা করতে পারে, তাহলে নিজেদের সুযোগটা কাজে লাগাতে পারবে। সবাই নিউজিল্যান্ডের হয়ে কখনও না কখনও খেলেছে। ফলে তারা জানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কী জিনিস। হয়ত অনেক ম্যাচ খেলেনি। তবে এখানে বেশি বেশি ম্যাচ খেলে নিজেদের ঝালিয়ে নিতে পারবে, আগামী দিনের জন্য প্রস্তুত করতে পারবে।’
ল্যাথাম আরও বলেন, ‘এরকমটা আগেও হয়েছে। অনেকে আইপিএলে খেলার কারণে সিরিজ মিস করেছে। এবার তো পিএসএলও একসাথে হচ্ছে। এর ফলে অন্যদের সামনে সুযোগ আসছে। এটা নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেটের জন্য ভালো ব্যাপার। স্কোয়াড বড় করা যাচ্ছে। বেশি প্লেয়ার পাওয়া যাচ্ছে।’
উল্লেখ্য, শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সকাল ১১টায় মাঠে গড়াচ্ছে বাংলাদেশ এবং নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচ। একই মাঠে আগামী ২০ এপ্রিল সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেও একই সময়ে গড়াবে। পরে চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে হবে গড়াবে সিরিজের শেষ ও তৃতীয় ওয়ানডে ম্যাচটি। এরপর তিন টি-টোয়েন্টির প্রথম দুটি টি-টোয়েন্টির ভেন্যুও চট্টগ্রাম। তবে তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি হোম অব ক্রিকেটেই গড়াবে। এই সংস্করণের সবকটি ম্যাচই দুপুর ২টা থেকে গড়াবে।