বাড়তি ভাড়ায় নাজেহাল সাধারণ মানুষ © টিডিসি ফটো
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরকার চার দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে। এই ছুটিকে ঘিরে শহর থেকে গ্রামের পথে মানুষের ঢল নেমেছে। বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন ও লঞ্চঘাট সবখানেই ঘরমুখো মানুষের ভিড়। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয় যেন উৎসবের আমেজ, কিন্তু এই যাত্রাপথেই অপেক্ষা করছে চরম ভোগান্তি।
নাগরিকরা নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের জন্য বাড়ি ফিরছেন। কিন্তু এই ফেরা সহজ হচ্ছে না। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কারণে অনেক যাত্রী পড়েছেন চরম বিপাকে।
সাধারণ সময়ে জামালপুর থেকে ইসলামপুরে সিএনজির ভাড়া যেখানে ৬০ টাকা, সেখানে নির্বাচন উপলক্ষে নেওয়া হচ্ছে ১৫০ টাকা পর্যন্ত। একইভাবে নারায়ণগঞ্জ থেকে জামালপুরের স্বাভাবিক ভাড়া ৫০০ টাকা হলেও বর্তমানে যাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে প্রায় ১২০০ টাকা।
এমনই এক ভুক্তভোগী ইসলামপুরের বাসিন্দা যিনি নারায়ণগঞ্জে গার্মেন্টস কর্মী হিসেবে কাজ করেন। ছুটি পেয়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ভোট দিতে বাড়ি ফিরতে গিয়ে পড়েন বিপাকে। তিনজনের জন্য তাকে ৩৬০০ টাকা খরচ করে টিকিট কিনতে হয়েছে।
জামালপুর পৌঁছানোর পরেও দুর্ভোগ শেষ হয়নি। ইসলামপুর যাওয়ার পথে সিএনজি চালক তার কাছে অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করেন। বাধ্য হয়ে বাড়তি টাকা দিয়েই গন্তব্যে যেতে হয় তাকে।
মান্নান শেখ নামে একজন বলেন, ভোট দিতে এসে মনে হচ্ছে বড় ভুল করেছি। ঈদের সময়ও এত ভাড়া দিতে হয় না। আমাদের মতো সাধারণ মানুষের ওপর এমন জুলুম কেন? প্রশাসন কি এসব দেখে না? ফেরার সময়ও আবার একইভাবে অতিরিক্ত ভাড়া দিতে হবে। আগে বুঝতে পারলে হয়তো আসতামই না।
তার মতো আরও অনেক যাত্রী একই অভিযোগ তুলেছেন। তাদের মতে, নির্বাচনের সময়টাকে সুযোগ হিসেবে কাজে লাগিয়ে এক শ্রেণির পরিবহন শ্রমিক ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায় করছে।
এ বিষয়ে জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে আমরা এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ পাইনি। তবে অভিযোগ পেলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে সিএনজি মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মনু বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার কোনো নির্দেশনা নেই। কেউ যদি ব্যক্তিগতভাবে এমন কাজ করে থাকে, তাহলে প্রমাণ পেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গণতন্ত্রের উৎসবে অংশ নিতে মানুষ যখন আনন্দ নিয়ে বাড়ি ফেরে, তখন এমন ভোগান্তি তাদের মনে গভীর হতাশা তৈরি করছে। প্রশ্ন উঠছে ভোট দেওয়ার মতো নাগরিক অধিকার প্রয়োগ করতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে কেন এমন মূল্য দিতে হবে?