কোলাজ ছবি © টিডিসি ফটো
সকল অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আগামী বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারী) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। জুলাই গণ অভ্যুত্থানের পর নির্বাচন ছিলো গণমানুষের সব থেকে আলোচনার বিষয়। নির্বাচন ঘিরে যেন সারাদেশে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যেও একধরনের আমেজ তৈরি হয়েছে। নির্বাচনকালীন ছুটিতে সকল শিক্ষার্থী ভোট দিতে ফিরে গেছেন নিজ নিজ এলাকায়। নির্বাচন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সচেতন কিছু শিক্ষার্থীরা 'দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস'কে জানিয়েছেন নির্বাচন নিয়ে তাদের প্রত্যাশা।
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী রওনক জাহান ইশা বলেন, 'বাংলাদেশে নির্বাচন অন্যান্য যেকোনো উৎসবের থেকে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে অংশগ্রহণের একটি সুযোগ করে দেয় নির্বাচন।নির্বাচন শুধু ভোট দেওয়ার একটি প্রক্রিয়া নয়, এটি নাগরিক অধিকার প্রয়োগের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। বিগত সময়ে নানা দুর্নীতি ও অনিয়মের ফলে অনেকেই ভোট দিতে পারেনি। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সব দলের অংশগ্রহণে এইবার একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন আমরা আশা করি।সুষ্ঠু নির্বাচন হলে জনগণের আস্থা রাষ্ট্রের ওপর আরও দৃঢ় হয়। যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দিয়ে আমরা দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন, ভালো-মন্দ নির্ধারণের সুযোগ পাবো। ভোটের মাধ্যমে আমরা আমাদের মতামত ও প্রত্যাশা প্রকাশ করতে পারি। তাই সচেতনভাবে ভোট দেওয়া প্রত্যেক নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব। প্রশাসনের উচিত একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সচেষ্ট প্রক্রিয়া গ্রহণ করা।'
জেন্ডার এন্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ১৩ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মিজানুর রহমান বলেন, 'আমি একজন শিক্ষার্থী হিসেবে মনে করি নির্বাচন একটি দেশের গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি। আমি চাই নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হোক। আমার মতে, জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের ক্ষেত্রে সততা ও যোগ্যতা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাওয়া উচিত। একজন দূরদর্শী নেতা দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। আমি এমন একটি নির্বাচন প্রত্যাশা করি যেখানে সবাই ভয়মুক্তভাবে ভোট দিতে পারে। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হওয়া জরুরি বলে আমি মনে করি। আমি রাজনৈতিক সহিংসতা ও বিভাজনমুক্ত পরিবেশে নির্বাচন দেখতে চাই। দেশের উন্নয়ন, শিক্ষা ও কর্মসংস্থান নিয়ে কাজ করবে এমন নেতৃত্ব আমাদের প্রয়োজন। আমি বিশ্বাস করি সঠিক নির্বাচন দেশের স্থিতিশীলতা ও অগ্রগতি নিশ্চিত করে। পাশাপাশি তরুণদের রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে আমি মনে করি। তরুণ সমাজ সচেতন হলে ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী ও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব গড়ে উঠবে।একজন সচেতন শিক্ষার্থী হিসেবে আমি সুষ্ঠু নির্বাচনের পক্ষে মত প্রকাশ করি।'
আরেক মেধাবী শিক্ষার্থী রুমিনা খাতুন বলেন, 'আমার মনে হয় এবারের নির্বাচন আমাদের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ।কেননা সব দল নির্বিঘ্নে প্রচারণা, সমাবেশ করছে, রাজনীতির যে সৌন্দর্য সেটা প্রকাশ পেয়েছে। নির্বাচনকে ঘিরে মানুষের মধ্যে নানা ধরনের আলোচনা ও প্রত্যাশা দেখা গেছে। ভোটারদের অংশগ্রহণ ও আস্থার বিষয়টি এখানে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচন শুধু একটি আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া নয়, এটি মানুষের মত প্রকাশের একটি মাধ্যম।নির্বাচন সঠিকভাবে না হলে গণতন্ত্র দুর্বল হয়ে পড়ে এবং মানুষের মত প্রকাশের অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও আইনের শাসন নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। প্রকৃত অর্থে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য নিয়মিত ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অপরিহার্য। এই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে নির্বাচন ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক করার সুযোগ রয়েছে।'
সাবেক শিক্ষার্থী বিধান চন্দ্র রয় বলেন, 'দেশের একজন নাগরিক হিসেবে আমি চাই একটা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। যে দলই ক্ষমতায় আসুক না কেন তারা যেন দেশের অর্থনীতি, শিক্ষা, চিকিৎসা ও কৃষি সহ গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর দিকে বেশি নজর দেয়। এছাড়া দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও আইনের শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত করতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। একটি অসম্প্রদায়িক ও নিরপেক্ষ রাষ্ট্র তথা সকল ধর্মাবলম্বীদের সুষ্ঠুভাবে বাঁচার এবং সংস্কৃতি পালনে কোনরকম বাধার সম্মুখীন যেন না হতে হয়। দেশের আধুনিকায়ন ঘটাতে হবে এবং একটি স্মার্ট জাতি হিসেবে বিশ্বে মাথা উঁচু করে বাঁচার সক্ষমতা অর্জনে কাজ করতে হবে। সেইসাথে সবাইকে বলতে চাই, সবাই ভোট দিন এবং একজন যোগ্য সরকার ব্যবস্থা গঠনে সহায়তা করুন।'