বেরোবি ভিসির বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ শিক্ষার্থীদের

২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৪৯ PM
বেরোবি ভিসির বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ এনে শিক্ষার্থীদের সংবাদ সম্মেলন

বেরোবি ভিসির বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ এনে শিক্ষার্থীদের সংবাদ সম্মেলন © টিডিসি ছবি

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলীর বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়মের  অভিযোগ এনেছেন শিক্ষার্থীরা। রবিবার (২৫ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীবৃন্দের ব্যানারে ছাত্রশিবির এবং দুপুর ১২টায় সকল শিক্ষার্থীবৃন্দের ব্যানারে ছাত্রদল সংবাদ সম্মেলন করে। সংবাদ সম্মেলনে শিবির উপাচার্যের বিরুদ্ধে এবং ছাত্রদল রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরে।

সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রশিবির সমর্থিত শিক্ষার্থীরা বলেন, বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে সময় ক্ষেপণ করার মাধ্যমে উপাচার্যের মদদে শিক্ষার্থীদের বহুল প্রত্যাশিত ছাত্র সংসদ বানচাল হয়ে গেছে। উপাচার্য শিক্ষার্থীদের সবসময় আশার বাণী ছড়ালেও ছাত্র সংসদ বানচালের মাধ্যমে তিনি মূলত শিক্ষার্থীদের সাথে প্রতারণা করেছেন। আমরা জানতে পেরেছি, গুচ্ছ, ঢাবি, রাবি, কৃষিগুচ্ছসহ ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পদ ও অর্থ  ব্যবহার করা হলেও ভর্তি পরীক্ষাগুলো হতে প্রাপ্ত অর্থের শুধু গুচ্ছ পরীক্ষার নামকাওয়াস্তে ক্ষুদ্র একটা অংশ জমা করা ছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিলে কোন অর্থ জমা না করে সম্পূর্ণ অর্থ উপাচার্য তার আশেপাশের লোকজন নিয়ে ভাগাভাগি করে নিয়ে নেন।

তারা আরও বলেন, উপাচার্য  জুলাই আন্দোলনে হামলায় জড়িত কর্মকর্তা- কর্মচারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থ নেননি। এছাড়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে রেজিস্ট্রার, অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার (প্রশাসন শাখা) অতিরিক্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, অতিরিক্ত পরিচালক (সেন্ট্রাল লাইব্রেরি অ্যান্ড ইনফরমেশন সেন্টার), উপ-পরিচালক (অর্থ ও হিসাব), সহকারী পরিচালকসহ ৭টি পদে একটি নির্দিষ্ট দলের বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭ জন কর্মকর্তাকে নিয়োগ দিতে মরিয়া হয়ে গেছেন বলে উপাচার্য বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন তারা। সেই কর্মকর্তাদের  অনেকের অনেকের বিরুদ্ধে দুদকের মামলাসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে বলেও তারা অভিযোগ করেছেন।

‎অন্যদিকে উপাচার্যের পক্ষে অবস্থান নিয়ে পৃথক সংবাদ সম্মেলন করেছে বেরোবি শাখা ছাত্রদল। সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন, রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. হারুন অর রশিদ অবৈধভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। অবৈধ রেজিস্ট্রার ক্যাম্পাসে অরাজকতা সৃষ্টি করছেন এবং উপাচার্যের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। ছাত্র সংসদ নির্বাচনে সঠিক ভোটার তালিকা দিতে অসহযোগিতা করেছেন।

‎তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দায়ের করা মামলায় সহযোগিতার পরিবর্তে রেজিস্ট্রার অসহযোগিতা করেছেন। যার ফলে আসামিরা অনেকে এখনো গ্রেপ্তার হননি। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন তদন্ত কমিটিতে রেজিস্ট্রার মনমত তদন্ত রিপোর্ট দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারসাম্য নষ্ট করেন বলে অভিযোগ করেন।

‎অভিযোগের ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. হারুন অর রশিদ বলেন, ব্রাকসু নির্বাচনের ভোটার তালিকা রেজিস্টার দপ্তর দেয় না। তারা দেয় শিক্ষার্থীর তালিকা। মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, সকল বিষয় একটা তদন্ত কমিটির রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে করা হয়েছে। আমি শুধু সেখানে বাদী হিসেবে ছিলাম। কাকে মামলার আসামি করা হবে এর দায় রেজিস্টারের না। তদন্ত কমিটির বিষয়ে বলেন, তদন্ত কমিটিতে যাদের সদস্য করা হয় তারাই প্রতিবেদন তৈরি করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সিন্ডিকেট সদস্যরা দায়িত্বে থাকেন। এতে রেজিস্টারের প্রভাব সৃষ্টি করার কোন প্রশ্নই আসে না।

‎বেরোবি উপাচার্য ড. শওকাত আলী নিয়োগের বিষয়ে বলেন, নিয়োগের নিয়ম দেওয়ার মালিক আমরা না, ইউজিসি। বিশ্ববিদ্যালয় এটা করতে পারে না। ব্রাকসু প্রসঙ্গে বলেন, কেউ বলতে পারবে না উপাচার্য ব্রাকসু নির্বাচন চাননি। নিয়ম অনুযায়ী উপাচার্য প্রধান নির্বাচন কমিশনার হতে পারেন না। আমি শহীদ আবু সাঈদ গেইটের বরাদ্দসহ বেশি বরাদ্দ এনেছি। তারা তো সেগুলো বলে না।

ভর্তি কার্যক্রম শুরুর তারিখ জানাল রুয়েট
  • ২৫ জানুয়ারি ২০২৬
বিএনপি ছেড়ে জামায়াতে যোগ দিলেন অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী
  • ২৫ জানুয়ারি ২০২৬
ঢাবিতে ‘তারুণ্যের ভাবনায় নির্বাচনী ইশতেহার’ শীর্ষক ডায়ালগ অ…
  • ২৫ জানুয়ারি ২০২৬
ঢাকা মেডিকেলের ভবন থেকে লাফ দিয়ে তরুণীর ‘আত্মহত্যা’
  • ২৫ জানুয়ারি ২০২৬
বিএনপি প্রার্থীর গাড়ির সামনে দাঁড়িপাল্লার মিছিল, জামায়াত নে…
  • ২৫ জানুয়ারি ২০২৬
দ্বিগুণ বেতনের নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নে যত চ্যালেঞ্জ
  • ২৫ জানুয়ারি ২০২৬